editor
প্রকাশিত: 12:33 PM, September 12, 2026
সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্যপথগুলোর একটি। প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। অথচ এই বন্দর ঘিরে গেট পাসের নামে অর্থ আদায়, পণ্যের ওজন নির্ধারণ এবং শুল্ক পরিশোধ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে।
অভিযোগগুলোর কোনোটি স্থানীয় শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের, কোনোটি আমদানিকারকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে, আবার কিছু বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানেও প্রশ্ন উঠেছে।
নতুন অভিযোগ অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাক থেকে কথিত গেট পাসের নামে প্রতি ট্রাকে ৯৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি ট্রাক থেকে এ অর্থ নেওয়া হয় বলে স্থানীয় শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি। তাদের হিসাবে, প্রতিদিন আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার থেকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে এই অর্থ আদায়ের বৈধতা, কারা এটি নিচ্ছে, কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে এবং কোনো সরকারি বা বন্দরের নির্ধারিত ফি হিসেবে এটি আদায় করা হচ্ছে কি নাÑএসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য নথি বা সরকারি ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় শ্রমিক ও অংশীজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তামাবিল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে গেট পাসের নামে নির্দিষ্ট অর্থ দিতে হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অর্থ পরিশোধ না করলে ট্রাকের চলাচল বা বন্দর-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে নানা ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা থাকে।
অভিযোগে শাহপরান, লিপু ও কাসেম নামের কয়েকজনের নাম এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মিজান ও ফখরুল চেয়ারম্যানের নামও আলোচনায় রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শাহপরান নামের অপর এক ব্যবসায়ীর কথা উল্লেখ করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে শাহপরানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
তামাবিল স্থলবন্দর ঘিরে ট্রাকপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিলও প্রতি ট্রাক থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে ব্যবসায়ীদের একাংশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলেছিলেন।
তবে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মোহররম আলী বলেছিলেন, ওই অর্থ সমিতির অফিস পরিচালনার খরচের জন্য নেওয়া হয়। অর্থের ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার কথা জানিয়েছিলেন। একই ঘটনায় কয়েকজন ব্যবসায়ী হয়রানির অভিযোগও করেছিলেন।
অর্থাৎ, ট্রাকপ্রতি অর্থ আদায়ের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ৪৫০ টাকা ও ৯৫০ টাকা দুই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে দুটির প্রকৃতি, আদায়ের ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং অর্থের বৈধতা একই কি না, তা নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য সরকারি নথি পাওয়া যায়নি।
গেট পাসের অভিযোগের পাশাপাশি তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে পাথর আমদানিতে প্রকৃত ওজনের তুলনায় কম ওজন দেখিয়ে শুল্ক পরিশোধের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগভিত্তিক একটি হিসাবে বলা হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০টি পাথরবাহী ট্রাক তামাবিল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে প্রায় ২৬ মেট্রিক টন পাথর থাকলেও প্রায় ২১ টনের হিসাবে শুল্ক পরিশোধ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের হিসাব অনুযায়ী, ছয় চাকার একটি ট্রাকের নিজস্ব ওজন ৯ টন ধরে আমদানিকৃত পাথরের জন্য ১২ টন পাথরের শুল্ক পরিশোধ করা হলে প্রকৃত পণ্য ও ঘোষিত পণ্যের মধ্যে প্রায় ৫ টনের পার্থক্য তৈরি হয়।
প্রতি মেট্রিক টন পাথরের জন্য ৭৭০ টাকা শুল্ক ধরে অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাবে প্রতিদিন ৭০০ ট্রাকে ৫ টন করে মোট ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন পাথরের শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
তবে এটি অভিযোগকারীদের দেওয়া হিসাব; সরকারি নথি, প্রকৃত ওজন, চালান ও শুল্কায়ন রেকর্ড যাচাই ছাড়া এটিকে নিশ্চিত রাজস্ব ক্ষতি বলা যাবে না। কয়লা আমদানিতেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০টি কয়লাবাহী ট্রাক তামাবিল বন্দরে প্রবেশ করে। প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত প্রায় ৫ মেট্রিক টন কয়লা থাকলেও সেই পরিমাণের শুল্ক পরিশোধ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতি মেট্রিক টন কয়লার শুল্ক ৪ হাজার ৫০ টাকা ধরে অভিযোগকারীদের হিসাবে, প্রতিদিন ৩০টি ট্রাকে ৫ টন করে মোট ১৫০ মেট্রিক টনের শুল্কের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা।
পাথর ও কয়লা মিলিয়ে এ হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা সম্ভাব্য রাজস্ব ঘাটতির দাবি করা হয়েছে। তবে এই হিসাবের সঙ্গে সরকারি শুল্কায়ন নথি, ট্রাকের প্রকৃত ওজন, পণ্যের শ্রেণি, আমদানির ধরন ও প্রযোজ্য শুল্ক কাঠামো মিলিয়ে দেখা জরুরি। ফলে ৩৩ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা চূড়ান্ত রাজস্ব ক্ষতি নয়; এটি অভিযোগের ভিত্তিতে করা একটি হিসাব।
তামাবিল স্থলবন্দরে ওজন ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন অবশ্য এর আগেও উঠেছে। ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি দুদক সিলেটের একটি দল তামাবিল স্থলবন্দরে অভিযান চালায়। দলটির নেতৃত্বে ছিলেন দুদক সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার।
দুদকের অনুসন্ধানে কয়েকটি এলসিতে ৫ টন পণ্য উল্লেখ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ট্রাকে ১০ থেকে ১২ টন পর্যন্ত পণ্য থাকার তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্যের কারণে প্রায় ৩ হাজার ৩৬০ টাকা করে রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা ছিল। দিনে ৪০০ থেকে ৪৫০টি ট্রাক হিসাবে এ সম্ভাব্য ঘাটতি মাসে প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দুদকের ওই হিসাবকে চূড়ান্ত রাজস্ব ক্ষতি হিসেবে গণ্য করা হয়নি; এটি অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ঘাটতির হিসাব।
দুদকের অনুসন্ধানের বিষয়ে তৎকালীন কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গৌরব মহাজন জানান, বিষয়টি নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। অতিরিক্ত ওজন পাওয়া গেলে কাস্টমস নিয়ম অনুযায়ী শুল্ক ও জরিমানা আদায় করে থাকে বলে তিনি জানান।
অর্থাৎ, পণ্যবাহী ট্রাকের প্রকৃত ওজন, ঘোষিত ওজন এবং আদায়কৃত শুল্কের মধ্যে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না তা নির্ধারণে কেবল অভিযোগ বা প্রাথমিক হিসাব নয়, সংশ্লিষ্ট ট্রাকের ওজন রেকর্ড, এলসি, বিল অব এন্ট্রি, শুল্ক পরিশোধের নথি ও কাস্টমসের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দুদকের ওই অভিযানে তামাবিল স্থলবন্দরে শ্রমিক সরবরাহের বিষয়টিও সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মেসার্স হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজকে শ্রমিক সরবরাহ বাবদ প্রায় ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৬ হাজার ৪৬৯ টাকা দেওয়া হয়েছিল। দুদকের প্রশ্ন ছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃতপক্ষে শ্রমিক সরবরাহ করেছিল কি না এবং আমদানিকারকেরাই নিজেদের পণ্য খালাস করেছিলেন কি না। এ বিষয়টিও তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নির্ধারণযোগ্য।
তামাবিল স্থলবন্দর বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। বন্দরটির মাধ্যমে পাথর, কয়লা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হয় এবং ওজন পরিমাপের ব্যবস্থাও রয়েছে। গেট পাসের নামে ট্রাকপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
গেট পাসের নামে অর্থ আদায় ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত থানায় সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে লিখিত বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তামাবিল স্থলবন্দর ঘিরে এখন মূল প্রশ্ন উঠেছে ট্রাকপ্রতি কোনো অর্থ আদায় করা হলে তা কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে, কার মাধ্যমে এবং কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে; একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্যের প্রকৃত ওজন ও ঘোষিত ওজনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তার বিপরীতে যথাযথ শুল্ক-কর সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে কি না।
স্থানীয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, বিষয়গুলো নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ের ট্রাক প্রবেশের রেকর্ড, গেট পাস, ওজন স্লিপ, এলসি, বিল অব এন্ট্রি, শুল্ক পরিশোধের চালান এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের হিসাব পাশাপাশি পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব সুরক্ষিত করা প্রয়োজন। আর অভিযোগগুলো অসত্য বা অতিরঞ্জিত হলে সেটিও সরকারি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কারণ তামাবিল স্থলবন্দর শুধু স্থানীয় অর্থনীতির নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বাণিজ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশদ্বার।
2 ‘ঐক্য, ঐতিহ্য ও উন্নতি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে গোয়াইনঘাটের প্রবাসীদের সামাজিক সংগঠন ‘গোয়াইনঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সার্বিক
5 সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থলবাণিজ্যপথগুলোর একটি। প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক এই বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ
6 সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচার ও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে আলোচনায় উঠে এসেছে সীমান্তের ‘মাফিয়া ডন’ শ্যাম কালা,ওরফে
8 মিরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জীউর আখড়া পরিচালনা কমিটির ত্রিবার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আখড়া নাক
1 বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট রেজি নং বা.জা.ফে. ৩৮ এর অন্তর্ভূক্ত সিলেট জেলা ব্যাটারি চালিত থ্রি হুইলার ইজি বাইক মিশুক
2 সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠান সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের ‘মহিলা উপ-পরিষদ ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)
7 স্টাফ রিপোর্টার: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর বিয়ে না করে উল্টো
2 * জীবন ও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে ভুক্তভোগী পরিবার স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে প্রবাস ফেরত প্রভাবশালী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে জীবনের