editor
প্রকাশিত: 10:59 AM, November 2, 2026
সিলেট নগরের যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল। কিন্তু উদ্বোধনের সাত বছর পর এসেও এই মেগা উদ্যোগের কোনো সুফল পাচ্ছেন না নগরবাসী।
কোটি কোটি টাকা খরচ করে সুদৃশ্য অবকাঠামো ও নান্দনিক সুবিধা তৈরি করা হলেও টার্মিনালটিতে ট্রাক রাখছেন না চালকেরা। এর দায় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সিসিকের কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এই কোটি টাকার প্রকল্প।
সিলেট নগরের জিরো পয়েন্ট থেকে ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পারাইরচক এলাকায় নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের আয়তন ৮ একর ৭৭ শতক। সেখানে একসঙ্গে ৪৫০টি ট্রাক পার্কিং করার সুব্যবস্থা রয়েছে। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সুবিশাল এই টার্মিনালে ঢোকার মুখে সাকুল্যে ১৪টির মতো ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরের সুবিশাল প্রাঙ্গণ একদম ফাঁকা।
২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর তৎকালিন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মেয়াদে জমি অধিগ্রহণ, দোতলা বিশ্রামাগার নির্মাণসহ সুবিশাল অবকাঠামোর কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৯ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে টার্মিনালে কিছু মানুষের উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা আর আড়ালে গিয়ে প্রস্রাব করার মতো দৃশ্য ছাড়া কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। মো. লায়েক নামের এক চালক জানান, তিনি পাশের এক মালিকের ট্রাক চালান বলে বাধ্য হয়ে নিয়মিত পার্ক করেন, তবে দিনে গড়ে ১৩ থেকে ১৪টির বেশি ট্রাক এখানে কোনো দিনই দেখা যায় না।
টার্মিনালটি কার্যকর না হওয়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভৌগোলিক দূরত্ব ও সুযোগ-সুবিধার অভাব। নগরের মূল কেন্দ্র কালীঘাট পাইকারি বাজার, কিনব্রিজ এলাকা ও সোবহানীঘাট সবজি বাজার থেকে পারাইরচকের দূরত্ব প্রায় ৮-৯ কিলোমিটার। ফলে চালকেরা অত দূর গিয়ে ট্রাক রেখে নগরে যাতায়াত করতে চান না।
এ ছাড়া টার্মিনালের আশপাশে বসতি কম, ভালো কোনো রেস্তোরাঁ কিংবা চালকদের জন্য মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। নিরিবিলি এলাকা হওয়ায় চালকেরা সেখানে রাতে গাড়ি রাখতে নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। নগরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে অবাধে ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল ওঠানামা করানো হলেও ট্রাফিক বিভাগ কিংবা সিসিকের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়নি।
টার্মিনাল চালুর পর প্রতিবছর এটি ইজারা দেওয়া হলেও এর ব্যবহার না থাকায় সিসিকের রাজস্বে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে মেসার্স আনিকা ট্রেডিং ১৬ লাখ ১৫ হাজার টাকায় টার্মিনালটি ইজারা নিয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় মাত্র ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকায়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি এটি ইজারা পেয়েছেন মাত্র ৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়।
রাজস্ব কমার মূল কারণ সিসিকের নীতিগত সিদ্ধান্ত। অতীতে সিসিকের ইজারাদারা টার্মিনালের বাইরে নগরের বিভিন্ন সড়কে অবৈধভাবে পার্ক করা ট্রাক থেকেও চাঁদা বা ফি তুলতেন। সিসিক সেই সুযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় এখন কেবল টার্মিনালে আসা গাড়ি থেকেই ফি আদায় করতে হয়। কিন্তু টার্মিনালে গাড়ি না আসায় ইজারাদারদের লোকসান গুনতে হচ্ছে, যার ফলে সিসিকও কাক্সিক্ষত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। লোকসান পোষাতে বিগত দুই বছর ধরে ঈদুল আজহার সময় সিসিক টার্মিনালে ১০ দিনের জন্য অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে বাড়তি আয়ের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব জানান, নগরের সড়ক থেকে ফি আদায় বন্ধ হওয়ায় এবং টার্মিনালের দূরত্ব বেশি হওয়ায় ইজারাদারেরা আর আগের মতো উচ্চ মূল্যে দরপত্র দিচ্ছেন না।
অন্যদিকে, সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী স্বীকার করেছেন যে, শহর থেকে দূরে হওয়ায় চালকেরা এখানে আসতে চাইছেন না। তবে কীভাবে টার্মিনালটিকে কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে বর্তমানে তারা ভাবছেন।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ চালক ও নগরের বাসিন্দারা। পাঁচজন ট্রাকচালক জানান, নগরের অভ্যন্তরে সড়ক জুড়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রতিদিন তীব্র যানজট ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল বানিয়ে যদি সড়কই অবরুদ্ধ থাকে, তবে সেই প্রকল্পের যৌক্তিকতা কোথায়? কোনো সুনির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা বা কার্যকর রোডম্যাপ ছাড়া সিসিকের এই উদাসীনতা ও পরিকল্পনাহীনতার কারণেই আজ সিলেট কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনাল ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী সিলেট নগরীসহ গোটা সিলেট বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, বৈষম্য নিরসন এবং দীর্ঘদিনের লালিত অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে রাজপথ থেকে শুরু করে অলিগলি। কে হবেন নগরপিতা আর কার হাতে
সিলেট নগরের যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল বিশাল
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে স্পেনে পাঠানোর নামে জাল কাগজপত্র তৈরি ও কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ভয়াবহ অভিযোগ
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে রেজিস্ট্রেশন এবং রুট পারমিট প্রদানপূর্বক বৈধভাবে চলাচলের আইনি স্বীকৃতি
গোলাপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শহীদ জিলু আহমেদ দিলুর ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে মিলাদ
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সিলেট আগমনের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছে
সিলেটের মার্শাল আর্টের জন্য গৌরবের খবর। চীনের বিশ্ববিখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠানে ৫০ দিনের উচ্চতর উশু কোচ প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশ