editor
প্রকাশিত: 10:38 PM, November 13, 2020
সুনামগঞ্জ প্রতনিধি
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীতে নৌযানে অবৈধ চাঁদা আদায় কিছুতেই থামছেনা। সম্প্রতি সময়ে চাঁদাবাজরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। চাঁদা না দিলে শ্রমিকদের মারপিটের ঘটনাও ঘটছে। নৌযানে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র-লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে চাঁদাবাজ চক্র। এতে পাথর ব্যবসায়ী ও নৌযান শ্রমিকরা চরম ক্ষতির সম্মুক্ষিন হচ্ছেন।
জানা যায়, প্রতিদিন এই নৌপথের ৫-৬টি স্থানে পাথর-বালু, চুনা পাথরবাহী বাস-কার্গো ও নৌকা থেকে ৪-৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চাঁদাবাজরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ ইঞ্জিন এন্ড বাল্কহেড বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন, ছাতক পৌরসভা, যুব সমাজ কল্যাণ সংস্থা ইসলামপুর ইউনিয়ন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাথর আহরনকারি নৌকা থেকে ট্যাক্স আদায় মহাল (উপজেলা ট্যাক্স) এবং বিভিন্ন নদীপথে চলাচলকারী যাত্রীবাহি ও পাথরবাহী ইঞ্জিন চালিত ও ইঞ্জিনবিহিন কেজা/বৈঠা) নৌযান থেকে উপজেলা ট্যাক্স আদায় রশিদ, উপজেলা বাস-কার্গো মহাল (উপজেলা টেক্স) কোম্পানীগঞ্জসহ বিভিন্ন নামে ৪শ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ছাতক ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সুরমা, চেলা এবং পিয়াইনে নৌ-পথে বালু, পাথর, চুনাপাথর ও কয়লা নিতে আসে বাল্কহেড, বাস, কার্গো ও ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌ-পরিবহন। এ ধরনের যান চলাচল বর্ষা মৌসুমে অনেকটা বেড়ে যায়। এসব নৌ-পরিবহন ভোলাগঞ্জ, শাহ আরেফিন টিলা, বিছনাকান্দি ও লোভাছড়া পাথর কোয়ারিসহ বিভিন্ন কোয়ারি থেকে পাথর সংগ্রহ করে। এছাড়া ভারত থেকে চুনাপাথর, বোল্ডার-সিঙ্গেল আমদানি করে ছাতক নৌ-বন্দর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাম্পিং করা হয়। এসব স্থানে ব্যাবসায়ীদের নৌ-পরিবহনকে সুরমা নদীর কালরূকাম থেকে মুক্তিরগাওঁ বাগাইডর, থানার ডর থেকে সুরমা ব্রিজ,মাছ খালি থেকে আন্দাইরীগাঁও, বাউসা থেকে লক্ষিবাউর এলাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। যাদের চাঁদা আদায়ের বৈদতা রয়েছে তারা ও টোল আদায়ের নামে আতিরিক্ত চাঁদা আদায় করেছেন আভিযোগ উঠেছে। এ কারনে ছোট-বড় শতাধিক নৌ-পরিবহনকে ঘাটে ঘাটে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয় হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হচ্ছে । আইন ও বিধি- বিধান অনুযায়ী কোন ব্যত্তিকে নৌযান থেকে চাঁদা আদায়ের নিয়োগের সুযোগ না থাকলে ও জাল জালিয়াতির মাধ্যমে চাঁদাবাজরা রাতারাতি নয় দিনে দিনে-ই কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। ছাতক পৌরসভার নামে চলন্ত নৌযান থেকে পৃথক দুটি রশিদের টোল আদায় করা হচ্ছে। এসব এলাকায় সকাল ৬ টা থেকে ১১টা পর্যনÍ বিভিন্ন নামে বেনামে চাঁদা আদায় করছে সংঘবদ্ধ চক্র। বেলা ১১টা চাঁদাবাজার যেন বিরতি নিয়ে থাকে। পুলিশের এমন রহস্যজনক ভুমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের অভিযানে মধ্যে মধ্যে চাঁদা আদায়কারীদের আটক করা হলেও অদৃশ্য কারনে নেপথ্যেও নায়করা আড়ালে থেকেই যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডেও কাউন্সিলর তাপস চৌধুরী, পৌরভার ছোরাবনগর এলাকার মো.এখলাছ খান (গ্যারেজ এখলাছ), মোগলপাড়া এলাকার মো. সমছু মিয়া, নোয়াগাঁও গ্রামের হাজী অতিক মিয়া, সাবেক ইউপি সদ্যস ইপি সদস্য রহমতপুর গ্রামের হাজী বুলবুল ও ছাতক নৌ পুলিশের যোগ্যসাজেসে বেপরোয়া চাঁদাবাজি চলে আসছে। এ ছাড়া উপজেলার চরেন্দ মহল্লার জলাল উদ্দীন ও তার সহোদ মাদক ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিন, গনেশপুর গ্রামের মকবুল মিয়া, মন্ডলীভোগ গ্রামের কাজল, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকল গ্রামের ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, তেলিখাল গ্রামের সামছুল হক সহ সংঘবদ্ধ চক্র নদীতে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজী করলে ও পুলিশ এদের গ্রেফতার করছে না বলে নৌ- শ্রমিকদের অভিযোগ। তবে অনেকেই এই প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। এদিকে নৌ পরিবহনের আকার ও ধরন অনুযায়ী ২শ থেকে ৫শ টাকা করে টোল আদায়ের কথা থাকলে ও প্রতিষ্ঠানটি দুই হাজার থেকে চার হাজার টাকা চাঁদা আদায় করছে। ছাতক পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতিটি নৌযানকে নদীর ঘাট ব্যবহারে ৩৫০ টাকা ও পৌরসভার ট্যাস্ক হিসেবে ৪০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ট্যাস্ক আদায়কারীরা চলমান নৌযান থেকে আদায় করেছেন পাঁচশ থেকে এক হাজার টাকা। অভিযোগ রয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেন আনু নামে জনৈক এক জনপ্রতিনিধির যোগসাজেসে চাঁদাবাজ চক্র ছাতক নদী বন্দরের সীমানা লংঘন করে জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে পাশর্^বর্তী দোয়ারা বাজার উপজেলা ও ছাতক বৌলা, জামুরা, (হাওর) আন্ধারীগাঁও যুক্ত কওে সরকার, জনগন ও ব্যবসায়ীদের কোটি টাকা আত্নাসাৎ করেছে ।
এ বিষয়ে চরেরবন্দ গ্রামের শাহ নেওয়াজ চৌধুরী বলেন, বরকতিয়া ট্রের্ডাসের নামে ইজারা দেওয়া হলেও আর ও অন্তত ২৫ জন জড়িত রয়েছেন। পৌরসভার ছোরাবনগর এলাকার মো.এখলাছ খানসহ ইজারা দাতাও গ্রহীতাদের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় এবং চরেরবন্দ গ্রামের দুলাল মিয়া ও সফিকুল ইসলাম বলেন, এই বরকতিয়া ট্রেডার্সে জড়িত রয়েছে পৌরসভার কাউন্সিলর তাপস চৌধুরী, এখলাছ খান হাজী আতিক মিয়াসহ অনেকেই। তাদের নেতৃত্বে নৌপথে চাঁদাবাজি হচ্ছে।
এমবি শাহ আলীর জাহাজের কর্মচারী পরিচয়ে মোস্তফা বলেন, গত সপ্তাহে লোড নিয়ে ঢাকা এসেছি। চলন্ত জাহাজ থেকে ছাতক পৌরসভার নামে দুটি, বিআইডব্লিউটিএ সহ নামে বেনামে রশিদে টোল আদায় করা হচ্ছে। সব চেয়ে বেশি পুলিশের হয়রানি। নৌকার বাইরে দুজন দাঁড়িয়ে হাত তুলে দেখান ভেতরে পুলিশ রয়েছে। চাঁদা না দিলে মারপিট ও লুটপাট করা হচ্ছে।
রোমান পরিবহনের মাস্টার পরিচয়ে জহিরুল ইসলাম বলেন, ৪হাজার ৭শ টাকা, ৫শ টাকা , ৪শ টাকা ১ হাজার ৫শ টাকা করে নামে বেনামে চাঁদা দিয়ে আসছি। ছাতক থানার পুলিশের হয়রানি তো রয়েছে। ছাতক পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউস্নিলর তাপস চৌধুরী চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বরকতিয়া ট্রেডাসের সঙ্গে আমার কোন অংশীদারিত্ব নেই। থাকলে অব্যশই চুক্তিনামা থাকতো ।
বরকতিয়া ট্রেডার্সের মালিক হাজী আতিক মিয়া অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বিআইউব্লিউটিএ কতৃক নির্ধারিত হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। মো. এখলাছ খান এর মুঠেফোন একাধিকাবার যোগাযোগ করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী পৌরসভার অতিরিক্ত টোল আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন পৌরসভার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ঠ হারে টোল আদায় করা হচ্ছে। আমার এ বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণও করছি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আলোচিত ছাতক নৌ- পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম যোগসাজেসের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার ফাঁড়িতে স্প্রিড বোট তো দূরের কথা একটি কাঠের নৌকা ও নেই। আমি এ বিষয়ে উর্ধ্ধতন কতৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি। ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, নদী পথে চাঁদাবাজী বন্ধ রয়েছে। আমাদের পুলিশ লোকজন টহলে রয়েছে। এরপর ও আমি খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি। ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম কবির বলেন, নৌ-পথে চাঁদা বন্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিআইডাব্লিউটিএ এর আশুগঞ্জ ভৈরব বাজার নদীবন্দও সাবেক পোর্ট কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া ইজারা দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমাদের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতির কারনে গত বছরের ইজারা নবায়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন বর্তমান আমি ঢাকায় রয়েছি। সদ্য যোগদান করা বিআইডাব্লিাুটি এর আশুগঞ্জ ভৈরব বাজার নদীবন্দও পোর্ট কর্মকর্তা শহিদুল্লাহ বলেন, অবৈধভাবে যদি অতিরিক্ত চাঁদা আদায় বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
3 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী এবং সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে সৌজন্য
6 বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (এমপি) বলেছেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক
2 সিলেট শহরতলীর ধোপাগুল এলাকায় ফেলুডা ব্যবসায়ীদের হয়রানী করার প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধোপাগুল
1 আসছে দিন সমূহে আর কেউ নগদ টাকা বহন করবে না সবার কাছে থাকবে একটি করে কিউ আর কোড। ব্যাংকের
7 বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা
2 সিলেট জেলা যুবদলের নতুন আংশিক কমিটির সভাপতি মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি
5 স্বপ্নচূড়া ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সিলেট-এর ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। 5 সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং
8 সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নোমান আহমদ। এ উপলক্ষে