admin
প্রকাশিত: 2:03 PM, November 24, 2020
তাহমিনা আক্তার
করোনায় উপেক্ষিতে স্বাস্থ্যবিধি
# মোকাবেলায় সিসিকের বিভিন্ন পরিকল্পনা
# নগরীতে মোবাইল কোর্টের অভিযান
সিলেটে কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, উপেক্ষিত হচ্ছে করোনা সতর্কতা। গ্রামগঞ্জ-হাটবাজার থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শারীরিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। মাস্ক, গ্লাভস কিংবা অন্য যেকোন সুরক্ষাসামগ্রী পরিধানের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মানুষই উদাসীন। ছোঁয়াচে করোনা মহামারীর মধ্যে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে চলছে প্রায় সবকিছুই বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সিলেটের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। এরই মধ্যে বাড়তে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা। থেমে যাওয়া মৃত্যুর মিছিল আবারও শুরু হয়েছে।
এমতাবস্থায় করোনা সচেতনতা নিয়ে উৎকণ্ঠায় সবাই। মাস্ক ব্যবহারে অসতর্কতার কারণে সিলেটে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩৩ জন সুস্থ হয়েছেন। নতুন সুস্থদের মধ্যে সিলেট জেলার ১৯ জন, সুনামগঞ্জের ৯ জন, হবিগঞ্জের ১জন এবং মৌলভীবাজারের ৪ জন রয়েছেন। আর সব মিলিয়ে সিলেট বিভাগে সুস্থ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৭৩ জনের। এর মধ্যে সিলেট জেলার ৭ হাজার ৫১৬ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৩৯১ জন, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৫৫৭ জন এবং মৌলভীবাজারের ১ হাজার ৭০৯ জন সুস্থ হয়েছেন। একই সময়ে আরও ৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৩৭৮ জনে। যার মধ্যে সিলেট জেলায় ৮ হাজার ২৩৪ জন, সুনামগঞ্জে ২ হাজার ৪৪৬, হবিগঞ্জে ১ হাজার ৮৭৯ এবং মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৮১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য)’র কার্যালয়ের কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যাননি। তবে সোমবার পর্যন্ত সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৪২ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলার ১৭৯ জন, সুনামগঞ্জে ২৫ জন, হবিগঞ্জে ১৬ জন এবং মৌলভীবাজারে ২২ জন। আর করোনাভাইরাসের উপসর্গ ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে ৩১ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আর বাকিরা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
শীত মৌসুমে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এবং নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় চলমান বিপর্যয় মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)। এ বিষয়ে নগরীতে প্রতিদিনই মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছে সিসিক কর্তৃপক্ষ। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে প্রতিটি উপজেলায়ও রয়েছে প্রচারাভিযান। সিলেট এখনো করোনা ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিলেও বাড়ছে না গণসচেতনতা। ইতোপূর্বে সিলেটের স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন করেছেন সমন্বিত সভা, পরিচালনা করছেন প্রচারাভিযান। তাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী করোনা প্রতিরোধে প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মাস্ক না পরলে সেবাপ্রদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা হবে। নির্দেশনাযায়ী বাসস্ট্যান্ড এবং রেলস্টেশনে মাস্ক ব্যবহার শতভাগ নিশ্চিত করা বাঞ্চনীয়। বিভিন্ন শপিংমল ও দোকানপাটগুলোতে মাস্ক ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমও বন্ধ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এ ছাড়াও করোনা প্রতিরোধে সেবার বিষয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সিলেট নগরীর শপিং মল, বাস টার্মিনাল কিংবা রেলস্টেশন, গণপরিবহন, কোথাও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। প্রথম দিকে এসব জায়গায় যেটুকু নিয়ম পালন করা হতো, সেটুকুও এখন উধাও। বাসস্ট্যান্ডগুলোতে কিছুদিন আগেও যাত্রী উঠানোর সময় ছিটানো হতো জীবাণুনাশক। স্প্রে করা হতো পুরো গাড়ি এবং সিটে। কিন্তু এখন তাও হচ্ছে না। শপিং মলের সামনে হাত ধোয়ার বেসিন থাকলেও ব্যবহার নেই। চলমান করোনা মহামারিতে সিলেটসহ সারা দেশের গণপরিবহনই এখন পুরোপুরি স্বাভাবিক। স্বাস্থ্য মেনে যাত্রী পরিবহন এবং মাস্ক ব্যবহারের কথা। কিন্তু যাত্রীবাহী বাসসহ গণপরিবহনগুলোতে চালক, হেলপার ও যাত্রীরা মাস্ক ছাড়াই গণপরিবহনে উঠছেন। এ ছাড়া সিলেট নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ সব ধরনের গণপরিবহনে বিন্দুমাত্র স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না যাত্রীরা। দু’জনের সিটে গাদাগাদি করে বসছেন নিয়মের অধিক যাত্রী। সিলেটের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিস ও হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায় করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ আসার সময় সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছিল হাত ধোয়ার বেসিন। কিন্তু বর্তমানে সেগুলো অকার্যকর।
সিলেট-মৌলভীবাজার-সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ প্রত্যেক দিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না এবং মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক ব্যবহারে রয়েছে উদাসীনতা। জনসাধারণের চলা ফেরায় নেই কোনো সতর্কতা। এ অবস্থায় সিলেটের বিশেষজ্ঞরা আশংকা করছেন শীত মৌসুমে দ্বিতীয় দফা আবারো যদি করোনা আঘাত হানে তাহলে ব্যাপক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমরা প্রথম পর্যায়ে সতর্কতায় মাইকিং শুরু করেছি। পর্যাক্রমে নগরীতে সচেতনতামূলক ব্যানার ফেস্টুন লাগানো এবং প্রচারপত্র বিলিন ও নগরবাসীর মধ্যে যাতে ভালো করে দোয়ে বার বার ব্যবহার করতে পারেন এমন মাস্ক বিতরণ করবে। করোনা বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজনে আইসোলিয়েশন সেল চালু ও স্বাস্থ্য বিধিমানতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে অবস্থা বুঝে আমরা প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এদিকে শীতে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে তা মানছেন না বেশিরভাগ মানুষ। ফলে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
গতকাল বিকেলে জেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলা অভিযান চলছে। সংক্রমণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে এই অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। এসময় মাস্ক ব্যবহার না করায় জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সাধারণ মানুষকে মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায়
সিলেটের অভিজাতদের ক্লাব খ্যাত সিলেট স্টেশন ক্লাব ১৪০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে বন্দরবাজারে। পাশেই জেলা পরিষদ। একটু ঘুরলেই জেলা প্রশাসকের
সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি গ্যাস নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির
২৫% কমিশন, জালিয়াতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালিন সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের ক্ষমতার দাপট
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, দ্রুত বদলাতে শুরু
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দলের রাজনীতিতে সক্রিয়তা ধরে রাখতে ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে চাঙ্গা
যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কুফল থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় যাত্রা
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে ৫ দিনব্যাপী সুস্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রমের ৪র্থ দিন সম্পন্ন