editor
প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২০
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চলমান করোনাভাইরাসের প্রভাবে যেখানে স্থবিরতা রয়েছে সেখানে ধর্ষনের মত একটি সামাজিক ব্যাধির প্রকোপ বিস্তার অব্যাহত রয়েছে। বীভৎস ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতেও থেমে নেই নারী ও শিশুর প্রতি একদল বিকৃত মানসিকতার নরপিশাচের চালানো সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা। সামাজিকভাবে প্রতিহত করা না গেলে দিনে দিনে এসব ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার জন্য পরামর্শ সচেতন মহলের। তারা বলেন, সিলেট মহানগরী জালালাবাদ থানাধীন এলাকা থেকে দুই কিশোরীকে অহপরণ করে ধর্ষণ করা হয়। সেই সাথে ভিডিও ও ছবি তুলা হয়। একটি থানা এলাকায় এমন অহপরণ ঘটনা ঘটলেও পুলিশ কেন সাথে সাথে তৎপর হয়নি।
সিলেট বিভাগে গত ৮মাসে ৩৪০জন ধর্ষণের শিকার হয়ে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন। সেই সাথে যৌন হয়রানি কিংবা নানাভাবে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন ৪১৩ জন কিশোরী-তরুণী ও গৃহবধূ।
ওসিসি সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে সিলেট ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি)’তে আক্রান্ত ভিকটিমের সংখ্যা ছিল ৬১জন। এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কিশোরী-তরুণী-গৃহবধূসহ ৫০জন। ফেব্রুয়ারি মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৬৮জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫০জন। মার্চ মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৬৭জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৫২জন। এপ্রিল মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ২৪জন, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ২৩জন। মে মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ২৮জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ২৬জন। জুন মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৪৫জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ৩৭জন। জুলাই মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৪৫জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ৪৩ জন। আগস্ট মাসে ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ৫৮জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ৪৮জন। সেপ্টেম্বর মাসে (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ওসিসিতে চিকিৎসা নেন ১৭জন ভিকটিম, এরমধ্যে ধর্ষণের শিকার হন ১১জন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসিসি’র আইন বিষয় কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট পান্না সমাদাস। তিনি জানান, ২০১৯ সালে সিলেটে ধর্ষণের ঘটনা অনেকটা কম ছিল। তবে ওই বছর যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের ঘটনায় আক্রান্তে ঘটনা ছিল। তবে এ বছর সিলেট বিভাগে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা। বেশীর ভাগই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে প্রেম সংক্রান্তে। এসব ঘটনায় আক্রান্ত বেশী হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও বিশ^বিদ্যালয় তরুণীরা। মাঝে মধ্যে পরকিয়ার জেরে বিয়ের আশ্বাসে প্রতারিত হয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন অনেক গৃহবধূ।
মানবাধিকার নেত্রীদের মতে, মতে নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে শক্ত আইন আছে ৷ কিন্তু শাস্তি দিয়ে খুব বেশি অপরাধ কমানো যায় না ৷ আমাদের এখানে সমাজের ভিতরে অসংখ্য উপাদান আছে যা ধর্ষণ বা নারীর প্রতি সহিংসতাকে উসকে দেয় ৷ সমাজে অস্থিরতা, রাজনীতিতে হিংসার বহিঃপ্রকাশ, অসামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজ যখন তৈরি হয়, তখন এধরনের অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। আইনের শাসন কায়েম করা প্রথম এবং শেষ কাজ। দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন করে এবং জনগণকে সচেতন করে তুলে এ পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
জানা যায়, সিলেটে এক কিশোরীকে (১৪) অপহরণ করে এক নারীর বাসায় ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় ওই নারীসহ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম সাদিকুর রহমান (২২)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি দল শহরতলীর মইয়াচর থেকে সাদিকুর রহমান ও সহায়তাকারী নারীকে গ্রেফতার করে। আর উদ্ধারকৃত কিশোরীকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সেই জিডির ভিত্তিতে জালালাবাদ থানার এসআই কাজী জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শাহজালাল (রহ.) এর মাজার থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় ওই কিশোরী পুলিশকে জানায়, সাদিকুর রহমান তাকে অপহরণ করে একটি বাসায় আটকে রেখে ১৬ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ এবং ভিডিও ও ছবি ধারণের অভিযোগে ৮ নম্বর কান্দিগাঁও ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য শাবাজ আহমদকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জালালাবাদ থানা পুলিশ গোপাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে জালালাবাদ থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগ পাওয়া গেছে ইউপি সদস্য শাবাজ আহমদ ও তার আরও দুই সহযোগী গত ২ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জালালাবাদ থানাধীন টুকেরবাজারস্থ পীরপুর জামে মসজিদের সামনে থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে দক্ষিণ সুরমা থানাধীন লালাবাজারস্থ এক বাসায় নিয়ে যায়। ওইদিন রাত ৯টার দিকে শাবাজ আহমদ ভিকটিমকে ধর্ষণ করার পর তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামি ভিকটিমকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এসময় শাবাজ মোবাইলফোনে সেই ভিডিও ও ছবি ধারণ করে।
এছাড়াও মৌলভীবাজারে বাসায় গাঁজা পার্টির আয়োজন করে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী বাদী হয়ে সোমবার (৩১ আগস্ট) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মডেল থানা পুলিশ তা মামলা হিসেবে আমলে নেয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক।
মামলায় এজাহারে ছাত্র ফ্রন্ট, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সজীব তুষারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া জেলা বাসদের সদস্য রায়হান আনসারী ও নারী সুরক্ষা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মারজিয়া প্রভাকে ধর্ষণের সহযোগী উল্লেখ করে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট রাতে মৌলভীবাজার শহরের সোনাপুর এলাকার মাহমুদ এইচ খান নামে এক তরুণের বাসায় ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে। ওই দিন ওই বাসায় গাঁজা পার্টি দেওয়া হয়। এই পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ জন তরুণ-তরুণী। সেখানে সজীব তুষার এক তরুণীকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি চাপা থাকলেও প্রায় ২০ দিন পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহমুদ এইচ খান পোস্ট দিলে বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এদিকে, ওই ঘটনায় গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র সমালোচনা, প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষও।
অপরদিকে, মামলার আগেই সামাজিক মাধ্যমে রটে যাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে সজীব তুষার এবং রায়হান আনসারীকে নিজ নিজ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে এক জরুরি সভা ডেকে মাহমুদ এইচ খানের সহযোগী সদস্যপদ বাতিল করে।
মাহমুদ এইচ খানের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, মাহমুদ এইচ খানের মৌলভীবাজারের বাসায় গত ৩ আগস্ট ডিনার পার্টির আয়োজন করা হয়। পার্টিতে উপস্থিত হন ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিষ্কৃত) সজীব তুষার, বাসদ কর্মী (বাসদ মৌলভীবাজার জেলা বর্ধিত ফোরামের বহিষ্কৃত সদস্য) আয়কর আইনজীবী রায়হান আনসারী, নারী সুরক্ষা আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মার্জিয়া প্রভা এবং ধর্ষণের শিকার ওই তরুণী। মাহমুদ এইচ খান ওই স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, বাসায় আড্ডার ফাঁকে তুষার গাঁজা বের করে সবাইকে নিয়ে সেবন করেন। ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে বেশি গাঁজা খাওয়ান তিনি। গাঁজা খাওয়ানো নিয়ে মাহমুদ এইচ খান প্রতিবাদ করলেও মার্জিয়া প্রভা ও রায়হান আনসারী মাহমুদকে থামিয়ে দিয়ে মেয়েটিকে গাঁজা খেতে প্ররোচিত করেন। একটা পর্যায়ে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে ঘুমানোর ইচ্ছে প্রকাশ করলে তুষার তাকে রুম ও বিছনা দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজিব তুষার।
মামলার বাদী ধর্ষণের শিকার তরুণী বলেন, ‘আমি প্রথমে পরিবারের মান-সম্মান ও সামাজিক অবস্থান চিন্তা করে মামলা করিনি। আমার পরিবারকে জানানোর পর তারাও মামলায় সম্মতি দেয়নি। পরে যখন দেখলাম আমাকে উল্টো দোষ দেওয়া হচ্ছে এবং একটি ধর্ষণের ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তখন আমার কাছে বেশি আঘাত লাগে। তখন পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে আমি মামলা করি। সত্য জানানোর জন্য মামলা দেওয়া তখন জরুরি ছিল। আশা করছি, সঠিক বিচার পাবো এবং আসল সত্য বের হয়ে আসবে।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেছেন, দেশের সকল মতের ও পথের দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের
রাস্ট্র কাঠামোর বিভিন্ন জায়গায় বসে ষড়যন্ত্র করছে পতিত স্বৈরাচারের দোসররা বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সিসিকের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, অতীতে যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে তারা কেবল
সিলেট লায়ন্স ফাউন্ডেশন (এসএলএফ) এর উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বুধবার সিলেট নগরীর নাইওরপুলস্থ একটি অভিজাত হোটেলের
গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত নারকীয় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, গাজার মুসলমানদের গনহত্যায় ইসরায়েলের পাশাপাশি মুসলিম শাসকরা দায়ী। এদের নেফাকি
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলের বর্বর গণহত্যা ও ভারতের মুসলিম নিপীড়নের প্রতিবাদে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক করায় সিলেটে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল