fbpx

Daily Sylheter Somoy

জানুয়ারি ১৭, ২০২১

মুসলিম উম্মাহর অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

মুসলিম উম্মাহর অতীত বর্তমান ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক

মুসলমানদের রয়েছে সোনালি অতীত। মুসলমানরা শ্রেষ্ঠ জাতি, বীরের জাতি, বিজয়ী জাতি। একসময় বিশ্বের বড় বড় সব পরাশক্তি মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, মুসলিম উম্মাহ পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে নির্যাতিত, নিপীড়িত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত ও পরাজিত। এর কারণ কী? মুসলিম জাতির এমন অধঃপতন কিভাবে হলো? এর অনেক কারণ রয়েছে। এখানে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো—

ইসলাম থেকে দূরে সরে যাওয়া

আল্লাহ তাআলার কিছু অলঙ্ঘনীয় অপরিবর্তনীয় মূলনীতি রয়েছে। আল্লাহ তাআলার একটা মূলনীতি হলো, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তাহলে তিনিও তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা সুদৃঢ় করে দেবেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ৭)

আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ হলো তাঁর দ্বিনের সাহায্য করা, তাঁর শরিয়ত বাস্তবায়ন করা, তাঁর দ্বিন কায়েমের জন্য সংগ্রাম করা। আজ মুসলমানরা ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে, শরিয়ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহকে সাহায্য করছে না। এমতাবস্থায় এই জাতিকে আল্লাহ কেন সাহায্য করবেন? কিভাবে তাদের বিজয় আসবে?

ভ্রাতৃপ্রেমের অভাব

মুসলমানরা একে অন্যের ভাই। এমনকি সারা জীবন দেখা না হওয়া বিশ্বের এক প্রান্তের মুসলমানও অন্য প্রান্তের মুসলমানের ভাই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই। সুতরাং তোমরা ভাইদের মধ্যে শান্তি স্থাপন করো আর আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১০)

আজ মুসলমানরা একে অন্যের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ অনুভব করে না, একে অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে না, একে অন্যের দুর্দিনে কোনো পদক্ষেপ নেয় না। সবাই শুধু নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত। অন্য মুসলিম ভাই-বোনদের নিয়ে ভাবারও যেন ফুরসত নেই! অথচ রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ (প্রকৃত) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার (মুসলিম) ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩; মুসলিম, হাদিস : ৭৫)

পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত

ভ্রাতৃপ্রেম না থাকার চূড়ান্ত রূপ হচ্ছে পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত। যুগে যুগে মুসলমানরা কাফিরদের হাতে মার খাওয়ার ও পরাজিত হওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বিভেদ-বিভাজন। মুসলিম বিশ্বের প্রায় সব দেশই একটি অন্যটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে। মুসলমানরা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়ায় তাদের শক্তি হ্রাস পেয়েছে। তাই কাফিররা তাদের ওপর অনায়াসে হামলা করছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ কোরো না, তাহলে তোমরা সাহসহারা হয়ে যাবে এবং তোমাদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৪৬)

বিলাসিতা ও দুনিয়ায় মজে যাওয়া

মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে এই দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী এবং আল্লাহর কাছে দুনিয়ার কোনো মূল্য নেই। হাদিসে এসেছে, ‘দুনিয়ার মূল্য যদি আল্লাহর কাছে মাছির একটি পাখার সমমূল্য হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফিরকে এক ঢোকও পানি পান করতে দিতেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩২০)

মুসলমানরা তত্ত্বগতভাবে এগুলো জানলেও তাদের বাস্তব জীবনের কর্মকাণ্ড এর বিপরীত।

অধিকার আদায়ের লড়াই বর্জন

দুনিয়ার প্রতি অত্যধিক ঝুঁকে পড়া ও বিলাসিতায় খুব বেশি ডুবে যাওয়ার ফলে মুসলমানরা অধিকার আদায়ের লড়াই ছেড়ে দিয়েছে। তারা আল্লাহর দেওয়া সংগ্রামের পথ ছেড়ে তথাকথিত শান্তির পথ বেছে নিয়েছে। অথচ এটা শান্তি নয়; এটা আত্মসমর্পণ, এটা বশ্যতা। যে কারণে দেখা যায়, মুসলমানরা সংগ্রাম করতে চাইলেই এই শান্তি বিঘ্নিত হয়ে যায়, কিন্তু কাফিররা মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করলেও শান্তি বজায় থাকে!!

মুসলমানদের জন্য জিহাদ ছেড়ে তথাকথিত শান্তির পথ বেছে নেওয়ার কোনোই সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা (যুদ্ধে) বের না হও, তবে তিনি তোমাদের বেদনাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে আনয়ন করবেন। আর তোমরা তাঁর কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৩৯)

যোগ্য ও আদর্শবান নেতৃত্বের অভাব

আজ মুসলমানদের আদর্শবান কোনো নেতা নেই। এমন কেউ নেই, যার ডাকে পুরো মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ হবে। বর্তমান মুসলমানদের প্রায় সব নেতাই মুনাফিক, পথভ্রষ্ট, দুর্নীতিগ্রস্ত, আদর্শহীন ও জালিম। আল্লাহ তাআলার একটি নিয়ম হলো, মুনাফিক ও ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের হাতে উম্মাহর বিজয় আসে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের কাজ সার্থক করেন না।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৮১)

শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব

বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে এই ব্যাধিটা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। মুসলমানরা আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা তথা আল্লাহর জন্যই বন্ধুত্ব এবং আল্লাহর জন্যই শত্রুতা—এই গুরুত্বপূর্ণ আকিদা ভুলে গিয়েছে। আজ তারা নিজেদের শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে। শান্তিচুক্তির নামে ইহুদি-খ্রিস্টানদের বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলে দিয়েছেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের বন্ধুরূপে গ্রহণ কোরো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। আর তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে নিশ্চয়ই তাদেরই একজন। নিশ্চয়ই আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৫১)

যথাযথ শুরাব্যবস্থা না থাকা

মুসলমানদের শাসন পরিচালনার অন্যতম মানদণ্ড শুরা পরিষদ। শুরাব্যবস্থা ছাড়া একনায়কতন্ত্র কায়েম করা ইসলামী শরিয়তবিরোধী। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুল (সা.)-কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘আর কাজে-কর্মে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করো।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৫৯)

এগুলো মুসলমানদের অধঃপতিত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিত-নিপীড়িত হওয়ার মৌলিক কয়েকটি কারণ। এগুলো মুসলিম উম্মাহর ব্যাধি। মুসলিম উম্মাহর অবস্থার উত্তরণে এসব ব্যাধির সুচিকিৎসার বিকল্প নেই।

Sharing is caring!


সর্বশেষ সংবাদ

সাবেক ছাত্রদল নেতার দাদির মৃত্যুতে মেয়র আরিফের শোক

সাবেক ছাত্রদল নেতার দাদির মৃত্যুতে মেয়র আরিফের শোক

সাবেক সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা চৌধুরী সোবহান আজাদের দাদি, কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের ভদ্রচটি গ্রামের বিশিষ্ট আলেম মরহুম মাওলানা শহর

সাবেক ছাত্রদল নেতার দাদির মৃত্যুতে ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরীর শোক

সাবেক ছাত্রদল নেতার দাদির মৃত্যুতে ভিপি মাহবুবুল হক চৌধুরীর শোক

সাবেক সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা চৌধুরী সোবহান আজাদের দাদি, কানাইঘাট উপজেলার ঝিংগাবাড়ি ইউনিয়নের ভদ্রচটি গ্রামের বিশিষ্ট আলেম মরহুম মাওলানা শহর

রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ১ম বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন

রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ১ম বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন

সরকারী নির্দেশনার আলোকে রোববার (১লা আগষ্ট) জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে (২৭তম ব্যাচ) ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ১ম বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রমের

অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার বাংলাদেশী সঙ্গী খুঁজছেন সেই ‘পাখি

অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার বাংলাদেশী সঙ্গী খুঁজছেন সেই ‘পাখি

অনলাইন ডেস্ক ছোট পর্দায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। নাম মধুমিতা সরকার হলেও তিনি দর্শকদের কাছে পাখি নামেই পরিচিত। জনপ্রিয় ‘বোঝেনা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগারদের সম্ভাব্য একাদশ

অনলাইন ডেস্ক বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ১১ দিনের এ সফরে

তুরস্কে দাবানল, ষড়যন্ত্র ও অশনি সংকেত

তুরস্কে দাবানল, ষড়যন্ত্র ও অশনি সংকেত

অনলাইন ডেস্ক গত চার দিন ধরে দাবানলে জ্বলছে তুরস্ক। দেশটির এক চতুর্থাংশ প্রদেশে অর্থাৎ ২১ টি প্রদেশে প্রায় একই সময়ে

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে।এ পরিস্থিতিতে ১৮ বছর এবং এর বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে

সাবেক অর্থমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের দোয়া মাহফিল

সাবেক অর্থমন্ত্রীর রোগমুক্তি কামনায় সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক সফল অর্থমন্ত্রী

shares