editor

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২০

আমীনুর রশিদ চৌধুরী: ভুলিনি, ভুলবো না কোনোদিন : অজয় পাল

আমীনুর রশিদ চৌধুরী: ভুলিনি, ভুলবো না কোনোদিন : অজয় পাল
অনেক সময় নিজেকে নিজেই প্রশ্ন করি , এই যে আজ আমি সাংবাদিক বলে পরিচয় দিয়ে থাকি , একবারও কি ভাবার অবকাশ হয় , কি ভাবে এর ভিত্তিটি তৈরি হয়েছিল ? সত্যি বলতে কি , আমাদের অনেকের মাঝেই অতীতকে টেনে এনে বর্তমানের মুখোমুখি হবার অভ্যাসটা মোটেই নেই । আমি কিন্তু বরাবরই অতীতের আয়নায় বর্তমানের ছবি দেখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করি । স্মৃতি মন্থন বরাবরই আমার একটি পুরনো অভ্যাস ।
অতীতের স্মৃতিচারণ যদি করতেই হয় , তাহলে বলতেই হবে , সত্তর সালের ডিসেম্বর মাসে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রেরিত আমার প্রথম রিপোর্টটি ছাপা হয় আমীনুর রশীদ চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক যুগভেরী পত্রিকায় । দুই সপ্তাহ পর সেখান থেকে ফিরে এসে একাত্তরের ফেব্রুয়ারি মাসে জীবনে প্রথম যুগভেরী কার্যালয়ে পা রাখি আমার রিপোর্টটি ছাপা হয়েছে কি না খোঁজ নেয়ার জন্য । সেখানেই পরিচয় ঘটে পত্রিকায় কর্মরত বিয়ানীবাজারের ছোটদেশ গ্রামের স্বনামধন্য সাংবাদিক আব্দুল বাসিত এর সাথে । তিনি ফাইল বের করে দেখালেন , আমার লেখাটি বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয়েছে । বাসিত সাহেবের সাথে স্বল্প আলাপে আমার বেশ হৃদ্যতা গড়ে উঠে । তখন যুগভেরী পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন অধ্যাপক আব্দুল মতিন । সেদিন অফিসে তিনি ছিলেন না । বেশ কিছুক্ষণ পরে আমিও চলে আসি । স্পষ্ট মনে আছে , বাসিত ভাই সেদিন আমাকে রিক্সা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে আসেন । দীর্ঘদিন তাঁর সাথে আর যোগাযোগ নেই আমার ।
একাওরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে
ফের একদিন বিকেলে আবদুল বাসিতের সাথে নগরীর জিন্দাবাজারে দেখা হয়ে যায় । দেখামাত্র তিনি আমাকে যুগভেরী পত্রিকায় কাজ করার প্রস্তাব দিয়ে বসেন । আমি ভেবে দেখবো বলতেই তিনি অনেকটা জোর করেই আমাকে কাকলী রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান এবং তাৎক্ষণিক একটি চাকরির দরখাস্ত লিখিয়ে নেন । আমি ভাবতেই পারিনি , ৭/৮ দিনের মাথায় খোদ সম্পাদক আমীনুর রশীদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত একখানা চিঠি এসে পৌঁছাবে আমার ঠিকানায় । চিঠিতে সরাসরি সাক্ষাতের নির্দেশনা । দুদিন পর যথারীতি দেখা করলাম । তিনি আমার হাতের লেখার প্রশংসা করলেন এবং চাকরীও নিশ্চিত করে দিলেন । চাকরি হলো প্রুফ রিডার হিসেবে । ইতোমধ্যে চাকরি ছেড়ে দেন অধ্যাপক আব্দুল মতিন । তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন আব্দুল বাসিত । কয়েক মাস আমরা একসাথে কাজ করছি । এরই মাঝে একদিন বাসিত ভাইও হুট করে যুগভেরী ছেড়ে দিলেন । মহাবিপদে পড়লাম আমি । কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না । এরমধ্যে একটি ঘটনায় সম্পাদক সাহেব আমার উপর বেশ চটে আছেন । প্রুফ রিডার হিসেবে আমার চোখ গলিয়ে পত্রিকায়
এমএজি ওসমানীর পরিবর্তে ছাপা হয়ে যায় এল এম জি ওসমানী । কি আর করা, তারপরও আমার অসহায়ত্ব নিয়েই নতুন পরিস্থিতি কি ভাবে সামাল দিতে হবে তা আলোচনা করতে তাঁর মুখোমুখি হই । আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি আমাকে নিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসলেন । বললেন , তুমিই চালিয়ে যাও —–আই উইল বিল্ড ইউ । তাঁর এই সাহসী উচ্চারণ আমাকে প্রত্যয়ী করে তুলে । যুগভেরী হয়ে যায় আমার সাংবাদিকতার প্রথম ঠিকানা ,আর আমীনুর রশীদ চৌধুরী প্রধম সম্পাদক ।
দুই আড়াই বছরের বেশি সেখানে কাজ করার সৌভাগ্য আমার হয়নি নানা যৌক্তিক কারণে । তবে এই সময়টুকুতেই তাঁর সান্নিধ্য আমাকে আপ্লুত করেছে বারবার। কেবল সাংবাদিক জীবনে সাহসী হবার দীক্ষাই দেয়নি তাঁর সান্নিধ্য , দিয়েছে
সংস্কৃতিমনস্ক ক্যারিয়ার গঠনেরও দীক্ষা । এই কাগজে কর্মরত অবস্থায় শেরপুর ফেরী ঘাটে দুইবার বাস দুর্ঘটনায় বেশ কজন নিহত হন । সরেজমিন রিপোর্ট করার জন্য তিনি আমাকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান । সবসময়ই তিনি সাথে নিয়ে যেতেন রোলিফ্লাক্স ক্যামেরাটি । যাত্রাকালীন সময়ে সরেজমিন রিপোর্ট বিষয়ে আমার সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন তিনি । আমার স্পষ্ট মনে আছে ,একদিন বৃষ্টি মুখর সকালে অফিসের গাড়ি নিয়ে প্রেস ম্যানেজার রঞ্জিতবাবু আমার বাসায় হাজির । সাথে সেই ক্যামেরাটি । ছাতক যেতে হবে সম্পাদকের নির্দেশ । কাগজ কল প্রকল্পের ছাদ ধ্বসে নাকি বহু লোক হতাহত । আর কি করা ,
ছুটলাম রনজিৎ বাবুর সাথে । গিয়ে দেখি , তেমন কিছুই নয় , একটি স্থাপনার সানশ্যাডের প্লাস্টার ধসে একজন ভিক্ষুক সামান্য আহত । কে একজন টেলিফোনে ভুল ম্যাসেজ পাঠায় সম্পাদক সাহেবের কাছে । তরপরও সংবাদ সংগ্রহের ব্যাপারে তিনি কতটুকু আন্তরিক ছিলেন এটা তারই একটা প্রমাণ । তিনি একটি বিদেশী সংবাদ সংস্থায়ও দীর্ঘদিন কাজ করেন । সম্ভবত পিটিআই’ র সিলেট প্রতিনিধি ছিলেন । আমি এই কাগজে যোগদানের অব্যবহিত পরেই শিশু- কিশোর উপযোগী একটি পাতা চালু করেছিলাম , যার নাম ছিলো ” শাপলার মেলা” । পরিচালক ” মিতা ভাই ” র দায়িত্ব আমি নিজেই পালন করছিলাম । আমার স্পষ্ট মনে আছে , এই পাতার লেখিয়েদের প্রথম লেখা পাঠের আসরকে স্বাগত জানিয়ে সম্পাদক সাহেব একখানা লিখিত শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছিলেন । আসরে সেটা পাঠ করেছিলেন প্রয়াত কবি মাহমুদ হক ।
অনৈতিক কার্যকলাপ তিনি একদম পছন্দ করতেন না । একবার সিলেটের একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের ডেকেছিলেন কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য । নিজের কামরায় বসে ওই কর্মকর্তাটি তখন ধূমপান করছিলেন । সম্পাদক সাহেব এই অনৈতিক কর্মের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তার কার্যালয়ে ছেড়ে আসেন ।
সিলেট প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম প্রধান পুরুষ ছিলেন তিনি । আমরা প্রেসক্লাবের বহু সভা করেছি তার পৌরহিত্যে । সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকদের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠুক , এ প্রশ্নে তিনি ছিলেন খুবই আন্তরিক ।
তিনি কতটা ন্যায়নিষ্ঠ ও নীতিপরায়ণ ছিলেন তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি । সিলেট বেতারে স্থানীয় সংবাদ পাঠকদের অডিশন হবে । সেখানে আমিও এপ্লিকেন্ট ছিলাম । আমি জানতাম না , বিচারক বোর্ডের অন্যতম ছিলেন আমীনুর রশীদ চৌধুরী । আমার নাম ঘোষিত হতেই সম্পাদক সাহেব জাজমেন্টের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান । তার যুক্তি , অজয় পাল যেখানে আমার পত্রিকায় কর্মরত, সেখানে আমার থাকাটা ঠিক হবে না । সম্পাদক সাহেব নিজেই এই তথ্যটি আমাকে জানান এবং বলেন , এরপরও তুমি সর্বোচ্চ মার্ক পেয়েছো ।
তিনি কতটুকু সাহসী ছিলেন , এবার তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি । তিনি তখন শিলং সফরে । ৭৩সালের ঘটনা , দিন তারিখ ঠিক মনে নেই । সিলেটে সেনাবাহিনীর একটি অংশ কোনো অজুহাত ছাড়াই শহরে নির্বিচারে গণপিটুনি শুরু করে ।এমনকি সম্পাদক সাহেবের বাসায় ঢুকে একজন প্রবাসীকে প্রহার এবং তার মাথার চুল কেটে দেয় । খবর পেয়ে একদিন পরেই সিলেট ফিরে আসেন রাগে-ক্ষোভে অগ্নিশর্মা আমীনুর রশীদ চৌধুরী । নির্দেশ করলেন , কড়া ভাষায় ঘটনার সত্যনিষ্ঠ রিপোর্ট করার জন্য । তিনি শিরোনাম করলেন : সিলেটের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর বৃহত্তম গণপিটুনি । প্রতিবেদনের সাথে প্রবাসীর দুটি ছবি যুক্ত হলো । ক্যাপশন ছিল: চুল কাটার আগে ও পরে । সেদিনের সমুদয় পত্রিকা যুগভেরীর ম্যানজার প্রয়াত জামশেদ আলীকে সাথে নিয়ে সম্পাদক সাহেব নিজে গাড়ী দিয়ে সকল হকারদের মধ্যে বিতরণ করেন । কারণ , তারা সেনাবাহিনীর আকস্মিক অভিযানের ভয়ে এদিনের পত্রিকা বিক্রি করার সাহস পাচ্ছিলো না ।
প্রিয় সম্পাদক সাহেবের বাসভবনের পেছনে ছিল একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরী । সেখানেও আমার অবাধ যাতায়াত ছিল । সম্পাদক সাহেবের মুখে শুনেছি , এই বাসভবনে পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রচর্চার সোনালী দিনগুলোর গল্প । তিনি ছিলেন একজন স্বনামখ্যাত গীতিকারও । তার বহু গান সুর করেছেন প্রয়াত সুর সাগর প্রানেশ দাস । এবিষয়ে কয়েক দিন তাঁর সাথে আমার সংক্ষিপ্ত কথাবার্তাও হয়েছে । আমার লেখা দুই চারটি গানের কথা পড়ে শোনানোর সৌভাগ্যও হয়েছিল ।
বিশেষ এক বাস্তবতায় একদিন এই যুগভেরী ছেড়ে এলেও আমার জীবনের প্রথম সম্পাদক আমীনুর রশীদ চৌধুরীকে কখনো ভুলতে পারিনি , এখনো পারি না । তার আশ্রয়েই সাংবাদিক হিসেবে আমার বেড়ে ওঠা । সিলেট বাসীর পক্ষ থেকে তাকে প্রদত্ত নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির সাথেও আমি সম্পৃক্ত ছিলাম । উপস্থাপকদের মধ্যে একজন ছিলাম আমিও ।
সম্ভবত ‘৮৫ সালে তাঁর সাথে আমার শেষ দেখা লন্ডনের একটি হাসপাতালে । তাঁর সেই সময়কার দুর্বল মলিন মুখখানা এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে উঠে । আমি তখন স্মৃতি বিহ্বল হয়ে পড়ি । মনটা মোচড় দিয়ে ওঠে ।
ওপারেও ভালো থাকুন আমার প্রথম ও প্রিয় সম্পাদক আমীনুর রশীদ চৌধুরী , ভালো থাকুন অনন্তকাল ।
আমীনূর রশীদ চৌধুরী

Sharing is caring!


সর্বশেষ সংবাদ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর শোক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর শোক

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ড. মোঃ এনামুল হক চৌধুরী’র মাতা ফাতেমা রওশন আরা চৌধুরী বার্ধক্যজনিত কারণে আজ ইন্তেকাল করেছেন।

পল্লীবন্ধু¡ এরশাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে  টিলাগড়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা

পল্লীবন্ধু¡ এরশাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে টিলাগড়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু আলহাজ্ব হোসাইন মুহম্মদ এরশাদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৪ জুলাই)

ড. এনামুল হক চৌধুরীর মাতৃবিয়োগে মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক পংকীর শোক

ড. এনামুল হক চৌধুরীর মাতৃবিয়োগে মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক পংকীর শোক

বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ডক্টর এনামুল হক চৌধুরীর মমতাময়ী মায়ের সোমবার সকাল ৯টা ৫৫

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত

মহান স্বাধীনতাকে কটাক্ষ, একাত্তরের ঘৃণিত গণহত্যাকারী রাজাকারদের পক্ষে সাফাই এবং আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে

এপিএ কার্যকরে কাজ করতে হবে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

এপিএ কার্যকরে কাজ করতে হবে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে (এপিএ) আগামী বছরের জন্য কর্মপরিকল্পনা থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাণিজ্য সম্প্রসারণে

ইউরো শেষ হতেই জার্মান তারকার অবসর ঘোষণা

ইউরো শেষ হতেই জার্মান তারকার অবসর ঘোষণা

স্বাগতিক বিবেচনায় এবারের ইউরোতে এমনিতেই কিছুটা এগিয়ে ছিল র্জামানি, তার ওপর তাদের পারফরম্যান্সও ছিল ঠিক ফেবারিটের মতোই। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে

নারীভক্তের কাণ্ড দেখে অবাক জায়েদ খান

নারীভক্তের কাণ্ড দেখে অবাক জায়েদ খান

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত অভিনেতা জায়েদ খান। নিজের ক্যারিয়ারে অভিনয়ের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি আলোচনায় থাকেন তিনি। বর্তমানে তিনি দেশের

গুজরাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নি হ ত ৬ 

গুজরাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নি হ ত ৬ 

সুজন চক্রবর্তী, আসাম (ভারত) প্রতিনিধি :: সোমবার (১৫ জুলাই) ভোরবেলায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা ভারতের গুজরাটে। যাত্রীবাহী বাসের পিছনে সজোরে ধাক্কা