editor
প্রকাশিত: ৯:১০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
এমারসন বলেছেন- অনেকেই ভোট দেয় না এইভেবে যে, একটা ভোট না পড়লে কি আর এমন ক্ষতি? কিন্তু ভাবা উচিত আরো একটু এগিয়ে একটা ভোট পড়লেও তেমন কোন ক্ষতি নেই। বাংলাদেশের সংবিধানে দেশে নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্যের পরিসীমা সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সংবিধানের ২৬নং অনুচ্ছেদ থেকে ৪৭ এর ক অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকদের অধিকার বলা হয়েছে। অধিকারগুলো হলো- আইনের চোঁখে সবাই সমান। ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ, জন্মস্থান ও নর-নারীর সমান অধিকার। অধিকারকে প্রথমত দুইভাবে ভাগ করা যায়। ১. নৈতিক অধিকার, ২. আইনগত অধিকার। আবার আইনগত অধিকারকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। ক) সামাজিক অধিকার, খ) রাজনৈতিক অধিকার, গ) অর্থনৈতিক অধিকার। রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে- জনগণ রাষ্ট্র সেবার কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। রাজনৈতিক অধিকার যত বিস্তৃত থাকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অধিকার তত প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে পড়ে- নির্বাচনের অধিকার। যা আমাদের নাগরিককে মর্যাদার অধিকারী করে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকার করার নামই জনসেবা। নির্বাচনী প্রতিন্দ্বন্ধীরা নিজেদের প্রচারপত্র ব্যানার, ফ্যাস্টুন, পোস্টার, লিফলেটে লেখা থাকে, আমাকে ভোট দিয়ে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিন। আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত স্লোগান ‘আমার ভোট আমি দোবো, যাকে খুশি তাকে দোবো’। আমার ভোট আমি দেবো, সে কথা সত্য, কিন্তু যাকে খুশি তাকে দিবো কেন? যাকে ইচ্ছা তাকে দিবো বলে দুর্নীতির পথ বের হচ্ছে। দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের বৃত্ত (পরৎপষব ড়ভ সড়হবঃধৎু পরৎপঁষধঃরড়হ) সৃষ্টি হয়। যেসব ভোটাররা আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ভোট দেন তারা খেয়ানতকারী। জনগণ যদি ভোট প্রয়োগ করার আগে একটু ভাবেন যে, কাকে ভোটটা দেবো? আমানত কারীকে নাকি খেয়ানত কারীকে? ভোটার যদি দায়িত্বশীল হন তাহলে যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিতে ভয় কিসের? এক্ষেত্রে জনগণের স্লোগান হউক ‘প্রার্থী যদি যোগ্য হয়, ভোট দিতে কিসের ভয়’।
প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। একটি ভোটের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। একজন সুনাগরিকের একটি ভোট ৪টি অর্থ বহণ করে। যেমন- ১. প্রতিনিধি নিয়োগ করা- ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে প্রার্থীকে ভোটদাতার পক্ষ থেকে প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাব করা। জাতীয় পর্যায়ে বিষয়টি আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কাউকে প্রতিনিধি বানালে তার লাভ-ক্ষতি শুধু নিজের উপরই বর্তায়। কিন্তু কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ তাকে পুরো জাতির প্রতিনিধি নিযুক্ত করা। যার লাভ-ক্ষতি পুরো জাতিকেই ভোগ করতে হয়। প্রার্থী বিজয়ী হয়ে যত অপরাধ ও দুর্নীতি করবে তার পাপের বোঝার একটি অংশ ভোটদাতাকেও বহণ করতে হবে।
২. সাক্ষ্য দেওয়া- কোন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অর্থ হচ্ছে ঐ প্রার্থী তার দৃষ্টিতে সৎ ও যোগ্য। দেশ ও জাতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে তিনি সর্বাধিক উপযুক্ত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে অবিচল থাকবে এবং কোন সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্যেষ তোমাদের কখনো সুবিচার না করতে প্ররোচিত না করে, সুবিচার করো। এটা আত্মসংযমের নিকটতর এবং আল্লাহকে ভয় করো, তোমরা যা করো, আল্লাহ তার খবর রাখেন’ (সুরা: মায়েদা, আয়াত:০৮)। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট না দিয়ে কোনরূপ সম্পর্ক বা অন্য কোন কারণে অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া মিথ্যা সাক্ষী হিসেবে গণ্য হবে। টাকার বিনিময়ে কোন অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে একসঙ্গে দুটি গুনাহ হবে। একটি মিথ্যা সাক্ষী দেয়া, অপরটি ঘুষ গ্রহণের জন্য। ৩. সুপারিশ করা- ভোট দেয়ার আরেকটি অর্থ হচ্ছে প্রার্থীর জন্য এই মর্মে সুপারিশ করা যে, দেশ ও জাতির উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে তিনি সর্বাধিক যোগ্য। বৈধ কাজের জন্য সুপারিশ করলে সুপারিশকারী সওয়াব পাবে এবং অবৈধ কাজের জন্য সুপারিশ করলে গুনাহ হবে। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, কেউ ভালো কাজের সুপারিশ করলে ওতেও তার অংশ থাকবে এবং কেউ মন্দ কাজের সুপারিশ করলে ওতেও তার অংশ থাকবে। বস্তুত মহান আল্লাহ সর্ববিষয় লক্ষ্য রাখেন (সুরা: নিসা, আয়াত: ৮৫)। সুতরাং যে ব্যক্তি অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলো, সে যেনো অবৈধ কাজের জন্য সুপারিশ করলো। ফলে ভোটদাতাকে প্রার্থীর অন্যায় অপরাধের পাপের বোঝা বহন করতে হবে। ৪. আমানত প্রাপকের কাছে ফিরিয়ে দেয়া- প্রতিনিধি নিয়োগের অধিকার মহান আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে মানুষের কাছে আমানত স্বরূপ। আমানতের জিনিষ তার প্রকৃত পাওনাদারের নিকট হস্তান্তর করতে হয়। আল কোরআনে মহান রব নির্দেশ দিচ্ছেন যে, আমানত তার মালিককে প্রত্যার্পন করবে, আর তোমরা মানুষের মধ্যে ন্যায়-পরায়নতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদের যে উপদেশ দেন তা কত উৎকৃষ্ট। নিশ্চই আল্লাহ সর্বশ্রোতা দ্রষ্টা (সুরা: নিসা, আয়াত: ৫৮)। আমানতকৃত বস্তু তার যথার্থ প্রাপকের কাছে না পৌছানো খেয়ানত। রাসূল (সা:) বলেন, যার মধ্যে আমানতকারী নাই। তার মধ্যে ঈমান নাই (রায়হাকী)।
নির্বাচনে ভোট দেয়া একজন ভোটারের পবিত্র আমানত। যাকে তাকে ভোট দেয়া সুনাগরিকের দায়িত্ব নয়। তাই চিন্তাভাবনা করে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়া ভোটারের নৈতিক দায়িত্ব। নাগরিকের সুচিন্তিত মতামত প্রয়োগের উপর নির্ভর করে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায় দিবেন। তন্মেধ্যে ১. গণভোট ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’, ২. জনপ্রতিনিধি নির্বাচন। কাজেই এই দ্বৈত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ভোটারদেরকে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে, তবেই আগামী বাংলাদেশ একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
লেখক: বেলাল আহমদ চৌধুরী
কবি ও কলামিস্ট
মোবাইল ঃ ০১৭১১-৩১১৯২০
2 বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ
2 চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হবে। 4 শনিবার (১৮ এপ্রিল) শিক্ষা
8 সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেছেন, জনগণের সেবা
5 সিলেট রেড ক্রিসেন্ট নার্সিং কলেজের উদ্যোগে ‘ফুড ফেয়ার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাদ আসর সিলেটের চৌহাট্টাস্থ রেড ক্রিসেন্ট
6 গোয়াইনঘাটের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন গোয়াইনঘাট প্রবাসী সমাজকল্যাণ পরিষদ ইউকে শাখার ৮৭ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। 7
4 সিলেট জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার
7 বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সিলেট জেলা জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর উদ্যোগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
8 স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কলেজ অডিটোরিয়ামে উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।