admin
প্রকাশিত: 9:34 PM, August 25, 2024
স্টাফ রিপোর্টার
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলন শুরুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বিক্ষোভকারীদের হাতে থানা জ্বালিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে, ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এমনকি অস্ত্র লুটপাট হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার দেশের ৪৫০টিরও বেশি থানা ‘আক্রান্ত’ হয়েছে। শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং দেশ ছাড়ার পর বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজিত মানুষজন থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। কোন কোন থানায় হামলা ঠেকাতে গুলি এবং টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ দেশের বিভিন্ন থানায় রাতভর হামলা এবং লটুপাটের ঘটনা ঘটে। নিরপাত্তার কথা চিন্তা করে সেই সময় অনেক পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন থানা থেকে সরে যান। কিন্তু হামলাকারী ক্ষোভ থেকে পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ গ্রামের বাসা বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালান।
কোটা সংস্কার থেকে শুরু করে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের সময়কার সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪২ পুলিশ ও র্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্দোলনের সময়কার সংঘর্ষে বহু পুলিশ আহত ও নিহত হয়েছেন। আইজিপি বলেন, আহতদের মধ্যে শুধু রাজধানীর রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেই ৫০৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় গুরুতর আহত ২৭ জন পুলিশ সদস্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর আহত কর্মীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, আহতদের চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আইজিপি ময়নুল ইসলাম বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে (মোকাবেলায়) সরকারের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে পুলিশ। এতে একদিকে যেমন পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, তেমনি বহু পুলিশ সদস্য হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুলিশ ও র্যাবের ৪২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশকে কাজে ফেরানো নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ভিআইপি সড়কে কাজ শুরু করেছেন। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড় থেকে শুরু করে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত কাজ শুরু করেছেন তাঁরা।
জনগণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই আতঙ্কিত। এখনও দেশের কোনো একটি থানার কার্যক্রমও শুরু হয়নি। অধিকাংশ থানার ফটকে তালা ঝুলছে, পাহারায় আনসার সদস্যরা। সন্ধ্যার মধ্যে পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ ইউনিটে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও বেশির ভাগই তা মানেননি। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ১১ দফা দাবি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাজে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন পুলিশ সদস্যরা। এদিকে মাঠে পুলিশ না থাকায় সারাদেশে ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাটের কারণে জনমনে আতঙ্ক বেড়েছে। ডাকাতি-আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র এখন অপরাধীদের হাতে! এসব অস্ত্র দিয়ে তারা অপরাধমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগের হাতেও চলে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লুট হওয়া অস্ত্র। জানা গেছে- জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের লুট হওয়া প্রায় সহস্রাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই লাখের বেশি গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশ বলছে এগুলো উদ্ধারে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চলছে। তবে সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় পুলিশ চিন্তিত।
গত ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন হয়। ছাত্রজনতার আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন স্থানে দুষ্কৃতকারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ সারা দেশে ৪৬০টি থানায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১৪টি থানা-ফাঁড়িতে। এর মধ্যে শুধু আগুন দেওয়া হয়েছে ৫৮টিতে। ঢাকা মহানগরে ১৩টি থানা আক্রান্ত হয়েছে। আন্দোলনের সময় সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪২ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সরকার পতনের পর বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িসহ পুলিশের নানান স্থাপনা থেকে ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। গোলাবারুদ লুট হয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের রাইফেল, এসএমজি (স্মল মেশিনগান), এলএমজি (লাইট মেশিনগান), পিস্তল, শটগান, গ্যাসগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, কাঁদানে গ্যাসের শেল, কাঁদানে গ্যাসের স্প্রে, সাউন্ড গ্রেনেড ও বিভিন্ন বোরের গুলী। লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে গত ৪ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযান শুরু হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর জানান, লুট হওয়া অধিকাংশ অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রতিদিনই কিছু না কিছু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। সর্বোচ্চ গুরুত্বদিয়ে যৌথবাহিনীর সম্বয়ে অভিযান অব্যহত আছে। এ অভিযান চলমান আছে। শিগগিরই খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হবে বলে আশা করেন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তাইনমুল হক সাগর বলেন, একটি অস্ত্রও উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তারপরও অস্ত্র উদ্ধার পুরোপুরি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মাথা ব্যথা তো অবশ্যই আছে। লুট হওয়া অস্ত্রগুলো কারও হাতে গেলে অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সেজন্য উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। এদিকে, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুর কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে পলাতক আসামীদের মধ্যে ২৭ জনকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি বলে কারা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
1 সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় বর্তমান সরকার দেশব্যাপী ব্যাপক
6 সিলেট নগরীর ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক এলাকা আম্বরখানাস্থ চায়না মার্কেট ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির ২৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। টানা
4 ৬৭ বছর ধরে একটা সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে পূবালী ব্যাংক। দেশের আর্থিক সেক্টরে যে কোন ক্রাইসিস মোকাবেলায়
1 সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির জীবন সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদী
8 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি খোলস বদলে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধ ‘বুঙ্গা’ (চোরাচালান) ব্যবসা চালিয়ে
1 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী হরিপুর রুট ব্যবহার করে এহিয়া, নুরুল এবং আমিন মোল্লা সিন্ডিকেটের ‘শপিং ব্যাগ ফর্মুলা’র
1 আরেক পার্টনার খলিলের নাম সামনে, অপকর্মে ব্যবহার হচ্ছে পুরোনো নিলামের কাগজ বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের সীমান্তজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবে গড়ে
8 স্টাফ রিপোর্টার: রাজনীতির পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালানের চাবিকাঠি। গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায়