editor
প্রকাশিত: 11:45 AM, August 20, 2026
সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।
বরং অভিযোগ উঠেছে, আগের মতোই বহাল তবিয়তে নৌপথে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে আব্দুল আলিম ওরফে আলিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন একটি চক্র।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গোয়াইনঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি বল্গেট থেকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা আদায়ের পর চক্রটির সদস্যরা নৌযানগুলোকে সালুটিকর পর্যন্ত পৌঁছে দিচ্ছে। এতে নৌপথে পণ্য পরিবহনকারী শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী নৌযান শ্রমিকদের দাবি, শুধু একজন-দুজন নয়, আলিমের নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন সদস্য রয়েছে। তারা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন নৌযানে উঠে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এর আগে গত ১৬ জুন সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের রাগীব আলী মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক সংগঠন গোয়াইনঘাটের সভাপতি সুমন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে নৌপথে সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি ও শ্রমিকদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়েছিল, গত ১৩ জুন গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালু আনতে গেলে একদল চাঁদাবাজ জাহাজে উঠে শ্রমিকদের ভয়-ভীতি দেখায়। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৪ জুন বিকেলে গোয়াইনঘাটে শ্রমিক সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে সমাধানের লক্ষ্যে শ্রমিক ও নেতৃবৃন্দ আলোচনা সভায় বসেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিক সেই সময় আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে ট্রলারযোগে সেখানে এসে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন বলে অভিযোগ করেন তারা।
শ্রমিকদের আরও অভিযোগ, হামলার পর তারা গোয়াইনঘাট থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ কোনো আইনি সহযোগিতা করেনি। উল্টো তাদের থানার বারান্দা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এমনকি ছাতক নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে বারবার নিরাপত্তা চেয়েও কোনো কার্যকর সুরাহা পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, গোয়াইনঘাট থেকে শুরু করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুট পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে তারা নিয়মিত চাঁদাবাজ চক্রের হাতে হেনস্থা ও মারধরের শিকার হচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশের নামে ৫ হাজার টাকা, ইউনিয়ন ট্যাক্সের নামে ২ হাজার টাকা এবং হিজড়াবাহিনী দিয়েও জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ-এর ইজারাদারদের বিরুদ্ধেও দ্বিগুণ ও অবৈধ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন শ্রমিকরা। গোয়াইনঘাট থেকে কিছুটা সামনে গেলেই প্রতি ফুট হিসেবে ১ টাকা করে কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর সালুটিকর ও বাধাঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে শ্রমিকদের মারধর করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং ছাতক এলাকায় পৌঁছালে আবারও বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে এককালীন ৮ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
গত ১৪ জুন নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল।কিন্তু সংবাদ সম্মেলনের পরও চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নৌপথে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? আর কার ছত্রচ্ছায়ায় এত বড় একটি চক্র দিনের পর দিন নৌযান থেকে চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে?
শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে নৌপথে চাঁদাবাজি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এতে শুধু শ্রমিকরাই নয়, নৌপথে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শ্রমিকরা প্রশাসনের কাছে চারটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো সিলেটের গোয়াইনঘাটে দ্রুত একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে। রাতে লোড পয়েন্টগুলোতে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে।সব ধরনের অবৈধ চাঁদা ও ‘মার্কা’র নামে চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।সরকারি নিয়মের বাইরে বিআইডব্লিউটিএ-এর নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।
শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অনতিবিলম্বে নৌ-সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে তারা যেকোনো সময় সব ধরনের পণ্য পরিবহন বন্ধ করে যুগপৎ কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন। একই সঙ্গে সিলেটের গোয়াইনঘাটকে ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ ‘অনিরাপদ এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করার কথাও জানিয়েছেন তারা। নৌযান শ্রমিকরা তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), নৌ পুলিশ প্রধান, সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, অভিযোগের পর অভিযোগ, লিখিত আবেদন ও সংবাদ সম্মেলন—সবকিছুর পরও যদি নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধ না হয়, তাহলে এর পেছনে কারা রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এ ব্যপারে জানতে আলিম উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,আমি এ ব্যপারে কিছু জানিনা।
7 সিলেট শহরতলীর ধোপাগুল এলাকায় ফেলুডা ব্যবসায়ীদের হয়রানী করার প্রতিবাদে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ধোপাগুল
1 আসছে দিন সমূহে আর কেউ নগদ টাকা বহন করবে না সবার কাছে থাকবে একটি করে কিউ আর কোড। ব্যাংকের
6 বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে গুণগত মানোন্নয়ন ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা
8 সিলেট জেলা যুবদলের নতুন আংশিক কমিটির সভাপতি মকসুদ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু এবং মহানগর যুবদলের সভাপতি
3 স্বপ্নচূড়া ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সিলেট-এর ২০২৬-২৮ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। 6 সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা এবং
4 সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন নোমান আহমদ। এ উপলক্ষে
8 আব্দুর রহমান: 7 সিলেট নগরীর গণপরিবহনের অন্যতম প্রধান বাহন সিএনজিচালিত অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতিদিনের
1 সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনেই গড়ে উঠেছে কথিত অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড। আর এই স্ট্যান্ডকে ঘিরে নুরুল আমিন, মামুন, ইয়ামিন