admin
প্রকাশিত: 1:03 PM, October 31, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী তারাপুর চা বাগানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনৈতিক ও মাদক সাম্রাজ্যের অন্যতম মূলহোতা আলোচিত দুই বোন স্মৃতি ও ঋতি। গত ২৯ অক্টোবর প্রথম পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নগরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনটি সুধী সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসার পর উন্মোচিত হতে শুরু করেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে এই দুই বোনকে পিছন থেকে ইন্ধন দেওয়া ও প্রশাসনিক ছত্রছায়া প্রদানকারী ক্ষমতাধর মদদদাতাদের নাম ও পরিচয়। এমনকি পারিবারিকভাবে নিজেদের স্ত্রীদের এই অনৈতিক চক্রের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার মতো ন্যক্কারজনক তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
প্রথম পর্বের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল—চা বাগানের সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমিকরা যখন দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের জন্য প্রতিদিন হাড়ভাঙা সংগ্রাম করছেন, ঠিক তখনই এই দুই বোনের বাসায় গড়ে উঠেছে সুরম্য রাজপ্রাসাদতুল্য পরিবেশ। সাধারণ চা-শ্রমিকদের ঘরে যেখানে দুপুরের খাবার জুটলেও রাতের খাবারের নিশ্চয়তা থাকে না, সেখানে স্মৃতি ও ঋতির ঘরে বসানো হয়েছে আধুনিক ভিআইপি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) যন্ত্রসহ বিলাসবহুল যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় বেশ কিছু সচেতন নাগরিক, সমাজসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক প্রতিনিধি ছদ্মবেশে তারাপুর চা বাগানের ভেতরের ওই নির্দিষ্ট এলাকায় যান। তারা সরজমিনে গিয়ে প্রথম পর্বে প্রকাশিত সংবাদের শতভাগ সত্যতা পান। ঝুপড়ি ঘরের আড়ালে এসি রুম, আধুনিক আসবাবপত্র এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে যান।
অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্বে বেরিয়ে এসেছে আরও এক চমকপ্রদ তথ্য। নিজেদের সৌন্দর্য বজায় রাখা এবং মদদদাতাদের আভিজাত্যের মনোরঞ্জনের জন্য স্মৃতি ও ঋতি নির্ধারিত একটি বিউটি পার্লার নিয়মিত ব্যবহার করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই বিউটি পার্লারে শুধু দুই বোনই যান না, তাদের মদদদাতাদের স্ত্রীরাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন। সেখানে একসাথে সাজগোজ এবং গোপন বৈঠকের আয়োজন করা হয়। প্রতি সপ্তাহে এই পার্লারে শুধু সাজগোজ বাবদই খরচ হয় প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা।
প্রথম পর্বে প্রকাশিত সংবাদের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ছিল—চা বাগানের ঘরে বসে বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ও ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে বিভিন্ন মাদক স্পটে এবং গ্রাহকদের কাছে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই তথ্যের সাথে পুরোপুরি একমত পোষণ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “বাগানের অবুঝ ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে অপরাধ জগতে টেনে এনে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে এই দুই বোন। প্রভাবশালীদের স্ত্রীদের সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ওরা অপকর্মের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিতে এলে মদদদাতারা ওপর মহল থেকে কল দিয়ে পুলিশকে ওদের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দেয়।”
স্থানীয়রা আরও জানান, প্রতিদিন সকালে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে সেজেগুজে ঘর থেকে বের হয় দুই বোন। বাগানের মূল ফটকে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে থাকে এক প্রভাবশালীর বিলাসবহুল সাদা রঙের প্রাইভেটকার। গাড়িতে উঠিয়ে ড্রাইভার সোজা তাদের নিয়ে যায় মদদদাতাদের বাসভবনে। সেখানে দিনভর বিভিন্ন প্রভাবশালী মদদদাতার উপস্থিতিতে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা নামার পর সিলেট শহরের কোন কোন পয়েন্টে কীভাবে মাদক এবং নারী সরবরাহ করা হবে—তার চূড়ান্ত নীল নকশা তৈরি হয় ওই বৈঠকে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর অপরাধীদের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় জরুরি বৈঠকে বসে চক্রটি। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে অনেক প্রভাবশালী মদদদাতা এখন জনসমক্ষে দাবি করছেন—তারা স্মৃতি ও ঋতিকে চেনেনই না! অথচ অনুসন্ধানী টিমের হাতে এসেছে এমন কিছু স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ, যেখানে দেখা যায় ওই সকল মদদদাতা এবং তাদের স্ত্রীরা স্মৃতি ও ঋতির সাথে অত্যন্ত আনন্দঘন ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে সময় কাটাচ্ছেন।
শুধু তা-ই নয়, প্রথম পর্ব প্রকাশের পর বেশ কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সংবাদের সত্যতা যাচাই করতে সন্ধ্যার পর সিলেট নগরীর ‘পার্ক ভিউ পয়েন্ট’-এ যান। সেখানে নিজ চোখে মাদক ও নারী সরবরাহের রমরমা দৃশ্য দেখে তারাও শিউরে ওঠেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, স্মৃতি ও ঋতি শুধু চা বাগানেই মাদক ব্যবসা সীমিত রাখেনি; তারা শহরের বিভিন্ন নামীদামী হোটেল এবং প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত বাসভবনে তরুণী ও নারী সাপ্লাই দেওয়ার এক বড় সিন্ডিকেট পরিচালনা করে আসছে।
সংবাদ প্রকাশের পর বর্তমানে স্মৃতি ও ঋতি এবং তাদের পেছনের মদদদাতারা চরম বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা এখন আড়ালে থেকে তথ্য প্রদানকারী খোঁজ চালাচ্ছে। একই সাথে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর যুক্তি উপস্থাপন করছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এসব অপপ্রচার চালিয়ে সত্য গোপন করা যাবে না। অতি দ্রুত এই সিন্ডিকেট ও তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে তারাপুর চা বাগানকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের জনগণ।
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজ ৯৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ পাসের হার অর্জন করেছে। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মরহুম আরাফাত রহমান কোকার রুহের মাগফিরাত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন ৭নং মোগলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের সদর উপজেলার অন্তর্ভুক্ত এই ইউনিয়নটির সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বইছে
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড—কদমতলী, দক্ষিণ সুরমার প্রবেশদ্বার ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিন
স্টাফ রিপোর্টার: উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হৃদপিণ্ড হিসেবে খ্যাত আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট আজ এক নবজাগরণের দ্বারপ্রান্তে। হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আগামী নেতৃত্ব ও মেয়র পদ ঘিরে জাতীয় রাজনীতি ও স্থানীয় অঙ্গনে এখন নানা সমীকরণ ও
রুবেল আহমেদ: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ উপজেলার ৩নং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের
* যেভাবে গড়ে উঠল অন্ধকার সাম্রাজ্য, অন্তরালের মদদদাতা ও রমরমা নারী-মাদক বাণিজ্যের আদ্যোপান্ত, প্রভাবশালীদের ছায়াতলে চা বাগান থেকে ফাইভ স্টার