editor
প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২১

এম এ মতিনের অসামান্য অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণীত করবে : কামালী শাহ শেরওয়ান মোহাম্মদ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশনিয়েছিলেন তাঁরা যেমন জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান- তেমনই যুদ্ধকালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে যারা উৎসাহ-উদ্দীপনাসহ সাহস ও প্রেরণা যুগিয়েছিলেন এবং সহযোগিতা করেছিলেন তাঁরাও সহযোদ্ধার দাবীদার। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল দেশের মানুষেরা যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছিলেন, কবে কখন স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যাবে- মুক্তিযুদ্ধে না গিয়েও মুক্তিপাগল ছিলেন, রেখেছিলেন অসামান্য অবধান তাঁদেরও খুঁজে বের করে সম্মানিত করা উচিত।
একাত্তরে দীর্ঘ ন’মাসের যুদ্ধকালে ডিসেম্বরের শুরুতে যখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রুসেনামুক্ত হতে শুরু করছিলো তখন স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল মানুষদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যেমন বাড়তে শুরু করলো- তেমনই অনেকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে লাগলেন যে, মুক্তি আর বেশি দূরে নয়। সত্যি তাই, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলো- বিজয়ের লালসবুজ পতাকায় সয়লাব হলো সারাদেশ। কিন্তু এর মাঝেও কিছু স্মুতি, কিছু কথা থেকে যায়- আর তা হলো যারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা যুগিয়েছিলেন এবং বিভিন্নভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করেছিলেন- তারাও কিন্তু জানমালের ঝুঁকি নিয়েই অনেক কিছু করেছিলেন, তাদের সহযোদ্ধা-সহযোগি বলা উচিত।
এমনি একজন সাহসী সহযোদ্ধা মানুষের সন্ধান পাওয়া গেলো সিলেটের কুমারপাড়া এলাকায়- আর তিনি হচ্ছেন, রোটারিয়ান এম এ মতিন। সিলেটের মহাজন পট্টির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সামাজসেবী রোটারিয়ান এম এ মতিন মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের আবহ অনুমান করতে পেরে তড়িঘড়ি করে জনৈক ট্রেইলারের বাসায় গিয়ে ডিসেম্বরের শুরুতে বানিয়ে রেখেছিলেন- বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত ১৩টি লালসবুজ পতাকা। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা মুক্ত হতে দেখে তাঁর যেন আর তর সইছেনা কখন যে পতাকা উড়াবেন।
১১ ডিসেম্বর ভোর রাতে অত্যন্ত সংগোপনে ১৩টি পতাকা হাতে নিয়ে এম এ মতিন গেলেন, প্রতিবেশি আক্তার মিয়ার বাসায়। সেখানে গিয়ে তৎকালিন কিশোর আক্তার মিয়ার হাতে পতাকাগুলো দিয়ে বললেন- দেশ স্বাধীন হতে চলেছে! আক্তার মিয়ার বাসার বড়রা শুনে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন, এ আবার কোন বিপদ- স্বাধীনতা বিরোধী কেউ দেখে ফেললে নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু সবসময় রেডিও কানের কাছে রেখে খবর শুনা এম এ মতিন বললেন না- দেশের বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত হতে শুরু করেছে। বিবিসি’র খবরেও বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে পাকিস্তানী বাহিনীর ক্যাম্পে বোমা ফেলছে- দেশ স্বাধীন হতে চলেছে।
এম এ মতিনের এমনি উৎসাব্যঞ্জক কথাবার্তায় অনেকেই তাঁকে সাবধান করে দিতে লাগলো- কিন্তু এম এ মতিনের অবস্থা থেমে যাওয়ার মত নয়। ১১ ডিসেম্বর রাতে বিবিসি’র খবর শুনে পরদিন ১২ ডিসেম্বর ভোরে কুমারপাড়াস্থ নিজ বাড়ির টিনের চালে উঠে নিজেই বিজয়ের পতাকা উড়িয়ে দিলেন। এতেকরে অনেকের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিলেও এম এ মতিন ছিলেন অদম্য। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যারাতে বিবিসি’র খবর শুরু হতেই শিরোনাম শুনে জানতে পারল মিত্রবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা সিলেট শহরের কাছে এসে গেছে। এম এ মতিনকে আর থামায় কে? তিনি আতঙ্কে থেকেও শ্লোগান দিতে শুরু করলেন, স্বাধীন হলো স্বাধীন হলো- বাংলাদেশ স্বাধীন হলো… ‘জয় বাংলা, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’…!
বিজয়ের ৫১তম দিবস সমাগত। এম এ মতিন নিজেও ভুলতে বসেছিলেন- তাঁর একাত্তরের স্মৃতিকথা। কিন্তু গত ১১ ডিসেম্বর ‘সিলেট বিভাগ মানবাধিকার ঐক্য পরিষদ’ কর্তৃক সিলেট জেলা বার হল নং-২ এর ৪র্থ তলায় আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে হঠাৎ তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়- ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ সিলেটে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তেলনকারী হিসেবে। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ১৩ ডিসেম্বর বাদ এ’শা সিলেটে বিজয়ের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী এম এ মতিনকে ঘরোয়াভাবে এক সংবর্ধনা প্রদানের।
১৩ ডিসেম্বর সোমবার বাদ এ’শা সহযোগি আরেক পতাকা উত্তোলনকারী আলহাজ¦ আক্তার মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার ‘জলালাবাদ সিন্ডিকেট’র অন্যতম পরিচালক ও সিলেট প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য লন্ডন প্রবাসী রোটারিয়ান কামালী শাহ শেরওয়ান মোহাম্মদ, প্রধান আলোচক ছিলেন, জাতীয় দৈনিক ‘পুনরুত্থান’র সাবেক প্রধান সম্পাক ও সিলেট-১ নির্বাচনী এলাকার ২বারের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কলমযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ‘সিলেট বিভাগ মানবাধিকার ঐক্য পরিষদ’র সদস্য সচিব সৈয়দ আকরাম আল সাহান, বক্তব্য রাখেন, রোটারিয়ান রেবেকা জাহান রোজী, মানবাধিকার নেতা কামিল আহমদ, রোটারিয়ান শেখ নওশীন জাহান, মো. দিদারুল আলম, লাফাজ আল মাহমুদ, ল-ন প্রবাসী মিসেস জেবু রহমান, নিঘাদ নাহিদ আনজুম, নিঘাদ সীমা আফ্রিদা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য, লন্ডন প্রবাসী রোটারিয়ান কামালী শাহ শেরওয়ান মোহাম্মদ বলেন, এম এ মতিনের কৃতিত্বের এই তথ্য জানতে পেরে ঢাকা যাওয়া বিলম্বিত করে এখানে এসেছি- কারন মতিন ভাই আমার প্রিয়জন, তাঁর এই অসামান্য অবদান জাতির আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণীত করবে। প্রধান আলোচক কলমযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান বলেন, এম এ মতিনরা ঘরে ঘরে জন্মায় না, জীবনের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তৎকালে তিনি যে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন, তা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চাইতে কম নয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘সিলেট বিভাগ মানবাধিকার ঐক্য পরিষদ’র সদস্য সচিব সৈয়দ আকরাম আল সাহান বলেন, মতিন সাহেবরা ক্ষণজন্মা সাহসী মানুষ, রোটারিয়ান রেবেকা জাহান রোজী বলেন, মতিন ভাই আমার প্রিয়জন, কিন্তু তিনি যে এতো বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, তা আমার জানা ছিল না- এখানে এসে জানতে পারলাম, তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন।
পরিশেষে সংবর্ধিত এম এ মতিনকে ফুলের তোড়া উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে সবাই ঘরোয়া পীঠা উসবে যোগ দেন। বিজ্ঞপ্তি
5 মাসুম চৌধুরী: সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান
8 সিলেট মহানগর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মহানগরের দলীয় কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল ও
6 খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য সাউথ শাখার সভাপতি মাওলানা সাদিকুর রহমান বলেছেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে তারাই ফ্যাসিবাদ কায়েমের
1 রোটারি ক্লাব অব সিলেট সাউথের নতুন রোটারি বর্ষের প্রথম সাপ্তাহিক সভা নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত
2 সিলেট বিভাগের প্রতিটি থানায় প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য প্রবাসী হেল্প ডেস্ক চালু করা ও বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধের জন্য এক
1 পর্তুগালে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের সংগঠন ‘সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদ পর্তুগাল শাখা’র কার্যকরী কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
5 জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নগর সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউএনডিইএফ-এর অর্থায়নে এফআইভিডিবি-এর Young People Building
3 সিলেট নগরীর বড়বাজার বন্ধন ‘বি’ এলাকার বাসিন্দা ও পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মো. হায়দার আলীর চিকিৎসায় যৌথভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে