editor

প্রকাশিত: 2:07 PM, January 4, 2024

অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন না: রেজাউল করীম

একতরফা প্রহসনের নির্বাচন গণহারে বর্জনের ডাক

অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন না: রেজাউল করীম

একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বর্জন ও বিদ্যমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, কেউ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলবো, দেশবিরোধী অবৈধ নির্বাচনে জালিমদের সহযোগিতা করবেন না। প্রশাসনের কর্মচারী-কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলবো, প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল হিসেবে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে সরকারের কোনো অবৈধ হুকুম তামিল করবেন না। কেউ প্রহসনের নির্বাচনে সহযোগিতা করবেন না। জনবিরোধী প্রহসনের নির্বাচনে যারা সহযোগিতা করবে, জনগণ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবে না।

বৃহস্পতিবার একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ, বিদ্যমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের দাবি এবং চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।

এতে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম মাওলা, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও মাওলানা ইমতিয়াজ আলম প্রমূখ।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নির্বাচন নামের তামাশা, জুলুম, নির্যাতন, লুটতরাজ ও দুর্নীতি থেকে সরিয়ে রাখার জন্য এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, গণ অধিকারসমূহ রক্ষায় সকল পন্থা অবলম্বন করেছি। রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, জনমত গঠন ও জনমতের প্রকাশসহ সম্ভাব্য সব কিছুই আমরা করেছি। প্রত্যাশা ছিল, সরকারে থাকা ব্যক্তিবর্গের বোধোদয় ঘটবে; তারা দেশকে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে না। দেশের অর্থনীতি এবং জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে না। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা গেছে, সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে হলেও ক্ষমতায় থেকে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের সম্পদ লুটেপুটে খেয়ে নিয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলোকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং ইতিহাসের নিকৃষ্টতম শঠতায় প্রহসনমূলক নির্বাচনের অপচেষ্টা করছে। একইসঙ্গে শিক্ষা সিলেবাসের নামে জাতির ভবিষ্যত প্রজন্মকে শেষ করার পাঁয়তারা করছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিরোধীদলগুলো অংশ না নেয়ার প্রধান যুক্তি ছিল, প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভোটারদের স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেয়ার আশঙ্কা। আমাদের আশঙ্কা যে, যৌক্তিক ও যথার্থ ছিল তা এই পাঁতানো ও শঠতাপূর্ণ নির্বাচনেও প্রমাণিত হয়েছে। এই নির্বাচন পাঁতানো। এখানে নৌকা, ঈগল, ট্রাক ইত্যাদি যা আছে সবই শেখ হাসিনার লোক। সবাই আওয়ামী লীগের। এমনকি লাঙ্গল, সোনালী আশ, নোঙ্গরও শেখ হাসিনার আশির্বাদপুষ্ট। তারপরেও এই নির্বাচনে নৌকায় ভোট না দিলে হাত-পা ভেঙে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বহু জায়গায়। দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয় না, এমনকি পাঁতানো নির্বাচনও সুষ্ঠু ও অবাধ হয় না।

রেজাউল করীম বলেন, রাষ্ট্র নাগরিকদের সেবা দিতে বাধ্য। সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের সেবা কোনো দল বা ব্যক্তি দেয় না বরং রাষ্ট্র দেয়। কিন্তু আমরা দেখছি, এই সরকারের লোকজন ভোটারগণকে নৌকায় ভোট না দিলে বা ভোটকেন্দ্রে না গেলে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের অধীনে প্রদত্ত সেবা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতা এক প্রার্থী নিজেকে ভারতের প্রার্থী দাবি করে দাপট দেখাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছে।

দেশবাসীকে আবারো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমার-আপনার মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন আমার-আপনার ভোট জালিয়াতি করে ক্ষমতাসীনদের সীমাহীন লুটতরাজ, জুলুম, খুন, গুম ও অনিয়ম জারি রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা, ব্যাংকগুলো শূন্য করা, চুরি করে কোটিপতি হওয়ার অবৈধ পদ্ধতিকে অব্যাহত রাখার নির্বাচন। এই নির্বাচন হলো ক্ষমতাসীনদের পারস্পরিক ক্ষমতা ভাগাভাগির নির্লজ্জ খেলা। ফলে এই নির্বাচনে ভোট দেয়ার মানে হলো, ক্ষমতাসীনদের সকল অন্যায়, জুলুম ও দুর্নীতিকে বৈধতা দেয়া। যা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। যাদের মধ্যে দেশপ্রেম আছে, যারা দুর্নীতি, জুলুম-লুটতরাজকে ঘৃণা করেন, যারা মানুষের অধিকারকে সম্মান করেন তারা কেউ ভোট কেন্দ্রে যাবেন না।

যারা আল্লাহকে ভয় করেন, যারা মাজলুমের বদদোয়াকে ভয় করেন, তারা কেউ ভোট দেবেন না। যারা ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন, যারা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের সম্মান করেন তারা কেউ ৭ই জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।

তিনি বলেন, আমরা যদি গণহারে ভোট বর্জন করি তাহলে এই জালেম লুটেরারা বাধাগ্রস্ত হবে। আমরা ভোট বর্জন করলে জাতি, দেশের অর্থনীতি রক্ষা পাবে। ভোট বর্জন করলে মানবতা রক্ষার পথ উন্মোচিত হবে। হতাশ হবেন না। জালেমদের বিদায় অবশ্যই হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা যদি জালিমের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ এবং সুদৃঢ় থাকতে পারি, তাহলে অচিরেই জনগণের বিজয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।

লিখিত বক্তব্যে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, আমরা এই জাতি, দেশ, অর্থনীতিকে বাঁচাতে চাই। লুটতরাজের অবসান চাই। আমরা একদলীয় কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান চাই। আমরা রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন চাই। দেশের মানুষের অধিকার ফেরত পেতে চাই। সেজন্য আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রাম চলবে। আমরা জনগণকে কর্তৃত্ববাদী এই জালিম সরকার বিরোধী গণ-আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমরা জনগণের অধিকার রক্ষার লক্ষে আন্দোলনরত সকল বিরোধী দলকে ধৈর্যের সঙ্গে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।

আপনাদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবারো অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি সংবিধান অনুযায়ী অবিলম্বে বিদ্যমান কলঙ্কিত জাতীয় সংসদ ভেঙে দিন।

দেশবিরোধী প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করুন। বিরোধীদলের সম্মানিত নেতৃবৃন্দকে কারাগার থেকে মুক্তির উদ্যোগ নিন। সকল রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সরকার গঠনের উদ্যোগ নিন। নয়তো সম্ভাব্য বিপর্যয়ের দায় থেকে আপনিও রক্ষা পাবেন না।

বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর দাবিসমূহ:

১। ৭ই জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে হবে।

২। বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

৩। নিবন্ধিত এবং আন্দোলনরত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে, জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।

৪। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙে দিতে হবে এবং জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পূণঃতফসিল ঘোষণা করবে।

৫। রাজনৈতিক কারণে বিরোধীদলের কারাবন্দী সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি দিতে হবে।

এস এ

Sharing is caring!


আর্কাইভ

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031  

সর্বশেষ সংবাদ

বাবা-ছেলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ জালালাবাদ এলাকাবাসী

বাবা-ছেলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ জালালাবাদ এলাকাবাসী

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এয়ারপোর্ট থানাধীন মদিনা মার্কেট ও জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, হুমকি এবং জবরদস্তির অভিযোগ এনে পিতা ও

সিসিকের পাবলিক টয়লেট দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নগরবাসী

সিসিকের পাবলিক টয়লেট দখল করে দোকান নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ নগরবাসী

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) মালিকানাধীন একটি পাবলিক টয়লেট দখল করে ড্রেনের ওপর পাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। নগরীর ঐতিহ্যবাহী

শাহজালাল মাজারে এসে বগুড়ার যুবক লালন মিয়া নিখোঁজ

শাহজালাল মাজারে এসে বগুড়ার যুবক লালন মিয়া নিখোঁজ

সিলেটের পবিত্র হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার শরিফে বেড়াতে এসে লালন মিয়া (২২) নামের এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর)

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের উদ্যোগে

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাল সিলেটে সমাবেশ ও র‍্যালি, প্রধান অতিথি মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কাল সিলেটে সমাবেশ ও র‍্যালি, প্রধান অতিথি মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সিলেটে সমাবেশ ও র‍্যালির আয়োজন করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদল।

সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সাবেক সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকের বিবৃতিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সাবেক সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকের বিবৃতিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের সাবেক সভাপতি এম শফিকুর রহমান ও সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. সেলিম আহমদের বিভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও

দুই প্রবাসীর কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ

দুই প্রবাসীর কোটি টাকার পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ

সিলেট নগরীর সুবিদবাজার এলাকার প্রবাসী দুই ভাইয়ের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি, কোটি টাকার ভাড়া আত্মসাৎ, পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল

জামায়াত নেতা লোকমানকে ঘিরে গুঞ্জন

জামায়াত নেতা লোকমানকে ঘিরে গুঞ্জন

সিলেটের রাজনীতিতে আলোচিত জামায়াত নেতা লোকমান আহমদকে ঘিরে নানা জল্পনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চ্যুয়াল মিডিয়ায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে,