editor
প্রকাশিত: 10:14 AM, September 4, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক::
সিলেট সদর উপজেলার ফয়জুল হক বতুশা। অল্পদিনেই হয়েছেন গাড়ি-বাড়িসহ বেশ কয়েক কোটি টাকার মালিক। তৈরি করেছেননিজস্ব নেটওয়ার্ক। তার বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে এলাকারমানুষ অতীষ্ঠ। মসজিদের অর্থ আত্মসাৎ থেকে শুরু করে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে একাধিকমামলাও হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক ও র্যাব-পুলিশের কাছেও তার বিরুদ্ধে অনেকে অভিযোগ দিয়েছেন। বতুশার রাতারাতি সম্পদশালী হয়ে ওঠার পিছনেও রয়েছে অনেক কাহিনী। অবৈধভাবেএসব সম্পদ তিনি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এলাকাবাসী জানান, সদর উপজেলার বড়শলা একটি শান্তিপ্রিয় গ্রাম। কিন্তু সেই গ্রামের বর্তমান আতঙ্ক বতুশা। ফয়জুল হক বতুশার বাবা ইদ্রিছ আলী ছিলেন একজন খেটে খাওয়া লোক। বাদাঘাট থেকে নিজ বাড়ি রেখে বড়শলা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মেম্বারের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কাজ করে দিনাতিপাত করতেন বতুশার বাবা। এক পর্যায়ে ওই বাড়ির মালিক বতুশার বাবাকেবিয়ে করিয়ে দেন। ওই মেম্বারের বাড়িতে থেকে বাচ্চাদেও কোনমতে লালন-পালন করেন ইদ্রিছ আলী। বড় ছেলে বতুশাকে লেখাপড়া করানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু অভাবের কারণে তাহয়নি। সংসারের হাল ধরতে বতুশা ওসমানী বিমানবন্দরে শুরু করেন যাত্রীদের লাগেজ গাড়িতে উঠানো ও নামানোর কাজ। কিছুদিন পর ওই পেশা বাদ দিয়ে শুরু করেন মাইক্রোবাস চালানো। বাবা-ছেলের এই টাকা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো।তাই বতুশা খুঁজতে থাকেন দ্রুত টাকাওয়ালা হওয়ার ফন্দি।এলাকার লোকজন জানান, এক পর্যায়ে বতুশা শুরু করেন জাল দলিলসৃষ্টি করে জায়গা দখল ও ক্রয়-বিক্রয়। এ কাজে সফল হয়ে সরকারি জায়গা দখলে নামেন। সরকারি জায়গা দখল করে দোকানপাট ওকলোনি তৈরি করে দেন অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ। ২০১৯ সালে তিনটি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করেন ২ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা। বতুশা দখলকৃত সম্পত্তি নিজের দাবি করে ২য় বিয়ে করেন নগরীর চৌকিদেখি এলাকার কথিত খান পরিবারে। এরপর থেকে নামের সাথে যুক্ত হয় খান।
পরবর্তীতে বতুশা লন্ডন, সৌদি আরবসহ ২/১ দেশ ভ্রমণ করেন। তবে কোন দেশের স্থায়ী নাগরিকত্ব নেই তার। তবুও প্রবাসী দেখিয়ে ও পুলিশের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে এবং সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে নেন একটি দুনলা বন্দুকের লাইসেন্স। সেই বন্দুক ও অবৈধ অস্ত্র দিয়ে তার বাহিনী এলাকায় সৃষ্টি করে ত্রাসের রাজত্ব। বতুশার এবং তার নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গাড়ি ভাঙচুর, ধর্ষণ, হত্যা, নারী নির্যাতন, মাদক, ছিনতাই, অস্ত্র, পাহাড় কাটা, অবৈধ রক্ত ব্যবসা, গাড়ি চুরিসহ ১২টি মামলা রয়েছে। সব মামলায় ওই বাহিনীর সদস্যরা র্যাব ও পুলিশের নিকট গ্রেফতার হয়েছে। এলাকাবাসিকে নির্যাতনের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জাকির চৌধুরী সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে বন্দুকের লাইসেন্স বাতিল ও জব্দের আবেদন করেন। তদন্তপূর্বক বন্দুক জব্দ ও লাইসেন্স বাতিল হয়। তাছাড়া বতুশার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর রয়েছে ২০টি অভিযোগ, ৫টি জিডি ও একাধিক মামলা। মসজিদের টাকা আত্মসাতের কারণে তাকে মসজিদ কমিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমনই তথ্য জানিয়েছেন বড়শলাগ্রামের ৭০ উর্ধ্ব একাধিক মুরুব্বি। বড়শলা জামে মসজিদের মোতওয়াল্লী ও সাবেক মেম্বার শফিক আহমদ জানান, তার বয়স ৭০ বছর। বতুশার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার চেঙ্গের খাল নদীর তীরে। সেখান থেকে এসে ইদ্রিছ আলী বড়শলা গ্রামের রজাক মেম্বারের বাড়িতে গরু রাখালের কাজকরতেন। ইদ্রিছ আলীর বাবা খুবই অভাবী ছিলেন। মানুষের কাছেহাত পেতে কোনমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে সেখানেই ইদ্রিছ আলীকে বিয়ে দেন। তিনি জানান, বতুশা এয়ারপোর্টে লোডারি ও মাইক্রোবাস চালাতেন। পরে জায়গা দখল ও জাল দলিলতৈরি করে অবৈধ উপায়ে টাকা পয়সার মালিক হয়েছেন। যাএলাকাবাসীসহ সবার জানা আছে। একই কথা বলেন বড়শলাগ্রামের প্রবীণ মুরব্বী কালা মিয়া। শফিক আহমদ ও কালা মিয়ার বক্তব্যের মতো একই বক্তব্য প্রদান করেন খাদিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তারা মিয়া। তিনি জানান, বতুশা তার বাহিনী দিয়ে জায়গা দখল, দালালি ও অস্ত্রের মহড়া দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে। তাছাড়া এলাকার লোকজনকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। বতুশা এখন একটা আতঙ্কই বলা চলে।
বড়শলা গ্রামের প্রবীণ মুরুব্বী মস্তফা মিয়া জানান, বতুশাবিয়ে করেছেন চৌকিদেখি খান বাড়ি। আর বর্তমানে অনেকনিম্ন শ্রেণীর মানুষ নামের পিছনে বড় বড় বংশের নাম ব্যবহারকরছে।বিশিষ্ট মুরুব্বি আলকাছ মিয়া জানান, বড়শালা গ্রামের অনেক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্ত বর্তমানে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে বাড়ি-ঘর বানিয়ে নিম্ন শ্রেণীর লোকেরা বড় বংশের পরিচয়দিচ্ছে। অথচ এদের বাপ-দাদা বা আত্মীয় স্বজন শ্রমিকের কাজ করেছে বড়শলার নামি-দামী ব্যক্তিদের বাড়িতে। এলাকাবাসীর সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে ফয়জুল হক বতুশা জানান, তার নাম ফয়জুল হক খান। তার মূল বাড়ি বড়শলায়। বড়শলা মসজিদের কমিটি ও হিসাব নিকাশ নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।
8 শিক্ষকতা অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা মন্তব্য করে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি
1 সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড: মো: নিজাম উদ্দিন বলেছেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাই পারে জীবন রক্ষা করতে।
5 ২০২৬-২০২৭ করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের স্বার্থে পাশ হওয়া অর্থ আইন-২০২৬ সংশোধনের দাবি ও আইনটি সাধারণ করদাতাদের আর্থিক সামর্থ্যের বাইরে
6 বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন ২০২৬-২০২৮-এর তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
3 দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণ, ৫% মূল্যবৃদ্ধির বিতর্কিত গেজেট বাতিল, ভূমির মালিকানা প্রদান এবং চা-শ্রমিক ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের দাবিতে
7 সিলেটের সীমান্তগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবির মধ্যেই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী চোরাচালান সিন্ডিকেট। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও
1 পারভীন বেগম: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে দক্ষ নেতৃত্ব, দেশের স্বার্থরক্ষা এবং জন্মভূমি সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়নে সুদূর প্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দ্রুতই
5 সরকারি বিধিমালা অমান্য করে সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি)