editor
প্রকাশিত: 11:06 AM, September 15, 2026
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দরকে ঘিরে চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন ও কথিত চাঁদাবাজির অভিযোগে যখন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তামাবিল পাথর আমদানিকারক গ্রুপের আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম শাহপরান।
ফলে প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগের প্রকৃত জবাব দেওয়ার পরিবর্তে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ ও বিতর্ক আড়াল করতেই কি এই সংবাদ সম্মেলন?
গতকাল সোমবার বিকেলে তামাবিল পাথর আমদানিকারক গ্রুপের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রফিকুল ইসলাম শাহপরান। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্যকে ভিত্তিহীন দাবি করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে শাহপরানের এই সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরেই নতুন করে সামনে এসেছে তার বিরুদ্ধে আগে ওঠা নানা অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তামাবিল স্থলবন্দর ও জাফলংয়ের পাথর-বালু ব্যবসাকে ঘিরে রফিকুল ইসলাম শাহপরানের প্রভাব দ্রুত বাড়তে থাকে। একই সময়ে আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাবশালী ছিলেন এমন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিকে পুনরায় ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করার চেষ্টা এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তামাবিল স্থলবন্দরকে ঘিরে কথিত চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন খাতে অনৈতিক অর্থ আদায়ের অভিযোগও আলোচনায় আসে।
শুধু তাই নয়, জাফলং পাথর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন এবং কথিত লুটপাটে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগেও একসময় রফিকুল ইসলাম শাহপরানের নাম সামনে আসে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলে তিনি আবারও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যখন অন্যদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তখন স্থানীয়দের প্রশ্ন শাহপরানের বিরুদ্ধে আগে ওঠা অভিযোগগুলোর কী হয়েছে? দলীয় শাস্তির মুখে পড়ার কারণই বা কী ছিল এবং পরবর্তীতে কী প্রক্রিয়ায় সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলো?
অভিযোগকারীদের দাবি, তামাবিল স্থলবন্দরকে ঘিরে প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে হলে শুধু সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য নয়, বরং বন্দরের বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায়ের হিসাব, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের তথ্য, পাথর-বালু উত্তোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা এবং সীমান্তপথে পণ্য চলাচলের বিষয়গুলোও তদন্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, তামাবিল স্থলবন্দর ও জাফলং এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী বলয় তৈরি হয়েছে। এই বলয়ের মাধ্যমে কারা লাভবান হচ্ছেন, কারা পুরোনো ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন এবং কারা চোরাচালান বা অবৈধ পাথর-বালু উত্তোলন থেকে সুবিধা নিচ্ছেন তা খতিয়ে দেখা জরুরি।তবে সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম শাহপরান এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে এগুলোকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হিসেবে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তামাবিল পাথর আমদানিকারক গ্রুপের কোনো নেতা বা সদস্য অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।
অন্যদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন, অভিযোগ যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হোক। আর অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কারণ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চোরাচালান, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগের সত্যতা-অসত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।তামাবিল স্থলবন্দর দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার হওয়ায় এখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হলে তার প্রভাব পড়বে ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পরিবহন খাত এবং সরকারি রাজস্বের ওপর। তাই শাহপরানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগসহ বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এখন প্রশ্ন একটাই চোরাচালান-চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের অভিযোগের জবাব কি সত্যিই সংবাদ সম্মেলনে মিলবে, নাকি নিজের ‘কীর্তি’ আড়াল করতেই এই প্রতিবাদী আয়োজন?এব্যাপারে জানতে রফিকুল ইসলাম শাহপরান এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ, বর্ণাঢ্য র্যালি
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করায় হাফেজ ইহতেশামুল হক হীরাকে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে
সিলেট বিভাগের শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থা সাবাস এর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) সিলেট নগরীর একটি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তৎকালীন কমিটি এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যথাযথ তদন্ত কমিটির তদন্ত ও সুপারিশের ভিত্তিতে
বিশ্বনাথে গত ২০ অক্টোবর একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মান্নান মিয়াকে আটক করতে গিয়ে স্থানীয় এক ইউপি
ফ্যান চালিয়ে, জানালার নেট আটকে কিংবা কয়েল ও স্প্রে জ্বালিয়েও রক্ষা মিলছে না। মশার উপদ্রবে সিলেট নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে এক
বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায়