admin
প্রকাশিত: 1:15 PM, September 1, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
লুবানা ইয়াসমিন শম্পা। এক সুবিধাভোগী নারী নেত্রী। তিনি যখন যে মন্ত্রী, এমপি, জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সিলেটের ব্যবসায়ীক নেতাদের পরিচয় দিয়ে কাজ হাসিল করতে ব্যাপক পারদর্শী। এছাড়াও যে সরকার ক্ষমতায় আসুক না কেন, ওই সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি, নেতা ও ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতার সাথে গড়ে তুলেন দহরম-মহরম সম্পর্ক।সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পা নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ আমলের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ হয়েও বর্তমান বিএনপি’র কতিপয় সংসদ সদস্যদের কারণে একক আধিপত্য বিস্তারে সিলেট জুড়ে বিএনপি, ব্যবসায়ীক সংগঠন, রাজনীতিবিদ ও নারী নেত্রীদের মধ্যে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানায়, লুবানা ইয়াসমিন শম্পা ছিলেন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সি, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলসহ বেশ কয়েকজন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মন্ত্রী এমপি’র একান্ত ঘনিষ্ঠজন । স্বৈরাচার সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপিদের প্রভাব খাটিয়ে শম্পা স্বৈরশাসনামলে জমিয়েছেন কাড়িকাড়ি অর্থ । ওই সময় তিনি প্রভাব খাটিয়ে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে নিয়েছেন সুবিধা । তার প্রভাব এতোটাই ছিল যে তৎকালীন সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বর্ণলতা রায়কে হার মানতে হয় তার কাছে। কিন্তু ২০২৪ সনের জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও তার দোসররা। তখনই খোলস পাল্টাতে থাকেন লুবানা ইয়াসমিন শম্পা। ২০২৪ সনের পরবর্তীতে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে আশ্রয় নেন বিএনপি’র প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলয়ের সাথে। ওই বলয়ে থেকে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে। যার ফলে মন্ত্রী পরিবারের আর্শিবাদ পেয়ে প্রায় এক দশক পর ২০২৫ সনের ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন লুবানা ইয়াছমিন। এরপর খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা। উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি পরিচয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ’ র সাথে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও তার পরিবারের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলায় মেলার অনুমতি নেন তিনি। ওই মেলার অনুমতি পেয়ে বিয়ানীবাজার চেম্বারকে না জানিয়ে তা ২৫ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেন এক মেলা ব্যবসায়ীর কাছে। আর উইমেন্স চেম্বার নেতৃবৃন্দকে বলেন বিয়ানীবাজারর মেলা বিক্রি করেছেন আট লক্ষ টাকায়। এ খবর চাউর হওয়ারপর ক্ষিপ্ত হন উইমেন্স চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রী ও তার পরিবার।মন্ত্রী ও তার পরিবারের লোকদেরকে কিছু করতে না পেরে, তখন উইমেন্স চেম্বারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে লুবানা বলেন, কেউ যদি তার কথার বাইরে চলেন তাকে চেম্বার থেকে বের করে দিবেন। তার এই হুমকির পর সবাই কোনঠাসা হয়ে পড়েন। যার ফলে শুরু হয় লুবানার একক আধিপত্য ।তিনি মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলয়ে থেকে ভালো সুবিধা ভোগ করতে না পেরে, বলয় পাল্টে যোগদান করেন বর্তমান সরকারের ক্লিন ইমেজের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলয়ে। ওই বলয়ে থাকাকালীন তিনি সম্পর্ক তৈরি করেন আরেক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের সাথে । যার ফলে ঢাকায় গেলেই ওই সংসদ সদস্যের সাথে সবসময় থাকেন তিনি এবং নিজের কাজেও ব্যবহার করেন সরকারি গাড়ি। লুবানা ইয়াসমিন শম্পা উইমেন্স চেম্বারের কথা বলে নামেন একটি বানিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য। এ নিয়ে তিনি বর্তমান বানিজ্য মন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে বিভিন্ন মেলা ব্যবসায়ীর সাথে মেলা বিক্রির জন্য যোগাযোগ করতে থাকেন এবং বলেন বানিজ্য মন্ত্রী বলে দিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে যাতে দ্রুত মেলার অনুমতি দেওয়া হয়। যার ফলে ১৯ আগস্ট ২৬ ইং বিকেল আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় সদর উপজেলায় গিয়ে এক মেলা ব্যবসায়ী এবং উপজেলা কর্মকর্তাকে লুবানা বলেন বানিজ্যমন্ত্রী বলেছেন মাঠের পারমিশন দেওয়ার জন্য। ২৩ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের গ্রুপে লুবানা লিখেন ডিসি বলেছেন অফিসে যাওয়ার কথা। ২৬ আগস্ট ডিসি অফিসে সভা হয়, তখন ঐ সভায় লুবানা বলেন মন্ত্রী মুক্তাদির ভাই বলেছেন মেলার অনুমতি দিতে।
২৭ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের সভায় বানিজ্য মন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে এবং তিনি মেলা করার কথা বলেছেন।
উইমেন্স চেম্বার নেত্রী তুলি ২৬ আগস্ট কালনি ট্রেনে সিলেট আসেন, এরপর ২৮ আগস্ট লুবানা তুলিকে বলেন বানিজ্য মন্ত্রী জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য এবং শাহ ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত মেলাটি যেন স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলকে দেওয়া হয়। ২৫ ও ২৬ আগস্ট সন্ধ্যারপর মোবাইল ফোনে লুবানা একই কথা বলেন এক মেলা ব্যবসায়ীকে। আর গত ২৯ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের অফিসে বসে সিলেট ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি’র নামধারী দুইজনে সাথে ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় শাহী ঈদগাহ মাঠে মেলা আয়োজনের চুক্তি করেন লুবানা।
এদিকে, সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার একক আধিপত্য, অনিয়ম ও ‘দাপুটে’ কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ নারী উদ্যোক্তারা। দীর্ঘ দিন ধরে সংগঠনটিকে ব্যক্তিগত বলয়ে বন্দি করে রাখা এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজস্ব সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও রহস্যজনকভাবে এখনও তিনি নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সংগঠনের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লুবানা ইয়াসমিন শম্পা সংগঠনের গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের নাম করে আসা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সাধারণ সদস্যদের বঞ্চিত করে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠজনরাই ভোগ করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা হয়। কেউ এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হয়রানি ও সদস্যপদ বাতিলের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে, বিগত স্বৈরশাসনামলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের সাথে লুবানা ইয়াছমিন শম্পার ঘনিষ্ঠ ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিজাম উদ্দিন টিপু আইডি থেকে কয়েকটি ছবি শেয়ার দিয়ে লেখা হয় ফ্যা/সি/স্ট আমলের সুবিধাভোগী থেকে রাতারাতি ভোল পাল্টে এখন নব্য সরকার সমর্থক! সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি লুবানা ইয়াছিম শম্পার দাপটে আজ খোদ বিএনপির ত্যা/গী নেত্রীরাও অসহায়।
স্বর্ণলতা রায় পা/লি/য়ে বাঁচলেও, লুবানা ইয়াছিম শম্পা রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে। আওয়ামী লীগের দো/স/র হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী এখন বিএনপির বিভিন্ন প্র/ভা/ব/শা/লী মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্র/ভা/ব বিস্তার করছেন। প্রশ্ন জাগে—বিগত ১৫ বছর যারা রাজপথে র/ক্ত দিল, জু/লু/ম সইল, তাদের চেয়ে কি এই সুবিধাবাদীদের দা/প/ট/ই এখন বেশি?
এই সুবিধাবাদী গিরগিটিদের এখনই থামাতে হবে। স্বৈ/রা/চা/রে/র দো/স/র/রা যেন কোনোভাবেই নতুন বাংলাদেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। ওই পোস্টের কমেন্টে বিভিন্নজনরা নানা ধরনের ব্যাক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেন।
সিলেট উইমেন্স চেম্বারের একাধিক সদস্য জানান, লুবানা সভাপতি হয়েছেন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে। কিন্তু গত ২০২৫ ইং সন বিএনপি’র কয়েকজন নেতার আর্শিবাদে লন্ডন টাওয়ার হেমল্যাটস টাউন হলে এমএস মমো ফ্যাশন হাউজ এন্ড হ্যান্ডিক্র্যাফট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণ করেন। এখানেও তিনি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট সিটি কর্পোরেশনের একাধিক কনট্রাকটর জানান, সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার স্বামী মামুন ও শম্পা মিলে আওয়ামী লীগ আমলে মন্ত্রী এমপিদের দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কাজ ভাগিয়ে নিতেন । তখন তারা স্বামী স্ত্রী ছিলেন পুরোদমে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি ক্ষমতায় আসার স্বামী – স্ত্রী মিলে মন্ত্রী, এমপি ও বিএনপি নেতাদের পরিচয় দিয়ে ভাগিয়ে নিচ্ছেন বড় বড় কাজ। আর অনায়াসে করছেন দূর্নীতি।
7 যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত, সুস্থ এবং সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত
7 জাতীয় জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, বঙ্গবীর জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ১০৮ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করেছে পার্টির জাতীয়
6 বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ
7 হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেড-এর পরিচালনা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ফজলুর রহিম কায়সার বলেছেন, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মানবিক
4 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সিলেটে আনন্দ র্যালি ও আলোচনা সভা করেছে সিলেট মহানগর তাঁতীদল। মঙ্গলবার
8 মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রতীক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে আলোচনা সভা
7 * স্বৈরশাসনামলে প্রভাবশালী দুই মন্ত্রী ও এমপিদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন লুবানা * চেম্বারের সদস্য এক প্রতিষ্ঠান দিয়ে আর দেশের পক্ষে
2 মো. নুরুল ইসলাম: দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন ও দেড় যুগের রাজপথের ঘামঝরা সংগ্রামের ইতিহাস সঙ্গে নিয়ে