editor

প্রকাশিত: ৬:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১০, ২০২০

‘মারতে মারতে অবজারভেশন রুমে ঢোকানো হয় এএসপি আনিসুলকে’

‘মারতে মারতে অবজারভেশন রুমে ঢোকানো হয় এএসপি আনিসুলকে’

4

অনলাইন ডেস্ক

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আনিসুল করিমকে ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে মারতে মারতে অবজারভেশন রুমে ঢোকানো হয়। আনিসুল করিম মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে বাদী এমন তথ্য তুলে ধরেছেন।

4

মামলার এজাহারে বলা হয়, ‘আমার ছেলে আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার। আমার ছেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হিসেবে কর্মরত ছিল। গত ৩/৪ দিন যাবৎ হঠাৎ করে চুপচাপ হয়ে যায়। পরিবারের সকলের মতামত অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য গত ৯ নভেম্বর প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে নিয়ে যাই। অতপর আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য একই দিন বেলা সাড়েটার দিকে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে নিয়ে যাই। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আরিফ মাহমুদ জয়, রেদোয়ান সাব্বির ও ডা. নুসরাত ফারজানা আনিসুল করিমকে হাসপাতালে ভর্তির প্রক্রিয়া করতে থাকেন। ঐ সময় আমার ছেলে হাসপাতালের সকল স্টাফদের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করে। হাসপাতালের নীচতলায় একটি রুমে বসে হালকা খাবার খায়। খাবার খাওয়ার পর আমার ছেলে ওয়াশরুমে যেতে চায়। বেলা পৌনে ১২টার দিকে আরিফ মাহমুদ জয় আমার ছেলেকে ওয়াশরুমে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসপাতালের দোতলায় নিয়ে যায়। তখন আমার মেয়ে উম্মে সালমা আমার ছেলের সাথে যেতে চাইলে আসামি আরিফ মাহমুদ জয় ও রেদোয়ান সাব্বির বাধা দেয় এবং কলাপসিবল গেট আটকে দেয়। তখন আমি, আমার ছেলে রেজাউল করিম ও মেয়ে ডা. উমো সালমা (সাথী) নীচতলায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত ছিলাম। এরপর এজাহারে উল্লেখিত আসামিসহ আরো অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আমার ছেলে আনিসুল করিমকে চিকিৎসার নামে দোতলার একটি ‘অবজারভেশন রুমে (বিশেষভাবে তৈরি কক্ষ) নিয়ে যায়।

আসামিরা আমার ছেলেকে চিকিৎসা করার অজুহাতে অবজারভেশন রুমে মারতে মারতে ঢুকায়। তাকে উক্ত রুমের ফ্লোরে জোরপূর্বক উপুড় করে শুইয়ে ৩/৪ জন হাঁটু দ্বারা পিঠের উপর চেপে বসে, কয়েকজন আমার ছেলেকে পিঠ মোড়া করে ওড়না দিয়ে দুই হাত বাঁধে। কয়েক জন আসামি কনুই দিয়ে আমার ছেলের ঘাড়ের পিছনে ও মাথায় আঘাত করে। একজন মাথার উপরে চেপে বসে এবং আসামিরা সকলে মিলে আমার ছেলের পিঠ, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যুপুরী কিল ঘুষি মেরে আঘাত করে।

3

এরপর বেলা ১২টার দিকে আমার ছেলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। যা হাসপাতালে স্থাপিত সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান। নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার পর আসামি আরিফ মাহমুদ জয় নিচে এসে আমাদেরকে ইশারায় উপরে যাওয়ার জন্য ডাক দেয়। আমি আমার ছেলে ও মেয়েসহ অবজারভেশন রুমে গিয়ে আমার ছেলেকে ফ্লোরে নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পাই। অতপর জরুরি ভিত্তিতে আমার ছেলেকে একটি প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে করে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার পরীক্ষা করে আমার ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।

এজাহারে আরো বলা হয়, আসামিগণ দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার নামে অর্থ উপার্জনের একটি অনুমোদনহীন অবৈধ এবং অসৎ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। এজাহারের ১১ হতে ১৫ নং ক্রমিকে বর্ণিত আসামিদের ব্যবস্থাপনায়, পৃষ্ঠপোষকতা ও প্ররোচনায় ১-১০নং ক্রমিকে বর্ণিত আসামিরাসহ তাদের কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সহযোগী আসামিরা পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে চিকিৎসা দেওয়ার নামে অবজারভেশন রুমে নিয়ে শরীরের বিভিন্নস্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু ঘটায়।

এর আগে মঙ্গলবার আদাবর থানায় আনিসুল করিম শিপনের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফাইজুদ্দিন আহম্মেদ বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার দশ আসামিকে সাত দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

7

তারা হলেন, মাইন্ড এইড হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন সেফ মো. মাসুদ, ওয়ার্ড বয় জোবায়ের হোসেন, ফার্মাসিস্ট মো. তানভীর হাসান, ওয়ার্ড বয় মো. তানিম মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, মো. লিটন আহাম্মদ, মো. সাইফুল ইসলাম পলাশ।

1

এ ছাড়া এ মামলায় পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছে। তারা হলেন, মুহাম্মাদ নিয়াজ মোর্শেদ, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাজ্জাদ আমিন, মোছা. ফাতেমা খাতুন ময়না।

Sharing is caring!


সর্বশেষ সংবাদ

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

8 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ করায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে সিলেট জেলা ও

সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-মার্কেট

সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-মার্কেট

5 সারাদেশে মার্কেট, বিপণিবিতান ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে হবে: কয়েস লোদী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ক্যাম্পাস গড়তে হবে: কয়েস লোদী

4 সরকারি নির্দেশনা অনুসারে দেশব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আম্বরখানা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য

সিলেটে বিয়ের পর ভরণ-পোষণ না দিয়ে স্ত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন

সিলেটে বিয়ের পর ভরণ-পোষণ না দিয়ে স্ত্রীর ওপর বর্বর নির্যাতন

4 বিয়ের পর কোনো প্রকার ভরণ-পোষণ না দিয়ে উল্টো মিথ্যা অপবাদ রটিয়ে বর্বরোচিত শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকির বিচার চেয়ে

পাঠানটুলায় সাহেদের মাদকের রমরমা বাণিজ্য, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

পাঠানটুলায় সাহেদের মাদকের রমরমা বাণিজ্য, অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

3 নগরীর পাঠানটুলাস্থ দর্জিপাড়া এলাকায় সাহেদ আলী ওরফে ‘ইয়াবা সাহেদ’ নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর রমরমা মাদক বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে

প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে ‘টাউন সাব-পোস্ট অফিস’র নবযাত্রা

প্রধানমন্ত্রীর শ্বশুরবাড়িতে ‘টাউন সাব-পোস্ট অফিস’র নবযাত্রা

2 সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলাম এলাকার বিরাহিমপুরে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়িতে ডাকঘরের (টাউন সাব-পোস্ট অফিস) কার্যক্রম ফের

পুলিশি সহায়তায় ঘরে ফিরলেও সাবেক স্বামীর সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকি অব্যাহত

পুলিশি সহায়তায় ঘরে ফিরলেও সাবেক স্বামীর সন্ত্রাসী বাহিনীর হুমকি অব্যাহত

8 দীর্ঘ আইনি লড়াই ও নানামুখী প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবশেষে পুলিশি সহায়তায় আদালতের রায়ে পাওয়া নিজ ডুপ্লেক্স বাড়িতে প্রবেশ করেছেন যুক্তরাজ্য

জালালপুরে জমজমাট ‘তীর জুয়া’, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

জালালপুরে জমজমাট ‘তীর জুয়া’, ধ্বংসের মুখে যুবসমাজ

5 সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ঐতিহ্যবাহী জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই দেদারসে চলছে যুবসমাজ ধ্বংসকারী নিষিদ্ধ ‘তীর জুয়া’। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী

1
4