admin
প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২৫
স্টাফ রিপোর্টার:
বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার মধ্যে ত্রয়োদশ নির্বাচনের ডামাডোল বেজে গেছে সারা দেশের মতো সিলেটেও। মনোনয়ন যুদ্ধ আপাতত শেষ হলেও ভোট যুদ্ধে জটিল অঙ্কে এবার বিএনপিতে। এমনকি ঘোষিত প্রার্থী দিয়ে ভোট যুদ্ধের কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে বিএনপি, এমন কথাও মুখে মুখে।
রাজনীতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, বঞ্চিতদের ধনে-জনে সহযোগিতা ছাড়া শীষের বিজয় নিশ্চিত করা হবে অসম্ভব। সেই সহযোগিতা আদায়ে কতটুকু সফল হবেন দল ঘোষিত প্রার্থীরা, সেই প্রশ্ন এখন বিলিয়ন ডলারের। অনেকে মনে করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থীদের অবস্থান আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপির নীতি নির্ধারিত মহল। বিশেষ করে দেশের মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-৬ ও সিলেট-৩ আসনে। এই দুইটি আসন ঘিরে জামায়াতের বিজয় পরিকল্পনা, নিখুঁত ও গভীর। সেকারণে সিলেট- আসেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তাদের প্রার্থীর অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী ও জনসম্পৃক্ত। সেই সাথে সর্বদলীয় যোগাযোগেও বর্তমান প্রার্থী অনেক এগিয়ে।
এদিকে, সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৪ টিতে প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছে দলটি। এ চারটি আসনের মধ্যে সিলেট-৬, সিলেট-৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছিল বিশাল বহর। দেশী বিদেশি প্রার্থীদের সংখ্যা ছিল লক্ষণীয়। কিন্তু সিলেট-১ ও সিলেট-২ আসনে ২ জন করে ছিলেন মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিশেষ করে সিলেট-২ আসনটিতে অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে মনোনয়ন যুদ্ধ থেকে সরে যান দলের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এখন এই আসনে দলের টিকেট পেয়েছেন নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা। এ আসন বিএনপির ঘাঁটি।
এ আসনে ধানের শীষের বিজয় অবধারিত। তারপরও শেষ কথা বলতে কিছু নেই। লুনাতে দূরত্ব রয়েছে স্থানীয় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীর। জামায়াত তাদের পাশে রাখতে চেষ্টার কমতি করছে না। সেই অবস্থাকে আমলে নিয়ে প্রতিকার জরুরি লুনার। নয়তো নিরঙ্কুশ বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে থাকবে শঙ্কা।
অপরদিকে, সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে ধানের শীষের কাণ্ডারি হয়েছেন চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ২০১৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। তার ব্যক্তিত্ব ও শান্ত স্বভাবে পরিচিত জনের কাছে আকর্ষণীয় তিনি। এছাড়া এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সিসিকের দুই বারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সেকারণে দিনশেষে হাসে বিএনপি ও তিনি। এ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপির মনোনয়ন পাননি কিন্তু ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে তার সমর্থন ও সহযোগিতা অপরিহার্য, এমন তথ্য অমুলক নয়। এ আসনে ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান। সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও মাদ্রাসা ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তিনি। সিলেটে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম এক হেভিওয়েট। একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীও তিনি। সর্বদলীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে রয়েছে তার ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটও।
পতিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অনেক নেতাও রয়েছেন সেই সারীতে, এমন জনশ্রুতি রয়েছে তাকে ঘিরে। তাই তাকে নিয়ে জামায়াতের প্রত্যাশা অশেষ। বিএনপি কে টার্গেট করে জামায়াত তাদের প্রার্থী ঘোষণা যেমন করেছে, তেমনি আগেভাগেই শুরু করেছে নির্বাচনমুখী কর্মতৎপরতা। প্রচলিত মিথ, দেশের মযার্দাপূর্ণ সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী বিজয়ী হন, সরকার গঠন করে সে দলই। ১৯৯১ সাল থেকে নির্বাচনি রাজনীতিতে ওই মিথটি প্রচলিত। সেকারণে এ আসন ঘিরে বাড়তি গুরুত্ব ভোট রাজনীতিতে। অথচ এই আসনের বিজয় নিশ্চিতে বাড়তি সতর্কতা ও প্রস্তুতির বিকল্প নেই বিএনপির। এ বাস্তবতা দলের হাই কমান্ড ভোট রাজনীতির বর্তমান পরিবেশ প্রতিবেশ উপলব্ধিতে ব্যর্থ হন তাহলে সিলেট-১ আসেন বিএনপি প্রার্থীর বিজয় ঝুঁকিতে থাকবে। সেই ঝুঁকি মোকাবেলা নিশ্চিত করতে হবে দ্রুত। কারণ সেই ঝুঁকি মুকাবেলা করতে পারলে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনেই ধানের শীষের পক্ষে তৈরি হবে গণজোয়ার। বিএনপির নিবেদিত অনেকের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। যে আসেন বিএনপির বিজয়ের গল্প আগেভাগে ছড়িয়ে যেত সিলেটজুড়ে, সেখানে এখন শঙ্কা। যেন অঘটনের পূর্ব সংকেত।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির টিকেট নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালেক। অথচ, হাফ ডজন প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার টপে ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম। প্রার্থী ঘোষণার পূর্ব পর্যন্ত সালামের নাম অনেকটা চাউর হয়েছিল, যে তিনিই হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী। তবে রাজনীতিক সচেতন মহলের ভাবনা ছিল মাঠ রাজনীতিতে পুড়া খাওয়া জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুমকে-ই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিবে দলের হাই কমান্ড। কিন্তু তা হয়নি। দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন লোকমান আহমদ। পরিবহন রাজনীতির পাশাপাশি সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিপুল পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে তার।
এ আসনে নারী ও পুরুষ মিলে সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী জামায়াত। একই সাথে সাধারণ মানুষের সাথে ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততায় অনেক এগিয়ে জামায়াতের লোকমান। তার দাপুটে নেতৃত্ব অনেকের কাছে সমীহের। কোনো অংশেই তাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই বিএনপির। এ আসনে ২০০১ সালে বিজয় পেয়েছিল বিএনপি। জনসমর্থনে সমৃদ্ধ এ আসনে বিএনপি। কেবল প্রার্থী দুর্বলতায় যেন ধানের শীষের পরাজয় না ঘটে, সেই অঙ্ক কষছেন অনেকে। তবে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বঞ্চিতদের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে তুমুল লড়াই হবে পাল্লার সাথে ধানের শীষের। অথচ তা হওয়ার কথা ছিল না। সত্যি কথা হলো, ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতে বিশেষ করে কাইয়ুম চৌধুরী অন্যতম ফ্যাক্টর। তাকে পাশে রাখতে ব্যর্থ হলে ধানের শীষের বিজয় সম্ভাবনা পড়বে ঝুঁকিতে।
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) : আসন পর্যটন এলাকা হিসেবে খ্যাত কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর। এ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন। সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি তিনি। অবশেষে সকল জল্পনা কল্পানা শেষে সিলেট- ৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। এতে তীব্র উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে বিএনপিতে। এই এলাকার মানুষ বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আকাঙ্ক্ষা করেছিল, আরিফে সেই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছেন তারা। এরপর দলের মনোনয়ন বঞ্চিতদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে এ আসনে। এখন সেই দূরত্ব ঘুচাতে সফল হতে হবে বিএনপি তথা আরিফকে । এতে বিজয়ের পাল্লা ভারী হবে আগেবাগেই তার।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট জকিগঞ্জ) আসন নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। এ আসনে এখনো বিএনপি তার দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জনশ্রুতি রয়েছে, বিএনপির সাথে জোট হলে আসনটিতে প্রার্থী হবেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। এবার মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন বিএনপির ৯ নেতা। যদি জোটে ছেড়ে দেয়া হয় আসনটি তাহলে খেজুর গাছের বিজয়ে পাশে দরকার বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিতদের। ব্যর্থ হলে এ আসনেই বিএনপি বা জোট প্রার্থীর সম্ভাবনা থাকার পরও পুড়ে যেতে পারে কপাল। বঞ্চিতদের সমর্থন আদায় বিরাট চ্যালেঞ্জও।
এদিকে, অবিভক্ত সিলেট জেলা (সিলেট বিভাগের চার জেলা) ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আনোয়ার হোসাইন খান এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। ব্যক্তি হিসেবে তার প্রতি মানুষের আস্থা রয়েছে। এ আসনে ২০০১ সালে ৪ দলীয় জোটের সমর্থনে বিজয়ী হয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। সেকারণে এই আসনে জামায়াতে লোকবল ও সমর্থন রয়েছে উল্লেখেযাগ্য।
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসন ঘিরে ছিল মনোনয়ন বাণিজ্যের একটা বদমান। এবার সেই বদনাম ঘূচিয়ে দিয়েছে বিএনপির হাই কমান্ড। এতে ভোটের মাঠে ইতিবাচক এক ইমেজ তৈরি হয়েছে বিএনপিতে। দেশ-বিদেশি ৯ জন প্রার্থীকে টপকিয়ে দলের টিকেট নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
এদিকে, ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই মেয়াদে (২০০০-২০০২) তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বর্তমানে জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। তিনি জামায়াতে ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের একজন। এই প্রার্থী মোকাবেলায় বিএনপির প্রার্থী মনোনয়ন সেরাটা করেছে বলে অনেকে অভিমত। জনসমর্থনে এ আসনটি বিএনপির জন্য খুবই উর্বর। কিন্তু প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থতা বা জোটগত কারণে ছাড় দিতে যেয়ে এখনো বিজয়ের মুখ দেখেনি ধানের শীষ। মনোনয়ন বঞ্চিতদের ধনে-জনে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পারলে ধানের শীষের বিজয় সময়ের ব্যাপার মাত্র।
সিলেটে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কৌশল সাজাচ্ছে ইসলামী দলগুলো। মুখে একক প্রার্থীর কথা থাকলেও সমঝোতার দিকেই তাদের নজর বেশি। পর্দার আড়ালের আলোচনা বেশ তুঙ্গে। জাতীয় রাজনীতির আদলে দুইদিকে ঝুঁকছে সিলেটের ভোটের পলিসি। ইসলামী দলগুলো বিভক্ত হচ্ছে বিএনপি কিংবা জামায়াত বলয়ে। জামায়াত কী করবে-আপাতত সেটি পরিষ্কার নয়। এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সিলেটে দু’দিনের সফর করে গেছেন। তিনি দিয়েছেন কিছু নির্দেশনা। তবে দলটির নেতারা জানিয়েছেন- সিলেটে সব আসনেই জামায়াত জোর দেবে, কোনো কোনো আসনে একটু বেশি নজরদারি করবে। কয়েকটি আসনকে তারা বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী কৌশল সাজাচ্ছে।
জেলার ৬টি আসনের মধ্যে সিলেট-১, সিলেট-৩, সিলেট-৪ ও সিলেট-৬ আসনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল দলটি। সিলেট-৪ আসনে বিএনপি থেকে দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী হওয়ার কারণে এ আসন নিয়ে দোলাচলে আছেন দলটির নেতারা। সিলেটের সবচেয়ে গুরুত্ব যে আসনে জামায়াত দিচ্ছে সেটি হচ্ছে সিলেট-৬ আসন। এ আসনে বিগত কয়েক নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন মাওলানা হাবিবুর রহমান। এবার তিনি এ আসনে প্রার্থী তালিকায় ছিলেন। পরবর্তীতে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসনে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করা হয় ঢাকার উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিনকে।
আর মাওলানা হাবিবুর রহমানকে নিয়ে আসা হয় সিলেট-১ আসনে। সিলেট-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এমএ মালিক প্রার্থী হওয়ায় জামায়াতের ভেতরে কিছুটা স্বস্তি। এ আসনে তাদের প্রার্থী দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। এই অবস্থায় জামায়াতের সঙ্গে আন্দোলনে শরিকদের সমঝোতা হলে তিন থেকে চারটি আসন তারা শরিকদের ছেড়ে দিয়ে দুটি অথবা তিনটিতে জয়ের জন্য মাঠে নামতে পারে বলে দলের পক্ষ থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। খেলাফত মজলিস এবার জামায়াতে সঙ্গে আন্দোলনে শরিক আছে। সিলেট অঞ্চলে খেলাফত মজলিসের আমীর, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিবসহ কয়েকজনের বাড়ি।
খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে দুটিতে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছেন। সিলেট-২ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অন্যতম মো. মুনতাসির আলী। সিলেট-৪ আসনে তুখোড় ওয়াজি ও তরুণ সমাজের কাছে জনপ্রিয় প্রার্থী মুফতি আলী হাসান উসামা। এ দুটি আসন ছাড়াও আরও দুটি আসনে জামায়াতের সঙ্গে খেলাফত মজলিসের সমঝোতার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলে খেলাফত নেতারা জানিয়েছেন। এখনো সে বিষয়ে তেমন কথাবার্তা না হলেও প্রার্থী বিবেচনায় সমঝোতার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে। খেলাফত মজলিসের নেতারা জানিয়েছেন- সিলেট অঞ্চলে তাদের শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে। এ কারণে তারা সমঝোতার পাশাপাশি একক নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রচারণায় রেখেছে। ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে প্রার্থীরা তাদের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। সাড়া ফেলছেন অনেকেই। জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় গেলে সিলেটে ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা এক বা একাধিক আসনে তাদের প্রার্থীর পক্ষে সবার সমর্থন চাইবে। তবে ভোটের মাঠে দল দুটির প্রার্থীদের প্রচারণা খুবই কম। ইসলামী আন্দোলন সিলেট-৫ সহ আরও দুটি আসনে সমঝোতায় যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। ভ্রমণ গাইড
বিএনপি’র সঙ্গে জোটের বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয়। তবে কথাবার্তা আছে জমিয়তে ইসলামকে নিয়ে। জমিয়তের পক্ষ থেকে এবার আকিদাগত বিরোধকে ভোটের মাঠে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যে নানা বিষয় নিয়ে জামায়াত ও জমিয়তের মধ্যে কখনো দৃশ্যমান, আবার কখনো অদৃশ্যমান লড়াই চলছে। তবে দলটির নেতাদের মতে; তারা কোনো ভাবেই জামায়াতের জোটে যাবেন না। এজন্য বিএনপি’র সঙ্গে হয়তো ভোটের সমঝোতা হতে পারে। বিএনপি সিলেটের চারটি আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও সিলেট-৪ আসনের হিসাব পরিষ্কার হয়েছে। এ আসনে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন- আরিফের নাম দলের তরফ থেকে যেকোনো সময় ঘোষণা হবে। ফলে আরিফুল হককে নিয়ে যে ধোঁয়াশা আছে সেটি কেটে যাবে। এ আসনটি এবার ছাড় দিতে চাইছে না জমিয়ত। আসনে তাদের প্রার্থী কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলী। তিনি রাজনীতির মাঠে পরিচিত নেতা।
জমিয়তের কয়েকজন নেতা গতকাল জানিয়েছেন- বিএনপি’র সঙ্গে সমঝোতা হলে সিলেট-৪ আসন তারা চাইবে। এ আসনের সিদ্ধান্ত ছাড়া সমঝোতার পথ খুলবে না। সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের প্রার্থী দলের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক। এ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী ঘোষণা না করায় এখন সুবিধা নিচ্ছে জমিয়ত। তবে আসনে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী এখনো ভোটের মাঠে সক্রিয় প্রচারণায় রয়েছেন। সিলেটে সফরকালে গত শুক্রবার রাতে নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন জমিয়ত সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন- জোট হলেও জমিয়ত নির্বাচনে আছে না হলেও তারা আছে। আপাতত এককভাবে নির্বাচনের চিন্তাভাবনা তাদের। সমঝোতার সময় এলে তারা আলোচনার মাধ্যমে সেটি চূড়ান্ত করবেন।
4 সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় উৎসবমুখর পরিবেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা তিতন মিয়া স্মৃতি ২য় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৪
6 সিলেটের শিক্ষাঙ্গনে অনন্য এক ইতিহাস সৃষ্টি করল জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ (জেসিপিএসসি)। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬-এ সারা বাংলাদেশের
5 সিলেটের মালনীছড়া চা বাগানের গরীব ও অসহায় চা শ্রমিকদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেছে রোটারী ক্লাব অব সিলেট। শুক্রবার (২৩
7 বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক
7 সাবেক ছাত্রনেতা ও পর্তুগাল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান জামানের পিতা তেরা মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন
1 শান্তিগঞ্জ সমিতি সিলেটের উদ্যোগে সিলেটে বসবাসরত সুনামগঞ্জের বিভিন্ন পেশাজীবীদের সাথে সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি ও ধানের শীষের
4 পর্তুগাল বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান ও ফ্রান্স স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক জাহেদ তালুকদারের পিতা ও জগন্নাথপুর উপজেলার কামারখাল
6 সিলেট-১ (মহানগর ও সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বিগত