editor
প্রকাশিত: 6:41 PM, August 10, 2021

নক্ষত্রের আলোয় পথ হারাবে না বাংলাদেশ
নক্ষত্র নিজের আলোয় মহীয়ান। নিজের আলো ছড়িয়ে সে সমগ্র নক্ষত্রজগেক আলোকিত করে। ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ ভাগের পর আমরা ছিলাম পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী দ্বারা নিষ্পেষিত ও নিপীড়িত। আমাদের ছিল না বাকস্বাধীনতা, ছিল না মৌলিক অধিকার এবং চাকরিতে যোগ্যতাভিত্তিক সুযোগ। সব কিছুই নিয়ন্ত্রিত হতো পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছায়। এমন যখন দেশের অবস্থা, ঠিক তখনই বাঙালি জাতির জীবনে আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভূত হন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সঠিক নেতৃত্বে ও অবিচল লক্ষ্য বাঙালি জাতিকে দিয়েছে একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখণ্ড। এই শোকাবহ আগস্ট মাসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই অবিসংবাদিত নেতাকে, যিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময় পার করেছেন এ দেশের নিপীড়িত মানুষের মুক্তি ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে। সংগ্রামের এই দীর্ঘপথ মোটেই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। জীবনের ১২ বছরের বেশি সময় তিনি কাটিয়েছেন জেলহাজতে, ১৮ বার কারারুদ্ধ হয়েছেন, ২৪টি মামলায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছেন, দুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। তার পরও তিনি আপস করেননি। কোনো সুবিধা বা লাভের হাতছানি তাঁর সেই চেষ্টা বা উদ্যমকে দমাতে পারেনি। বিপুল সমস্যার আবর্তে পড়ে বিশ্বাস হারাননি তিনি নিজের ওপর, বিশ্বাস হারাননি মানুষের ওপর। কখনো সরে আসেননি শোষণ-বঞ্চনা ও নিপীড়নবিরোধী ভূমিকা থেকে।
২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছর। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগ এখন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে গিয়ে আমাদের নতুন প্রজন্মকে উপলব্ধি করতে হবে যে স্বাধীনতা মানে শুধু পরাধীনতা থেকে মুক্তি নয়, নতুন একটি উন্নত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে বৈধ ও নৈতিক ইচ্ছার স্বাধীনতা। রাজনীতির স্বাধীনতা এবং অবশ্যই অর্থনৈতিক মুক্তি। আর এই মুক্তির দিশারি বাঙালি হৃদয়ের চিরভাস্বর নক্ষত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর জীবনাদর্শের আলোয় মসৃণ হোক আমাদের আগামীর পথচলা।
বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির একুশতম পৃষ্ঠায় জাতির জনকের পিতা শেখ লুৎফর রহমানের উপদেশ বাণী ছিল “বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ এ তো সুখের কথা, তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না শিখলে মানুষ হতে পারবে না। আর একটা কথা মনে রেখ, ‘ংরহপবৎরঃু ড়ভ ঢ়ঁৎঢ়ড়ংব ধহফ যড়হবংঃু ড়ভ ঢ়ঁৎঢ়ড়ংব’ থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না।” সন্তান হিসেবে পিতার এই উপদেশ বঙ্গবন্ধু অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন। তিনি সর্বদাই শিক্ষাকে দেশের উন্নয়নে প্রধান অবলম্বন হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ১৯৭৩ সালের ১৯ আগস্ট সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘বাবারা, একটু লেখাপড়া শেখো। যতই জিন্দাবাদ আর মুর্দাবাদ করো, ঠিকমতো লেখাপড়া না শিখলে কোনো লাভ নেই।’ তিনি তাঁর সন্তানদেরও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। তাঁর নাতি-নাতনিরাও অসাধারণ ধীশক্তিসম্পন্ন ও উচ্চশিক্ষিত। যার ফলাফল বাংলাদেশের মানুষ পাচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা বিস্তারে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ভূমিহীন মানুষের জন্যও জননেত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার ‘আশ্রয়ণ’ শুধু গরিবের মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়; বরং নিঃস্ব মানুষের কর্মযজ্ঞের নীরব অর্থনৈতিক অঞ্চল।
উদ্দেশ্য আন্তরিক ও সৎ হলে সফলতা আসবেই। বাবার এই উপদেশটি শিরোধার্য করে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবদ্দশায় হাতে হাতে ফল পেয়েছেন। হয়েছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। কন্যাও এগিয়ে চলেছেন একই দর্শন অবলম্বন করে। শেখ হাসিনার আন্তরিকতা ও সততার ফসল আজকের এই আধুনিক বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ও একই দর্শনে বিশ্বাসী। তিনিও বলেন, ‘সৎ থাকলে একটা সুবিধা আছে—ভয় পাওয়ার কিছু থাকে না।’ ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যখন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ ঘোষণা করা হয়, তখন বিরোধীরা উপহাস করেছিল। কিন্তু উদ্দেশ্য আন্তরিক ও সৎ ছিল বলেই শেখ হাসিনা ও পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজ বাস্তবায়িত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ। ফলে করোনাকালে বাংলাদেশের জনগণ এখন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সুবিধাভোগী।
শধষবৎশধহঃযড়বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর লেখা ‘আমার দেখা নয়া চীন’ বইটির ২০ পৃষ্ঠায় ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘পাসপোর্ট অফিসার শুকুর সাহেব খুব ভালো লোক। ব্যবহারও চমৎকার আর কাজও করতে পারেন। তার মতো কর্মচারী হলে দেশের উন্নতি হতে বাধ্য।’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রজ্ঞাবান, দূরদর্শী রাজনীতিবিদ। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও চেতনা দ্বারা তিনি দেশের উন্নয়নের মূল উপাদান অনেক আগেই চিহ্নিত করেছিলেন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এসে ভোগবাদী অর্থনীতির প্রলোভনে আমাদের নৈতিকতা ও আদর্শের যথেষ্ট অবক্ষয় হয়েছে। দেশের সার্বিক মঙ্গল চিন্তা না করে শুধু নিজের অর্থনৈতিক লাভের বিষয়টিকে অনেকেই আমরা প্রাধান্য দিয়ে থাকি। ফলে জনসমক্ষে বেরিয়ে আসা দুর্নীতির খবরে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় সরকারকে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি জাতির জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয়। কারণ সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জাতির ভাগ্য নির্ধারণে কাজ করে। দেশের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বাস্তবায়নে এদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ জনবলই সরকারি সেবার মান উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক। সরকারি সিদ্ধান্ত যত সঠিক ও সময়োপযোগী হয়, দেশ তত এগিয়ে যায়। এর জন্য দরকার মেধাবী ও যোগ্য লোকের হাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও সুযোগ অর্পণ, অন্যথায় দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমি আজ বাংলার মানুষকে দেখলাম, বাংলার মাটিকে দেখলাম, বাংলার আকাশকে দেখলাম, বাংলার আবহাওয়াকে অনুভব করলাম। বাংলাকে আমি সালাম জানাই, আমার সোনার বাংলা তোমায় আমি বড় ভালোবাসি।’ ভাষণের এই হৃদয়ছোঁয়া বাক্যগুলোর মধ্যেই রয়েছে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সঞ্জীবনী শক্তি। দেশকে ভালোবাসলে, দেশের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন শুনতে পেলে, আকাশ, বাতাস, নদ-নদী ও প্রকৃতিকে একান্ত আপন করলেই দেশের উন্নয়ন সময়ের পরিক্রমা মাত্র। ঘটবে না প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম। দিক হারাবে না বাংলাদেশ। নক্ষত্রের আলোয় উদ্ভাসিত হবে প্রজন্মের পথচলা।
লেখক : উপাচার্য, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
https://www.facebook.com/somoymediasylhet
https://dailysylhetersomoy.com/
https://dailysylhetersomoy.com/english/
https://www.epaper.dailysylhetersomoy.com/home/
https://www.youtube.com/channel/UC-KEfv6XOsGmA4w0BEN7PHw
https://www.instagram.com/sylhetersomoy/
ডিএসএস/১০/আগস্ট/২০২১/নুরুল
অক্টোবর সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটির উদ্যোগে নগরীর কুশিঘাট এলাকার ‘ইমুর ইশকুল’-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী ও
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র হাজী আব্দুল কাইয়ুম জালালি পংকি
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাশ্বত ৯২ বন্ধু ফোরামের উদ্যোগে পাত্র সম্প্রদায়ের মাঝে ১ টাকায় পূজার বাজার ও ক্ষুদে
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ, ফ্যাসিবাদের নির্মূল এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জমিয়তে
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন (জিশিস) এর কেন্দ্রীয় সহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর, জেলা ও শাবিপ্রবি’র যৌথ উদ্যোগে সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টায়
সিলেট মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজবাড়ী প্রিমিয়ারলীগ-২০২৬ (RPL) সিজন-১১ এর প্লেয়ার ড্রাফট এবং ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। আসন্ন
সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. করিম মাহমুদ