editor
প্রকাশিত: 4:34 PM, September 18, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের দক্ষিন সুরমা থেকে এয়ারপোর্ট ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহপরান গোটা নগরজুড়ে অবৈধ স্ট্যান্ডের দখলে। এতে করে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন পথচারিরা। আর যানজট তো লেগেই থাকে। নগরীর মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড। নগরীর প্রায় সবগুলো পয়েন্ট এখন একেকটা অটোরিকশা ষ্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। তিন পথের একটি মুখ পেলেই সেখানে বসানো হচ্ছে অবৈধ স্ট্যান্ড।
এ ছাড়া এসব সিএনজি অটোরিকশায় চলছে ‘টোকেন বাণিজ্য’। সিলেট জুড়ে অবাধে চলছে নাম্বার বিহীন অটোরিকশা। অবৈধ বা নম্বার বিহীন অটোরিকশা শুধু চলাচলই নয়, নম্বর বিহীন এসব অটোরিকশা ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকান্ড হচ্ছে প্রতিনিয়ত। গাড়ির নম্বর না থাকায় অপরাধ করে নিরাপদে থেকে যান অপরাধীরা। যার ফলে সহজে চিহিৃত করাও সম্ভব হয়না এসব অপরাধীদের ।
অবৈধ ষ্ট্যান্ড আর যত্রতত্র পার্কিংয়ের কারনে কারণে নগরীতে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির শিকার হলেও কর্তৃপক্ষ এসব ব্যাপারে উদাসহীন। অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করলেও ড্রাইভার শ্রমিকদের কারণে তার ফলাফল ভালো কিছু আসে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশেষ করে সিটি পয়েন্ট (কামরান চত্ত্বর), কোর্ট পয়েন্ট, আম্বরখানা, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেইট, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, মদীনা মার্কেট, রিকাবী বাজার পয়েন্ট, টুকের বাজার, টিলাগড় পয়েন্ট, ক্বীনব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ মুখ, কাজির বাজার ব্রিজের উত্তর ও দক্ষিণ মুখ, চন্ডিপুল পয়েন্ট, হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর, সাবেক অর্থমন্ত্রীর বাসা হাফিজ কমপ্লেক্সের বিপরীতের স্ট্যান্ডসহ প্রায় সব কটি পয়েন্টেই অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ষ্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় গোটা নগরীই যেন একটি সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড।
যত্রতত্র এসব অবৈধ ষ্ট্যান্ড গড়ে উঠার ফলে পথচারীরা যেমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, তেমনি যাত্রী সাধারণ হেনাস্থার কবলে পড়ছেন। বিশেষ করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সি গেইটে রোগী ও দর্শনার্থীরা পড়েন মারাত্মক বেকায়দায়। এই সমস্যা গুলো যেন দেখার কেউ নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অধিকাংশ সিএনজি অটো রিকশা চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এমনকি নেই গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন। কোন কোন চালক জড়িয়ে পড়েছে ছিনতাইকারী চক্রের সাথে। বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত এই সেক্টরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যেন কেউ নেই। নগরীর অভ্যন্তরে পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নগরবাসী।
জিতু মিয়ার পয়েন্ট মোড়ে কথা হয় অটোরিকশা যাত্রী শিল্পী বেগমের সাথে, তিনি জানান সেলফি ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর পাশে আসতে বাড়া দিতে হয় ১০ টাকা, তবে কোন সিএনজি অটোরিকশা ১০ টাকার কম যেতে চায় না। করোনা মহামারির কারণে সরকার ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করার পর চালকরা ডাবল নেয়া শুরু করে, সরকার আগের ভাড়া ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও সিলেটের অনেক চালকরা এখনো নিজেরাই ভাড়া বৃদ্ধি করে চলছেন।
নগরর ব্যস্ততম কোর্টপয়েন্টে ১০টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়ানোর মৌখিক অনুমতি দেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড ঝুলানো থাকলেও সেটি এখন লাপাত্তা। দশের বদলে শতাধিক অটোরিকশা ও হিউম্যান হলারের স্ট্যান্ড এখন কোর্টপয়েন্ট। সরজমিনে সিলেট নগর ঘুরে এদৃশ্য দেখা যায়। নগরে আনাচে-কানাচে রাস্তায় হয়েছে অবৈধ অটোরিকশা স্ট্যান্ড, হিউম্যান হলার ও লাইটেস স্ট্যান্ড। ফুটপাত দখল করে আছে হকার আর রাস্তার দখলে অটোরিকশা। এ ছাড়া যাত্রী উঠা-নামানোর প্রতিযোগিতায় দখল হয় রাস্তার অর্ধেক। যানবাহন পাশ কাটিয়ে চলতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হন পথচারিরা। সিলেটের যত্রতত্র অবৈধ স্ট্যান্ড বসায় যান চলাচলে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে সিলেটের সকল সড়ক-মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশন বিহীন অবৈধ অটোরিক্সা কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি ছাড়াই চলাচল করছে। বিশেষ করে সিলেট জেলার সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক, সিলেট-গোয়াইনঘাট সড়ক, সিলেট-কানাইঘাট সড়ক, সিলেট-জগন্নাথপুর রুটে চলাচলকারী অটোরিক্সার মধ্যে অবৈধ অটোরিক্সার সংখ্যা বেশি।
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বি.আর.টি.এ) এর নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো ধরনের যানবাহন সড়কে চলাচল করতে হলে অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে। এছাড়াও রোড পারমিট, ফিটনেস সার্টিফিকেট, ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে। এ সকল ডকুমেন্ট ব্যতীত কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করলে সেটি আইন অনুযায়ী অবৈধ যানবাহন। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আইনের ধারে কাছে না গিয়েও কাদের সহায়তায় সড়কে এসকল যান চলছে। এনিয়ে তারা বিস্তর অভিযোগও তুলে ধরেন। বিআরটিএর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
তবে অবৈধ অটোরিক্সা চলাচলে পুলিশের বিরুদ্ধে রমরমা বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ির কর্মকর্তারা ‘টোকেন’ এর মাধ্যমে অবৈধ অটোরিক্সাকে সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। এজন্যে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হয়। পুলিশের এই টোকেন বাণিজ্যের ফলে সড়কে দেদারছে চলছে অবৈধ অটোরিক্সা। তবে অবৈধ অটোরিক্সার বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে পুলিশের অভিযানও চলে।
প্রতিটি অটোরিকশা ৭০০টাকায় টোকেন নিয়ে নিরাপদে চলছে সিলেটের প্রতিটি রাস্তায়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী চালিয়ে দুই একটা সিএনজি অটোরিকশা আটক করলেও টোকেন প্রাপ্তরা রয়েছেন এর বাইরে। ওই টোকেনের একটি বড় অংশের ভাগ পান ট্রাফিক পুলিশ থেকে শুরু করে থানা পুলিশ ও হাইওয়েপুলিশ। জেলার সবক’টি উপজেলাসহ নগরীতে চলছে নম্বরবিহীন সিএনজি চালিত অটোরিকশা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা (বিআরটিএ) যথাসময়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অটোরিকশা চলাচলে প্রশাসন যেন কোনো বাধা না দেয় তার জন্য প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে অটোরিকশা মালিকদের কাছ থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। ‘পুলিশ টোকেন’র নামে প্রতি মাসে কোটি টাকার চাদাঁ আদায় করেন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ । পুলিশের টোকেন নিয়ে মফস্বলের গাড়ি চলে নগরীতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ এর অর্ন্তভুক্ত ৯৬ টি শাখা রয়েছে। বর্তমানে সিলেট জেলায় ২১ হাজার বৈধ সিএনজি আছে। এর মধ্যে সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ এর অর্ন্তভুক্ত আম্বরখানা শাখায় অন্তত ৫ হাজার নাম্বার বিহীন গাড়ি রয়েছে। এছাড়া শিবগঞ্জ (সাদিপুর)-জৈন্তা, গাছবাড়ি-কানাইঘাট, দক্ষিন সুরমা, শাহপরান, সুরমাগেইট শাখা গুলোতে চলছে রমরমা টোকেন বাণিজ্য। এই শাখার অধিনে শিবগঞ্জ (সাদিপুর) হতে জাফলং-জৈন্তা, গাছবাড়ি-কানাইঘাট, গোলাপগঞ্জ, বাগা-পরগনা এলাকায় ৫ সহস্রাধিক গাড়ি চলে। এসব শাখায় মাসিক ৭’শ টাকা হারে টোকেন পাওয়া যায়। কয়েকটি পুলিশ টোকেন সংগ্রহ করে দেখা যায় এলাকাভিত্তিক ইস্যুকৃত টোকেন গুলো কালো ও লাল রং এর আলাদা আলাদা এলাকার নাম ও সংগঠনের নাম। প্রতিমাসে টোকেন ইস্যু করা হয় বলে জানান ঐ রোডের অটোরিকশা চালকরা। এছাড়া এ ছাড়া নতুন গাড়ির জন্য এককালীন ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ও চালকদের দিতে হয় ১ হাজার থেকে ১৫’ শত টাকা। শুধুমাত্র শিবগঞ্জ-সাদিপুর শাখা অফিসেই নয় অন্যান্য শাখাতেও চলছে টোকেন বানিজ্য।
এমনকি প্রতিমাসে টোকেন নিয়েও হয়রানির শিকার হন মফস্বলের চালকরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, শিবগঞ্জ-সাদিপুর সিএনজি পাম্পে অটোরিক্সা শ্রমিক সংগঠনের নামে এভাবে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে একাধিক সংগঠনের নেতারা।
জানা যায়- এই টাকার একটি ভাগ সিলেট অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ৭০৭ অফিসে দিতে হয়। এসব পুলিশ টোকেনের টাকা শ্রমিক নেতা ও তাদের মনোনীত প্রতিনিধি (লাইনম্যান) সংগ্রহ করেন।
একাধিক সুত্র জানায়, প্রতিটি শাখায় নাম্বার বিহীন অটোরিকশা চালাতে সরাসরি সহযোগীতা করেন নগর ট্রাফিকের টিআইগণ। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট বখরার মাধ্যমে এসব নাম্বার বিহীন অটোরিকশা এইসব শাখায় চলছে বলে একাধিক চালক জানিয়েছেন।
নগরীতে অবৈধ ষ্ট্যান্ড উচ্ছেদের বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, ‘প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ অভিযান চলছে, সিসিকও আমাদের সাথে কাজ করছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে সম্প্রতি পুলিশের সাথে সিসিকের বৈঠক হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযানের কথা ছিলো, কিন্তু অনিবার্য কারণ বশত অভিযানটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাকারিয়া আহমদ বলেন, শহরের বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলো কোর্ট পয়েন্টসহ একাধিক পয়েন্টে যাত্রী উঠানামা করায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না। তবে সিসিক থেকে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড দিলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে জানান তিনি।
7 মিরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জীউর আখড়া পরিচালনা কমিটির ত্রিবার্ষিক সাধারণ সভা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় আখড়া নাক
6 বাংলাদেশের জাতীয় শ্রমিক জোট রেজি নং বা.জা.ফে. ৩৮ এর অন্তর্ভূক্ত সিলেট জেলা ব্যাটারি চালিত থ্রি হুইলার ইজি বাইক মিশুক
1 সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক প্রতিষ্ঠান সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের ‘মহিলা উপ-পরিষদ ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)
1 স্টাফ রিপোর্টার: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর বিয়ে না করে উল্টো
3 * জীবন ও নিরাপত্তার চরম ঝুঁকিতে ভুক্তভোগী পরিবার স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে প্রবাস ফেরত প্রভাবশালী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে জীবনের
8 স্টাফ রিপোর্টার: 8 সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) কর্মরত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও
1 শ্রীশ্রী রাধা কৃষ্ণ জিউ দেবতার মালিকানাধীন মূল্যবান দেবোত্তর সম্পত্তি ও টিলা কেটে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা চালিয়েছে কতিপয় ভূমিদস্যু।
7 ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে।