admin
প্রকাশিত: 4:37 PM, September 15, 2016
বড়লেখা প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চান্দগ্রামে পুত্রবধুর পরকিয়া প্রেমের বলি হয়ে প্রাণ দিতে হলো ইউকে প্রবাসী শাশুড়ি মায়ারুন নেছাকে। গভীর রাতে পুত্রবধুর ঘরে অন্য পুরুষদের দেখতে পাওয়ার অপরাধে তাকে নির্মম ভাবে খুন করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গরবার ঈদুল আযহার দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩.৩০ ঘটিকার মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত মায়ারুন নেছা চান্দগ্রামের ইউকে প্রবাসী ফাতির আলীর স্ত্রী। পুলিশ ঐ রাতে ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক পুত্রবধু ফাহিমা বেগমকে গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, চান্দগ্রামের ফাতির আলী, নিজ স্ত্রী মায়ারুন নেছা ও পুত্র মকসুদুল আলম স্বপনকে নিয়ে ইংল্যান্ডে বসবাস করেন। মকসুদুল আলম স্বপনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় বিবাহ করেন ফাহিমা বেগমকে। প্রায় আড়াই বছর আগে পাশ্ববর্তী বিয়ানীবাজার উপজেলার দাসউরা গ্রামের আব্দুস সহিদের কন্যা ফাহিমা বেগমের সাথে পারিবারিক ভাবে তাদের বিয়ে হয়। মকসুদুল আলম স্বপনের আগের স্ত্রী গর্ভের দুই পুত্র সন্তান রেজাউল আলম শুভ (১৩), সাহেদুল আলম সাজন (৯), পিত্রালয় চান্দগ্রামে থাকেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী ফাহিমা বেগমও চান্দগ্রামে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। স্বামীর অবর্তমানে ফাহিমা বেগম স্বামীর পরিচিত আলী হোসেন নামক এক যুবকের সাথে পরকিয়া প্রেমের অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দেয়া তথ্যমতে, আলী হোসেন প্রায়ই নানা অজুহাতে দিনে রাতে ফাহিমা বেগমের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। ঘটনার কিছু দিন আগে মায়ারুন নেছা ইউকে থেকে দেশে আসেন। ঘটনার রাত অর্থাৎ ঈদুল আযহার দিবাগত রাতে বাড়ির সবাই যথারীতি খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েন। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১২টার দিকে সঙ্গী ফাহাদ আহমদকে সাথে নিয়ে ফাহিমা বেগমদের বাড়িতে যায় আলী হোসেন। তারা ফাহিমার ঘরে যাওয়ার ঘন্টা খানেক সময় পর হঠাৎ ঘুম থেকে জেগে উঠেন ভিকটিম মায়ারুন নেছা। তিনি পুত্রবুধুর ঘরে গভীর রাতে অন্য দুই পুরুষকে দেখতে পান। এই বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ফাহিমা বেগম তার প্রেমিক আলী হোসেন এবং আলী হোসেনের সহযোগী ফাহাদ আহমদ সহ তিনজন মিলে মায়ারুন নেছাকে শাশ্বরোধ করে নির্মম ভাবে খূন করে। এ সময় ভিকটিমের দুই নাতি রেজাউল আলম শুভ ও সাহেদুল আলম সাজনের ঘুম থেকে উঠে দাদীর ঘরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি দেখেতে পায়। ঘাতকরা তাদেরকেও বেধে ফেলে এবং পাশবর্তী কক্ষে নিয়ে বন্দি করে রাখে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে ফাহিমা বেগম নিজের মুখে স্কচটেপ এবং রশি দিয়ে নিজের হাত বেধে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে প্রচার করে। খবর পেয়ে ভিকটিম মায়ারুন নেছার স্বামীর ভাই একই গ্রামের অন্য বাড়িতে বসবাসকারী হারিছ আলী তাৎক্ষণিক ভাবে ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে। এখানে এসে ভাইয়ের বউকে অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। ভাতিজা বউয়ের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হলে, তিনি দুই নাতিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে অবগত হন। পরে ফাহিমা বেগমও একপর্যায় স্বীকার করে ডাকাত নয়, আলী হোসেন মায়ারুন নেছাকে খুন করেছে। খবর পেয়ে বড়লেখা থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘাতক ফাহিমা বেগমকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
এই ঘটনায় নিহত মায়ারুন নেছার স্বামীর ভাই হারিছ আলী বাদী হয়ে বড়লেখা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১০, তারিখ ১৫/০৯/২০১৬ইং। মামলার আসামীরা হলেন, ফাহিমা বেগম (২২), স্বামীঃ মকসুদুল আলম স্বপন, গ্রামঃ চান্দগ্রাম, থানাঃ বড়লেখা, জেলাঃ মৌলভীবাজার, (পিতাঃ আব্দুস সহিদ, গ্রামঃ দাসউরা, ভাউড়া, থানাঃ বিয়ানীবাজার, জেলাঃ সিলেট), ২। আলী হোসেন (৩০), পিতাঃ মোঃ শুকুর আলী, গ্রামঃ চান্দেরগুল, থানাঃ বড়লেখা, জেলাঃ মৌলভীবাজার, ৩। ফাহাদ আহমদ (২৩) পিতাঃ ফারুক উদ্দিন, গ্রামঃ বারইগ্রাম, থানাঃ বিয়ানীবাজার, জেলাঃ সিলেট।
এ বিষয়ে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১নং আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অপর আসামীদের গ্রেফতার করতে পুলিশী অভিযান চলছে। নির্মম এই ঘটনার কোন আসামী আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন (বাজুস) সিলেট জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির (২০২৬-২০২৮) দ্বি-বার্ষিক মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর
সারাদেশে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সিলেটে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সিলেট জেলা
প্রয়াত স্বজনের স্মৃতিকে মানবসেবা ও জনকল্যাণের মহৎ উদ্যোগে রূপান্তরিত করার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ)-সিলেটের ব্যবস্থাপনায় খাদ্য ও শিক্ষাসামগ্রী
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে কোতোয়ালী থানা কমিটি গঠন উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮
অসহায়, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে সিলেটে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন স্বপ্নচূড়া
ঐতিহ্যবাহী সিলেট ষ্টেশন ক্লাব লিমিটেডের বার্ষিক অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাতে ক্লাব প্রাঙ্গণে
সুলতান সুমন: রেবুল কুমার দাস (৪৬)। জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৯০২৮৯০৪২২২২৫৮। তিনি ছাতক সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা।
স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকায় গভীর রাতে কথিত চোরাচালান তৎপরতা বাড়ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একাধিক সূত্রের কাছ থেকে। তাদের