editor
প্রকাশিত: 1:04 PM, October 10, 2026
দেশব্যাপী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে বিশেষ পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু করেছে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। তৃণমূল পর্যায় পুনর্গঠনের এই ধারাবাহিকতায় শীঘ্রই ঘোষণা হতে যাচ্ছে সিলেট জেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি। আর এই গুরুত্বপূর্ণ পদটিতে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাকালের রাজপথের অগ্রসৈনিক, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক।
পঁচাত্তর-পরবর্তী জাতীয়তাবাদী দর্শনে বিশ্বাসী রাজপথের এই বীরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস, ত্যাগ ও কর্মীবান্ধব ভাবমূর্তি সিলেট জেলা বিএনপিকে এক নতুন শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাধারণ নেতাকর্মী ও তৃণমূল।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সিলেটের অবস্থান বরাবরই অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করার পর সিলেটে দলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপনে যেকজন ত্যাগী ও দূরদর্শী নেতা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক অন্যতম। শহীদ জিয়ার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ও সান্নিধ্যে সিলেটে জাতীয়তাবাদী ভাবধারার শুভ সূচনা ঘটেছিল। দল গঠনের পর জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচিকে সম্বল করে সিলেটের পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়ান তৎকালীন উদীয়মান এই নেতা। সে সময় তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা, আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ জেলা ও থানা কমিটি গঠনে তিনি প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দিনরাত কাজ করেন। তাঁর নিরলস পরিশ্রম ও দক্ষতার বলেই স্বল্প সময়ে সিলেট অঞ্চল বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়।
আশি ও নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন থেকে শুরু করে দেশের যেকোনো রাজনৈতিক সংকটে সিলেটে বিএনপির আন্দোলনের মূল প্রাণপুরুষ ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিলে যৌথ আন্দোলন ভেঙে যায় এবং এককভাবে রাজপথে আন্দোলনের দায়িত্ব নেয় বিএনপি। সে সময় বেগম খালেদা জিয়াকে ঢাকায় গৃহবন্দী করা হলে এর প্রতিবাদে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ সিলেট সফরে আসলে জিন্দাবাজার পয়েন্টে এরশাদকে লক্ষ্য করে পরপর দুই বার জুতা নিক্ষেপ করে এক নজিরবিহীন ও সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবাদের জন্ম দেন আব্দুর রাজ্জাক।
পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া নিজ উদ্যোগে আব্দুর রাজ্জাককে ঢাকায় এনে শহীদ জিয়ার ভাই কামালের বাসভবনে তিন দিন আত্মগোপনে রাখেন এবং পরবর্তীতে আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধান করেন। শুধু তাই নয়, এরশাদ সরকারের আমলে সারা দেশে প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আব্দুর রাজ্জাকের সাহসিকতায় সিলেটে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সামনে প্রকাশ্যে বেগম জিয়াকে নিয়ে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই রাতে হিলটাউন হোটেল থেকে বেগম জিয়াকে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হলে তাঁকে প্রথমে রায়নগরে এবং রাত তিনটায় আব্দুর রাজ্জাকের নিজ বাসায় নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিগত দিনগুলোর কঠিন আন্দোলন-সংগ্রামেও রাজপথে আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতি ছিল সর্বদা দৃশ্যমান। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের প্রতিটি লড়াইয়ে প্রবীণ এই নেতাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। সিলেটে আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে প্রথম শহীদ হওয়া সংবাদকর্মী এটিএম তুরাব যে মিছিলের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, সেই ঐতিহাসিক মিছিলটির নেতৃত্বেও ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক। সিলেটের রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে সুপরিচিত, যার হাত ধরে বিগত চার দশকে তৈরি হয়েছেন হাজার হাজার রাজপথের নেতাকর্মী।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শে অটল থাকা এই প্রবীণ ব্যক্তিত্ব বৃহত্তর সিলেট জেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, দুই বার জেলা যুবদলের সভাপতি, শহর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মুক্তিযোদ্ধা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সিলেটে একের পর এক নেতার বিভিন্ন পদে মূল্যায়ন হলেও ত্যাগী ও প্রবীণ এই বীর মুক্তিযোদ্ধা এখনো জেলা বিএনপির শীর্ষ পদের মূল্যায়নে বাকি থেকে গেছেন। সিলেটের সর্বস্তরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, এবার সিলেট জেলা বিএনপিকে সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রবীণ এই নেতাকেই বেছে নেবে। তরুণ নেতৃত্বের কাছে রাজনৈতিক সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার প্রতীক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাককে সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হলে জেলায় বিএনপি নতুন গতি পাবে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ, ফ্যাসিবাদের নির্মূল এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জমিয়তে
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন (জিশিস) এর কেন্দ্রীয় সহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর, জেলা ও শাবিপ্রবি’র যৌথ উদ্যোগে সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টায়
সিলেট মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজবাড়ী প্রিমিয়ারলীগ-২০২৬ (RPL) সিজন-১১ এর প্লেয়ার ড্রাফট এবং ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। আসন্ন
সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. করিম মাহমুদ
আগামী সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে আগাম ভোটের হাওয়া। যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক
শীর্ষ নেতৃত্বের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সিলেট জেলা বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। জেলা
দেশব্যাপী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে বিশেষ পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু