admin
প্রকাশিত: 3:43 PM, December 28, 2020
নুরুল ইসলাম
আজ ২৮ ডিসেম্বর ২০২০। আর তিন দিন পর শুরু হবে নতুন বছর। দরজায় কড়া নাড়ছে ২০২১ সাল। নব উদ্যমে শুরু হবে নতুন বছর। কালের পরিক্রমায় শেষের পথে ৩৬৫ দিনের আরো একটি বছর। নতুন স্বপ্ন নিয়ে শুরু হবে ২০২১ সাল।
দিন যায়, বছর যায়। সময়ের বিবর্তনে হারায় অনেক কিছু। তেমনি চলে যাওয়া বছরে সিলেটবাসী হারিয়েছে অনেক গুণীজন, চিরচেনা মুখ; যারা তাদের জীবনে স্বমহিমায় ছিলেন উজ্জ্বল। প্রস্থানের পরও তাদের স্মরণ করবে সিলেটবাসী।
চলিত বছর সিলেটবাসীর জন্য শোকের বছর। করোনায় কেড়ে নিয়েছে অনেককে। তারা হারিয়ে গেছেন কালের অতল গহীনে আর ফিরবেন না। এখনো করোনার সঙ্গে অবিরাম লড়াই চলছে। ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন মানুষ। সিলেটের সব দুশ্চিন্তা প্রবাসীদের নিয়ে। নজর রাখছেন লন্ডন ও নিউ ইয়র্কে।
সরকারি হিসাব মতে চলতি ৯ মাসে সিলেটে করোনায় মারা গেছেন ২৬২ জন। দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় মৃতের সংখ্যা বেশি। করোনা কেড়ে নিয়েছে সিলেটের মানুষের প্রিয় নেতা, সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে। তার চলে যাওয়ার এক মাস পরই মারা গেলেন আরেক নেতা এমএ হক। দুই নেতাকে হারিয়ে এখনো শোকাহত সিলেটবাসী। তাদের শূন্যস্থান পূরণ হচ্ছে না, হওয়ার কথাও নয়। সিলেটের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন কামরান। সিলেটের সব দলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতা ছিলেন। করোনার শুরুতে ছিলেন লন্ডনে। ছোটো ছেলের বিয়ে দিয়ে এসেছেন। মুজিববর্ষের শুরুতে সিলেটে ফিরে আসার পরই শুরু হয় করোনার প্রাদুর্ভাব। ঘরে থাকতে পারেননি কামরান। লকডাউন শুরু হলে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে খাবার নিয়ে ছুটে গেছেন। রমজানের পরপরই মে মাসেই তার পরিবারে ছোবল বসায় করোনায়। স্ত্রী আসমা কামরান আক্রান্ত হন। স্ত্রী সুস্থ না হতেই কামরান আক্রান্ত হয়ে পড়েন। সময় দেয়নি করোনা। প্রথমে বাসায়, পরে সিলেটের কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে ঢাকার সিএমএইচ-এ নিয়ে যান। ১৫ই জুন সিএমএইচ-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কামরান। শোকাহত হয়ে পড়ে সিলেটবাসী। কামরানের মৃত্যুর পর সিলেটে করোনা আতঙ্ক আরো জেঁকে বসে। সিলেট বিএনপি’র শীর্ষ নেতা এমএ হক। ছিলেন দলের নেতাদের অভিভাবক। করোনাকালে তিনিও মানুষের সেবায় ছিলেন ব্যস্ত। নিউমুনিয়া হলে জুলাই মাসে তাকে সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কোভিড টেস্ট করানো হয়। পজেটিভ হওয়ার পর আর ফিরেননি। ১৫ই জুলাই চলে গেলেন এমএ হক। তার মৃত্যুতে সিলেটে শোক বিরাজ করছে। সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে দুই অভিভাবককে হারানোর পর সিলেটের রাজনীতি এখন অনেক ছন্নছাড়া। শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দুই পরিবার। সিলেটে করোনা শোকের যাত্রা শুরু করেছিলেন গরিবের ডাক্তার বলে খ্যাত ডা. মঈন উদ্দিন। করোনা কালেও তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সেবায় ব্যস্ত ছিলেন। রোগী সেবা করতে করতে নিজেই হয়ে পড়লেন করোনা আক্রান্ত। সিলেটের পর ঢাকায় চিকিৎসা নিলেও ফিরে আসতে পারেননি। করোনার কাছে হেরে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।
এছাড়াও আমরা হারিয়েছি সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আফম কামাল, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারের নার্স (পুরুষ) রুহুল আমিন, সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আলী আহমদ, প্রবীণ আইনজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ চৌধুরী আব্দুল্লাহ, বন্দরবাজারের ব্যবসায়ী আরএল ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী ইকবাল হোসেন খোকাসহ অনেক জ্ঞানী ও গুণীদের।
সেই থেকে দেখতে দেখতে সিলেটের মানুষ ২৬২ জন স্বজনকে হারালো করোনায়। এখনো করোনার সঙ্গেই চলছে প্রাণান্তকর লড়াই। প্রথম দিকে সিলেটে করোনা নিয়ে ছিল তীব্র আতঙ্ক। খোদ ডাক্তার পাড়ায় এই আতঙ্ক বেশি ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিকে করোনার ভয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল হাসপাতালের দরোজা। পিপিই সংকটের দোহাই দিয়ে অনেক ডাক্তার সেবা থেকে বিরত হয়ে পড়েন। এতে করে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনার উপসর্গ নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে সেবা পাননি রোগীরা। হাসপাতালের দরোজায় ঘুরে ঘুরে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে অনেকের মৃত্যু হয়। এর সঠিক কোনো পরিসংখ্যা নেই। তবে- অনেকেরই মতে, এই সংখ্যা হবে ৫শ’র বেশি। এ নিয়ে সিলেটে দেখা দিয়েছিল ক্ষোভ। লকডাউনে অচল থাকায় মানুষ আরো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটেছে ধীরে ধীরে। আগস্টে এসে মিলে স্বস্তি। করোনা চিকিৎসার সকল অভাব পূরণ হয় সিলেটে। প্রবাসীরাও উদ্যোগী হয়ে আসেন। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসিইউ ছিলো না। এখন সেখানে ১৬টি আইসিইউ। ১০ হাজার লিটার ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রথমদিকে ভয়ে ওসমানীতে ভর্তি করা হতো না করোনা রোগী। পরবর্তী সরকারের নির্দেশে ওসমানীতে কোভিড ওয়ার্ড প্রস্তুত করে রোগী ভর্তি করা হয়। সিলেটের খাদিমপাড়া ও দক্ষিণ সুরমায় ৮০ শয্যার দু’টি করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়। বেসরকারিভাবে সিলেটে মাউন্ট এডোরা, নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেয়া শুরু করে। ফলে স্বস্তি ফিরে সিলেটে। আগস্ট থেকে সিলেটে করোনা আক্রান্ত ও রোগীর সংখ্যা কমতে থাকে। মৃত্যুর মিছিলও কমে আসে। করোনা যুদ্ধে এখন শক্তি সঞ্চয় করেছে সিলেটের মানুষ। জীবিকার তাগিদে সবকিছু সচল। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তবে- করোনায় অনেক হারালো সিলেটের মানুষ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিসিবি’র পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলও আক্রান্ত হন। এছাড়া রাজনীতিক, সরকারি চাকরিজীবী, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারা অনেকেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি।
6 প্রেম ও দ্রোহের কবি, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সিলেটে ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নজরুল স্মরণ
8 সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের নতুন ৫ সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং নৈশভোজ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 7 শনিবার
4 সিলেটের জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের চলমান নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি নির্মাণসামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 2 এই
8 সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় সরকারি অনুমোদিত এলাকার বাইরে বিস্তৃত নদীপথে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। হাজিপুর, প্রতাপুর,
2 সরকারি নিলামের নথিপত্র (ওকশন পেপার) জালিয়াতি করে বারবার ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদকের চালান পার করার এক অভিনব কায়দা
4 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ভূয়া সাংবাদিক ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর চৌধুরী রিফাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্ম,
6 স্টাফ রিপোর্টার: ২০ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় অভিযুক্ত মোঃ আবদুল হামিদকে ৮ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও সমপরিমাণ ২০
7 শিক্ষকতা অত্যন্ত সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ পেশা মন্তব্য করে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি