admin
প্রকাশিত: 6:25 PM, July 6, 2021

কোভিড নিরোধক স্প্রে ‘ভলটিক’ যুক্তরাজ্যে সিলেটি বংশোদ্ভূত সাদিয়ার যুগান্তকারী উদ্ভাবন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্যে সিলেটের বিশ্বনাথের বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সাদিয়া খানম ‘ভলটিক’ নামক একটি কোভিড-১৯ নিরোধক স্প্রে আবিস্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে চেস্টারের বাসিন্দা। বিশ্বনাথ উপজেলার নাজির বাজারের মোহাম্মদপুর গ্রামে তাদের পূর্ব পুরুষদের নিবাস। পিতা কবির আহমদ একজন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মা ফরিদা আহমদ একজন গৃহিনী। ২৫ বছর বয়সী যুবতী এই ‘ভলটিক’ স্প্রে আবিস্কার করেন। পাশাপাশি সাদিয়া তার বাবার রেস্টুরেন্ট ‘ক্যাফে ইন্ডিয়াতে’ কাজ করেন।
‘ভলটিক’ স্প্রে যেকোনো স্থানে ব্যবহারের সাথে সাথে সবধরনের প্যাথোজন (ভাইরাস, ভ্যাক্টেরিয়া, ফাঙ্গি ইত্যাদি) টেনে এনে মেরে ফেলতে সক্ষম। ‘ভলটিক’ স্প্রে কোনো স্থানে একবার ব্যবহার করলে ১৫দিন পর্যন্ত ওই জায়গায় সম্পুর্ণরূপে কেভিডমুক্ত থাকে।
যুক্তরাজ্যের হাসপাতালগুলো বলেছে, ভাইরাস নিরোধে এই স্প্রে শতভাগ কার্যকর। তাছাড়া এই স্প্রে ব্যবহার করে হাসপাতালগুলোর প্রায় ৭০ পার্সেন্ট পরিচ্ছন্নতা খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।
২৫ বছর বয়সী সাদিয়ার ‘ভলটিক’ স্প্রে আবিস্কারের সাথে সাথে ইতোমধ্যে তিনি ১০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অর্ডার পেয়েছেন। এনএইচএস যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও কেয়ার হোমে পরীক্ষামূলকভাবে এই স্প্রে ব্যবহার করে সফল হয়েছে। নাসার ল্যাবে এই স্প্রে ব্যবহার হচ্ছে। ইতোমধ্যে সাদিয়া এই ‘ভলটিক’ স্প্রে বিশ্বের ১৩টি দেশ অর্ডার করেছে। মেডিকেল যন্ত্রপাতি, হোটেল, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, এয়ারলাইন্স ইন্ডাষ্ট্রি, আর্ম ফোর্সেস, নিউক্লিয়ার স্টেশনে ব্যবহার করা যায়।
সারাবিশ্ব কোভিড-১৯ এ জর্জরিত তাই তিনি রেস্টুরেন্টে কাজের পাশাপাশি কোভিড নিরোধক কিছু আবিষ্কার করতে গবেষণা শুরু করেন। রেস্টুরেন্টকে তিনি কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রায় ১৪ মাসের গবেষণার পর একসময় সাফল্য ধরা দেয়। তিনি আবিস্কার করে ফেলেন বিশেষ স্প্রে ‘ভলটিক’।
এরপর কলিন হেইগান নামক একজন সিনিয়র বিজ্ঞানীকে সঙ্গে নিয়ে এই স্প্রেকে আরো ডেভোলপ করেন। কলিন হেইগান সাদিয়ার এই অবিস্কার যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেছেন।
সাদিয়া খানম তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত যে তাঁর এই স্প্রে বিশ্বজুড়ে ব্যবহার হবে। শুধু অর্থ উপার্জনই বড় কথা নয়; এটা মানুষকে কোভিড-১৯ মুক্ত জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে। স্প্রে থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে তিনি আলজাইমার রোগের ওপর অধিকতর গবেষণা করবেন এবং বিশ্বকে এই রোগের প্রতিষেধক দিতে পারবেন বলে আশাবাদী।
সাদিয়া খানমের পরিবার যুক্তরাজ্যের চেস্টারে বসবাস করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়ো। বাবা কবির আহমদ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী। মা ফরিদা আহমদ গৃহিনী। তাঁর দাদা আজমত আলী যুক্তরাজ্যে আসেন ১৯৬৪ সালে। সাদিয়ার বয়স যখন ১৪ বছর তখন তাঁর দাদা আলজাইমার রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তখন তিনি সংকল্প করেন বড় হয়ে বিজ্ঞানী হবেন এবং আলজাইমার রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কার করবেন। ছোটকাল থেকেই তিনি বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁকে পড়েন। কিন্তু তাঁর বাবা প্রথমে তাঁকে স্থানীয় ব্লাকবার্ণ মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন। তিনি চেয়েছিলেন মেয়ের শিক্ষাজীবন ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হোক। ব্লাকবার্ণ মাদ্রাসা থেকে তিনি কৃতিত্বের সাথে আলিমা কোর্সসহ জিসিএসই পাশ করেন। এরপর মানচেষ্টারের হলিক্রস সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে জিসিএসই, মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে বায়ো-মেডিকেলে গ্রাজুয়েশন শেষ করে চেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে জেনেটিক্সে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি আলজাইমার ও নিউরোডিজেনারেশন নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। সাদিয়া খানমের ছোট বোন জামিলা আহমদ কমার্শিয়াল ল’ নিয়ে পড়ছেন। ছোট ভাই হামজা আহমদের বয়স ৩। সাদিয়া সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামের শেখপাড়ার মৌলভী বাড়ির মরহুম আউয়ালের নাতনী।
এ বিষয়ে সাদিয়ার বাবা কবির আহমদ বলেন, আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনিই সবকে সব জিনিস দেন না। আমার মেয়েকে এই স্প্রে আবিস্কারের জ্ঞান দিয়েছেন নিশ্চয় একটি কারণে। মেয়ের এই আবিস্কারের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের মানুষকে সাহায্য করতে পারবো-এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করেন। তিনিও ১৩ বছর যাবত অ্যালকোহলমুক্ত রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।
ডিএসএস/০৬/জুলাই/২০২১/নুরুল
“সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ কর, সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত কর” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার
দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি’র নবনিযুক্ত প্রশাসক এজাজ আহমেদ চৌধুরী’র সাথে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার
সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নে রুজি বেগম (২১)’কে শিবের বাজারের শ্বশুর বাড়ির লোকদের দ্বারা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের নবনিযুক্ত প্রসিকিউটরগণ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে লায়ন্স ক্লাব অব সিলেট হলি সিটি।
ঢাকার জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছেন
সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের সদ্য সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট বদরুল আহমদ চৌধুরীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন এই আদালতে
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এবং প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের সাথে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অশালীন ও