editor
প্রকাশিত: 10:49 AM, October 26, 2020
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি
সিলেট মহানগর পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানাধিন টার্মিনাল ফাড়িকে ম্যানেজ করে কদমতলী বালুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় বাবুল, আল-আমিন ও নজরুলের নেতৃত্বে চলছে ভারতীয় তীর খেলাসহ বিভিন্ন নামের জমজমাট জুয়ার আসর। এর ফলে বিপথগামী হচ্ছে কদমতলীর আশপাশ এলাকার তরুণ ও যুবকরা। দীর্ঘদিন দিন ধরে এই জুয়ার আসর চলে আসলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন যদি দ্রুত এই জুয়ার আসর বন্ধ করা না হয় তাহলে এলাকার তরুণ যুবকরা যেমন অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়বে, তেমনি নগরীতে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে।
২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ভারতীয় ধনকুবেরা এ রকম খেলা আবিষ্কার করেন। এর নাম রাখা হয় মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় তির খেলা। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে অনুষ্ঠিত তির খেলায় অংশ হিসেবে নগরীর দক্ষিণ সুরমা বালুর মাঠে বসেই জুয়ায় বাজি ধরা হয়। বালুর মাঠে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে এদেশীয় এজেন্টরা ভারতের জুয়ার আসরের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় করেন।
এখানে ভারতীয় তীর ছাড়াও চলছে তিনতাস, জান্ডু, জাকা-নাকাসহ নিত্য নতুন খেলার আমদানিতে মেতে উঠেছেন বাবুল হাতিয়ে নিচ্ছেন নগরীর রিক্সা চালক, অটোরিকশাচালক ও বেকার যুবকরা এই সকল খেলায় অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে বাবুলের এই খেলা চললেও এদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, খেলা বাবুলের মাধ্যমে থানাপুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে বখরা পৌঁছে দেয়া হয়। সূত্র জানায়, তীর খেলায় এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ১-১০০ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় যে-কোনো মূল্যে। যত মূল্যে বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে। অর্থাৎ, ১ টাকায় ৭০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন।
সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাবেন। চরকির মতো একটি চাকা ঘুরে এবং এই চাকা লক্ষ করে তির ছোড়া হয়। যে নম্বরে তির লাগে, সেই নম্বর বিজয়ী। এই তির খেলা সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। সপ্তাহে ৬দিন খেলাটি পরিচালিত হয়। অন্ধ বিশ্বাসের উপর এ খেলা চলে।
অন্যান্য খেলা প্রতিদিন চলে তবে তীর খেলাটি ভারতের রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনসহ প্রতি রোববার ছাড়া বাকি সকল দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন বিকাল বেলা ভারতের শিলংয়ে মোবাইলফোনের মাধ্যেমে খোঁজ নেন কোনো সংখ্যার লটারি লেগেছে। তারপর তা মূহূর্তের মধ্যই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আর যারা তির খেলার সংখ্যা কিনেন, তখনই তারা জানতে পারেন, কে লটারি জিতেছেন।
সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের অনেকেই এই খেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ হারিয়ে ফেলেছেন। সারা দিন শুধু এই খেলায় ব্যস্ত থাকেন। এর কারণে দিন দিন তাদের পারিবারিক অস্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন পকেটে টাকা না থাকে তখন অনেকেই তাদের ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে এই তির খেলার সংখ্যা ঘর কেনেন। আবার কেউ-কেউ চুরি মতো অপরাধমূলক কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। ফলে এলাকাবাসী অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। যেভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে তিরের নাম্বার বিক্রি করা হয়, তাতে অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।
এব্যপারে নগরীর দক্ষিণ সুরমার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিদ্দেক আলী জানান, এভাবে যদি খেলা চলে তাহলে দিন দিন ভাড়তে থাকবে অপরাধ। এই খেলাটি বন্ধ করতে আমরা প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি। এদিকে দক্ষিণ সুরমা এলাকায় ভারতীয় শিলং-এর তীর খেলা সহ পাশাপাশি টিকটিকি নামীয় আরেক জুয়া ও তিন তাশি জুয়া খেলার ব্যবসায় সয়লাব পুরো এলাকা । এসব অপরাধ কর্মকান্ডের মুলহোতা আল আমিন ও নজরুল সহ আরো কয়েকজন। আল-আমিন ও নজরুল পুলিশের সোর্স হিসেবেও কাজ করে আসছে বলে জানা যায়। দক্ষিণ সুরমার চাঁদনীঘাটের মাছ বাজারের ভিতরে তীর খেলার মদতদাতা হলো স্থানীয় চাঁদনীঘাট, ঝালোপাড়ার ফয়েজ ও সুবেল নামের দুই ব্যক্তি। এছাড়া যমুনা মার্কেটের সামন, কদমতলী ফল মার্কেটের সামন, রেলওয়ে স্টেশনের ভিতরে রয়েছে আল আমিন ও নজরুলের জুয়ার আসর।
নজরুল ও আল-আমিন গভীর রাত পর্যন্ত মটরসাইকেল যোগে দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরাফিরা করে। এতে করে মধ্যরাতের বাস যাত্রী কিংবা রেলযাত্রীরা তাদের বেপরোয়া চলাচলে আতংকিত হয়ে পড়েন। সকাল ৭ টা থেকে সকাল ১০ টা পর্যন্ত টার্মিনাল এলাকায় তিন তাশি জুয়ার আসর বসে। এ খেলার মূল নেতৃত্বদানকারী তাহের, জামাল, নজরুল, আখতার, মানিক, খছরু নামের ব্যক্তিরা। গ্রাম-গঞ্জ থেকে সহজ সরল মানুষরা গাড়ীতে করে শহরে আসে। শহরে প্রবেশের মুখেই তাদের প্ররোচনায় পড়ে সর্বস্ব খুইয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। এদিকে ক্বীনব্রিজের নিচে রাত ১২ টার পর থেকে সারারাত চলে তিনতাশি জুয়া খেলা। এর নেতৃত্বে রয়েছে মানিক ও তাহের।
বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পিছনে মন্নান মিয়ার কলোনীতে সুজন, নজরুল, স্বপন মিয়ার নেতৃত্বে তীর ও টিকটিকি জুয়া খেলা চলে। সর্বনাশা এ জুয়া খেলায় স্কুল কলেজের ছাত্র থেকে শুরু করে দিনমজুর, রিক্সা চালক, বিভিন্ন যানবাহনের চালক-হেলপার, শ্রমিক সহ অনেকেই অংশ নিচ্ছে। ভাগ্যের এ খেলায় কেউ কেউ কিছুটা পুঁজি ফিরে পেলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অনেক জুয়াড়িরা নিঃস্ব অবস্থায় খালি হাতে ফেরত আসেন। স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে এইসব অপরাধ কর্মকান্ড চলে আসছে বলে জানা যায়।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের বাথরুমের ইজারাদার নান্টু বাথরুমের পাশেই খোলামেলা ভাবে তীরের বোর্ড বসায়। সে বেপরোয়াভাবে এইসব কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। অপরাধীরা সতর্কভাবে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কাজে সহযোগীতা করে স্থানীয় কতিপয় যুবকরা। এই জুয়ার নেশায় বর্তমানে সারা দক্ষিণ সুরমায় চুরি, ছিনতাই রাহাজানি দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক ছেলেরা জুয়ার টাকা না পেয়ে ঘর থেকে দামী মোবাইল ফোন সেট সহ অন্যান্য আসবাবপত্র এনে কম দামে বিক্রি করে জুয়ার আসরে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের নতুন প্রজন্ম নস্ট হচ্ছে।
বাবনা পয়েন্টের জিঞ্জির শাহ’র মাজারের পাশে ভাঙ্গাড়ী কাসেমের আস্তানা, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, লাউয়াই মারকাজ মার্কেট পয়েন্টের পাশে বসে নিরাপদে খেলার নাম্বার টোকন বিক্রয় হয়। কদমতলীর স্থানীয় এক রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জানান, আল আমিন ও নজরুল প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে বেপরোয়া ভাবে চলাফেরা করে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রেলযাত্রী ও বাস যাত্রীরা ভয়ে বিপাকে পড়েন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-ক্ষুদ্র ও ঋণবিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক
স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা সুইপার কলোনির প্রবেশমুখে অবস্থিত ‘খান বোর্ডিং’ নামক একটি আবাসিক হোটেল মাদকসেবী ও অপরাধীদের প্রধান ও নিরাপদ আশ্রয়ে
দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজপথের প্রতিটি লড়াই-সংগ্রামের পরীক্ষিত সৈনিক এবং তৃণমূলের সুসংগঠিত সংগঠক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে টানা সেবা দিয়ে গেলেও চাকরির স্থায়িত্ব পাননি
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এখন তৃণমূল নেতাকর্মীদের
আসন্ন উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. রেদওয়ান
ফ্রান্সে বসবাসরত সিলেট বিভাগের প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে ‘সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্স