editor
প্রকাশিত: 1:04 PM, November 12, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে বাংলার পূর্বদিকে রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। মূলত আসামের চা রোপণকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে নির্মিত হয় রেললাইন। ধীরে ধীরে এই অঞ্চলে রেল যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ১৯১২-১৫ সালে চালু হয় সিলেট রেলওয়ে স্টেশন। সেই ব্রিটিশ আমলের নির্মিত লাইনে ভর করেই চলছে পূর্বাঞ্চলের রেলপথ। কখনও সেভাবে কোনো সংস্কার করা হয়নি।
চার দিনের ব্যবধানে দুটি দূর্ঘটনার কবলে পড়ে রেল। গত ৮ নভেম্বর ২৩ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সিলেট-ঢাকা এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত সাতটি ট্যাংকারে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরারতের পর দূর্ঘটনার পরদিন সকাল ৮টার দিকে সিলেটের সঙ্গে আবারও সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
গতকাল বুধবার সিলেটে আবারও ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। এবারে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতির কারণে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর আগে গত ৭ নভেম্বর শ্রীমঙ্গলের সাতগাওয়ে তেলবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ২৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিলো। জানা গেছে, বিকেলের দিকে সিলেটের মাইজগাঁও ও ভাটেরার মধ্যবর্তী মোমিনছড়া চা বাগান সংলগ্ন স্থানে সার পরিবাহী ট্রেন শান্তাহার ফার্টিলাইজার স্পেশাল লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনা ঘটলে কিছু সংস্কার করা হয়েছে। এখনও এ রুটের রেললাইনের অনেক জায়গায় স্লিপারের নাট-বল্টু নেই। যে কারণে দিন দিন ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে উঠছে সিলেটের রেলপথ। জরাজীর্ণ লাইনে ঘটছে ঘন ঘন ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনা। একারণে নিরাপদ রেলসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মানুষের মনে। যাত্রীদের মনে তৈরি হয়েছে সংশয়।
আর এই সংশয়ের নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা ট্রেন দুর্ঘটনাগুলো। গত বছরের ২৩ জুন রাতে মৌলভীবাজারের বরমচাল এলাকায় ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ যাত্রী নিহত ও শতাধিক আহতের ঘটনা ভুলতে বসেছিল এ অঞ্চলের মানুষ। কিন্তু গত বছরের ১১ নভেম্বর রাতে উদয়ন এক্সপ্রেস ও তূর্ণা নিশীথার দুর্ঘটনা রেলসেবা নিয়ে মানুষের মনে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে।
সিলেটের বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, ঘূর্নিঝড়েও এতো লোক মরেনি, যত মানুষ এক ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তারা জরাজীর্ণ লাইন সংস্কার, সিলেট রুটে আন্তঃনগর ট্রেনে নতুন কোচ সংযোগসহ রেলসেবার মান বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে দেশের রেলপথে সিলেট রুটে যত দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতো দুর্ঘটনা দেশের অন্য কোনো রুটে ঘটেনি। রেলওয়ে সূত্র জানায়, গত বছরের ৪ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এর আগে গত ১৭ সেপ্টম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও রেলস্টেশনে জালালাবাদ ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুরে এবং তারও আগে গত ১৬ আগস্ট ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও রেলস্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। গত ১৯ জুলাই সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া জংশন রেলস্টেশনে ঢোকার সময় যাত্রীবাহী বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পরদিন (২০ জুলাই) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে একইস্থানে গিয়ে ঢাকাগামী আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ওইদিন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের লোকো সেকশনের এক কর্মচারী বলেছিলেন, আগের দিন দুর্ঘটনায় স্লিপারের অন্তত ২০টি ক্লিপ উঠে যায়। সেগুলো মেরামত না করায় পুনরায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রেলের পাটাতনে ২-৩টি স্লিপারের পর একটি করে ক্লিপ লাগানো থাকে। যে কারণে ট্রেন দ্রুত চলতে গেলে লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২৩ জুন রাত ১০টায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া স্টেশনে যাওয়ার আগে বরমচাল অতিক্রম করে মনছড়া রেলসেতুতে দুর্ঘটনায় ট্রেনের ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। একটি বগি সেতুর নিচে ও দু’টি পার্শ্ববর্তী জমিতে উল্টে যায়। এতে চার জন নিহত ও দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
গত ১৬ মে বেলা ১১টার দিকে ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা সেতু পার হয়ে মল্লিকপুর এলাকায় লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি। এতে করে দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর আগে ৫ এপ্রিল বেলা আড়াইটায় সিলেট-মাইজগাঁও রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী মোগলাবাজার এলাকায় কুশিয়ায়া এক্সপ্রেস লোকাল ট্রেনটিতে ইঞ্জিন থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় চালক ট্রেনটি টেনে মোগলাবাজার রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যান। ট্রেনের ইঞ্জিন গরম হয়ে হঠাৎ করে আগুণ লাগার ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
এদিন রাত পৌনে ১১টার দিকে মাইজগাঁও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় শাহজালাল সারকারখানা থেকে সার বহনকারী বিসি স্পেশাল ট্রেনের বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ায় ব্যাহত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থা।
গত ৯ মার্চ ফেঞ্চুগঞ্জে অল্পের জন্য বেঁচে যায় জয়ন্তিকা ট্রেনের যাত্রীরা। ট্রেনটি ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা রেলসেতুর পাশেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। এদিন কুশিয়ারা রেলসেতুর দক্ষিণে রেললাইন এক ফুট জায়গা ভেঙে যায়। এটা দেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ছালিক মিয়া তাৎক্ষণিক মাইজগাঁও স্টেশনে জানালে তারা ফোন করে দুই পাশের ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। তাৎক্ষণিক রেল যোগাযোগ বন্ধ করা না হলে ভয়ানক কিছু ঘটতে পারতো।
গত বছরের ১১ নভেম্বর রাত পৌনে ৯টায় চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি কোচে ৭০৩ জন যাত্রী নিয়ে সিলেট রেলস্টেশন ছেড়ে যায়। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পৌঁছালে ঢাকা অভিমুখী ‘তুর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৬ জন যাত্রী নিহত হন, আহত হয় শতাধিক। এছাড়া ২০০৪ সালে জোট সরকারের সময় আধুনিক অবকাঠামোয় গড়ে ওঠা রেলস্টেশনের উদ্বোধন করেন সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। উদ্বোধনের পরই স্টেশনের ছাদে চিড় (ফাটল) ধরায় কাজের অনিয়ম নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। আর দেড়দশক পার হলেও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অবকাঠামোগত উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে দেড় দশকেও সিলেট রেলস্টেশনের জীর্ণ দশা কাটছে না। এই স্টেশনের সামন দেখলে মনে হয় বস্তি। সংস্কার কাজ করা হয় নিয়ে অনেক দিন যাবত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কারের বিষয়ে তারা উপর মহলে চিঠি দিয়েছেন। তা কার্যকর হতে সময় লাগছে।
এছাড়াও রেল লাইনে সেতুর বেহাল দশা। অনেক ব্রীজের পিলারগুলোতে দেখা দিয়েছে ফাঁটল। এদিকে, রেল লাইনের নাটবল্টু ক্লীপ না থাকায় কাঠ ও বাঁশ দিয়ে মেরামত করে প্রতিনিয়িত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা। কর্তৃপক্ষ রেল লাইন ও ঝুঁকিপুর্ণ সেতুগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নিলে, তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে মনে করেন, সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়রা।
গতকাল বুধবার প্রায় আধা ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে সিলেটের মাইজগাঁও ও ভাটেরার মধ্যবর্তী মোমিনছড়া চা বাগান সংলগ্ন স্থানে সার পরিবাহী ট্রেন শান্তাহার ফার্টিলাইজার স্পেশাল লাইনচ্যুত হয়। সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার খলিলুর রহমান জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে কুলাউড়া অভিমুখে যাত্রা করা মালবাহী ট্রেনের একটি বগির চারটি চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ফলে সিলেটের সাথে দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় সিলেটের সঙ্গে আবারও সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
অক্টোবর সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে বিশেষ সেবা মূলক কার্যক্রম পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটি।
ঢাকা দক্ষিণ ও বাদেশ্বর রোডের গাড়ি পারমিট পাস ছাড়া অবৈধভাবে মৌলভীবাজার রোডে চলাচল করার প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা করেছে সিলেট জেলা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামন্ডব পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের (বিএমবিএফ) সিলেট বিভাগ, জেলা
পুলিশি হয়রানি বন্ধ, পর্যাপ্ত স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা এবং সরকারি ডিউটির নামে গাড়ি আটক বাণিজ্য বন্ধের ৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
সিলেট নগরীর দাড়িয়াপাড়াস্থ চৈতালী সংঘের উদ্যোগে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে নগরীর উত্তর হাটখোলা সনাতনী পূজা মণ্ডপ এবং মালিনীছড়া চা-বাগান
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকারের গৃহীত তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপসমূহ জনগণের সামনে তুলে ধরতে সিলেট নগরীতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ
সিলেট মহানগর শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত ৪২টি ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা