editor
প্রকাশিত: 11:22 AM, September 16, 2026
সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোটি কোটি টাকার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চরম অস্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো ভক্তের দেওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার এবং গবাদিপশুর (গরু-ছাগল) সিংহভাগই চলে যাচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী খাদেম পরিবারের পকেটে। সামগ্রিক পরিচালনা ও উন্নয়নকাজে দানের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ ব্যয় হলেও ‘উত্তরাধিকার সূত্রে ভাগ-বাটোয়ারা’ প্রথার কারণে দীর্ঘদিনের এই আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা গেছে, শাহপরান মাজারে প্রতিদিন ভক্তরা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও গবাদিপশু দান করেন। তবে এই আয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাব বা কেন্দ্রীয় তহবিল নেই। তথাকথিত ‘বারিদার’ বা পালাক্রমিক প্রথার নামে নির্দিষ্ট কিছু পরিবার নির্দিষ্ট মেয়াদে মাজারের দান বাক্স ও ডেগের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। সেই নির্দিষ্ট সময়ে সংগৃহীত অর্থ কোনো অডিট ছাড়াই সরাসরি খাদেমদের পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাজারের এক নিয়মিত ভক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে মনের আকুতি নিয়ে মাজারে টাকা দেয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও গরিব মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু এই টাকা দিয়ে খাদেম পরিবারগুলো সিলেটে অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ জানতেও পারে না বছরে কত কোটি টাকা এখানে জমা হচ্ছে।
এর আগে সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের পাশাপাশি শাহপরান মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রশাসন থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল মাজারের টাকা সরকার নেবে না, বরং তা আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় হবে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহজালাল মাজারের প্রাচীন ডেগগুলো সিলগালা করে নতুন ব্যাংক হিসাব খুলে টাকা গণনা এবং তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু শাহপরান মাজারে প্রথাগত বাধা, প্রভাবশালী মহলের বিরোধিতা এবং পরবর্তীতে সাবেক ডিসির বদলি ও প্রশাসনিক নমনীয়তার কারণে সেই অভিযান আলোর মুখ দেখেনি। ফলে শাহজালাল মাজার সংস্কারের আলো দেখলেও শাহপরান মাজারের আয়ের হিসাব অন্ধকারের অন্তরালেই থেকে গেছে।
মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, বংশানুক্রমিকভাবে মাজারের দেখাশোনা করা এবং দানের অংশ পাওয়া তাদের কয়েকশ বছরের প্রথা বা ‘হক’। এসব অভিযোগের বিষয়ে খাদেম সাদিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাজারের দানের বেশিরভাগ টাকা খাদেমরা ভোগ করেনÑবিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়।” তবে নিজেদের ভাগের কথা স্বীকার করে তিনি অকপটে বলেন, “আমরা খাদেম, আমাদের তো পেট রয়েছে! তাই আমরা একটা অংশ নেই। মাজারকে ওয়াকফ এস্টেটের আওতাধীন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে এর জবাবদিহি রয়েছে। তবে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে থাকা সত্ত্বেও দান বাক্সের টাকা গণনায় সরকারি প্রতিনিধি থাকে কি না কিংবা সুনির্দিষ্ট স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়Ñএ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং প্রশ্নটি এড়িয়ে যান।
শাহপরান মাজারের আর্থিক তদারকির বিষয়ে প্রশাসনের বর্তমান অবস্থান জানতে চাওয়া হলে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, শাহপরান মাজার নিয়ে (প্রশাসনের) নতুন কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির কার্যক্রম নিয়েই প্রশাসন এখন ব্যস্ত রয়েছে।
প্রশাসনের এই নমনীয়তা ও দীর্ঘসূত্রতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের মতে, শাহপরান মাজার কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের একক সম্পত্তি হতে পারে না। একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থানের আমানত কীভাবে অডিট ও কর ছাড়াই ব্যক্তিস্বার্থে ভোগ করা হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা দ্রুত একটি স্বাধীন প্রশাসনিক ও হিসাব কমিটি গঠনের দাবি জানান। অন্যথায়, ধর্মীয় অনুভূতির সুযোগ নিয়ে এই বিশাল আর্থিক অস্বচ্ছতা ও লুটপাট থামানো সম্ভব হবে না।
আসন্ন উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. রেদওয়ান
ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ‘সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্স
আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও এমআইএস (MIS)-এর কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সিলেট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে দক্ষিণ
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা ও রাজপথের অভিজ্ঞতার মূল্যায়নে সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা কামরুল হাসান
সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন ভাগারপাড় গ্রামটি বাহ্যিক শান্ত মনে হলেও গত দুই দশক ধরে এক অন্ধকার অপরাধ সাম্রাজ্যের জালে বন্দি। অনৈতিক
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় জিয়া মঞ্চের উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
অসহায় ও দরিদ্রদের সহায়তায় মাসিক ভাতা চালু করেছে ‘আবদুল জব্বার জলিল কল্যাণ ট্রাস্ট’। শনিবার দুপুরে নগরের জেলরোডস্থ আনন্দ টাওয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে
অক্টোবর সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির উদ্যোগে নগরীর কুশিঘাট এলাকার ‘ইমুর ইশকুল’-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী ও