editor
প্রকাশিত: 11:38 AM, October 24, 2026
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সমীকরণ। দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের মতোই বর্তমানে প্রশাসক দিয়েই চলছে সিসিকের কার্যক্রম। নির্বাচন কমিশন আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করায় ইতিমধ্যেই মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তবে সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়Ñআসন্ন সিসিক নির্বাচনে কার হাতে উঠছে দলের মেয়র পদের টিকিট?
একসময় ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত সিলেট সিটি কর্পোরেশন বর্তমানে পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে ৪২টি ওয়ার্ডের বিশাল এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। তবে সম্প্রতি এই নগরীর প্রশাসকের দায়িত্বে জেলা বিএনপির সভাপতিকে বসানোকে কেন্দ্র করে দলটির ৪২টি ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তৃণমূল কর্মীদের মনে প্রশ্ন জেগেছেÑতাহলে কি মহানগর বিএনপিতে সিসিকের প্রশাসক হওয়ার মতো কোনো যোগ্য ও দক্ষ নেতা নেই?
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন প্রশাসকের দায়িত্বে থাকলেও জেলা বিএনপির সভাপতি নতুন বর্ধিত সীমানাসহ সিটির ৪২টি ওয়ার্ডে নিজের জোরালো রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। বরং মহানগর বিএনপি তাদের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক কৌশলে ৪২টি ওয়ার্ডের মূল রাজনীতিকে প্রশাসক থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি সিসিকের উদ্যোগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সেই বৈষম্য ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসে।
সিসিকের ৪২টি ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্পষ্ট ও আকুল আবেদনÑযাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সিলেট মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সিটির প্রতিটি গলিতে সক্রিয়, তাঁদের মধ্য থেকেই কাউকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করতে হবে। জেলা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কাউকে মহানগর কেন্দ্রিক এই নগরপিতার আসনে বসানো হলে দলটি চরম ভরাডুবির ঝুঁকিতে পড়বে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি কর্পোরেশন হাতছাড়া হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হবে। তবে মহানগর বিএনপির ভেতর থেকে অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য কোনো নেতাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হলে, ৪২টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সর্বাত্মক ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মহানগর বিএনপিতে একক কোনো নাম চূড়ান্ত হয়নি। একাধিক প্রভাবশালী নেতা নিজ নিজ বলয় গড়ে তোলায় অনিশ্চয়তা ও ভেতরে ভেতরে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মনোনয়ন দৌড়ে আলোচনায় রয়েছেন মহানগর বিএনপির একঝাঁক শীর্ষ ও ত্যাগী নেতা।
মিফতাহ সিদ্দিকী: বর্তমানে ওয়াসা সিলেটের চেয়ারম্যান। সিলেট মহানগর বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেতা পূর্বে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সদস্য সচিব হিসেবে দলীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী: সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) বর্তমান চেয়ারম্যান ও দলটির দুর্দিনের কাণ্ডারি। গত ৫ আগস্টের পূর্বে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে প্রতিটি কমিটিতেই সক্রিয় ছিলেন তিনি।
বদরুজ্জামান সেলিম: জালালাবাদ গ্যাসের বর্তমান পরিচালক ও সাবেক জনপ্রিয় ছাত্রনেতা। তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন।
আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি: সিসিকের সাবেক এই সফল প্যানেল মেয়র মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব সামলেছেন।
নাসিম হোসাইন ও ইমদাদ হোসেন চৌধুরী: মহানগর বিএনপির বর্তমান সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীও প্রার্থী হিসেবে মাঠপর্যায়ে জোরালো আলোচনায় রয়েছেন।
তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছেন রিয়াসাদ আজিম হক আদনান। পূর্বে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল পদে থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই তিনি জেলা বিএনপির পদ ছেড়ে মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে এই রদবদল ইঙ্গিত দেয় যে কেন্দ্র হয়তো তরুণ নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে আদনানকে বিশেষ বিবেচনায় রাখতে পারে। তাছাড়া, সিলেট মহানগর বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে তাঁর প্রয়াত পিতা এম. এ. হকের অসামান্য অবদান সর্বজনবিদিত। মরহুম এম. এ. হক মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন।
সিসিকের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল দাবি যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে অবশ্যই বর্ধিত ৪২টি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক চিত্র সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অবগত থাকতে হবে। দলের থানা, ওয়ার্ড, পাড়া-মহল্লা, আঞ্চলিক কমিটি এবং সামাজিক পঞ্চায়েতের মুরুব্বীদের সাথে যাঁর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কেবল তাঁকে যেন মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরীতে বিএনপির ঘাঁটি ধরে রাখতে তৃণমূলের এই আবেগকে দলের হাইকমান্ড কতটুকু মূল্যায়ন করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি গ্যাস নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির
২৫% কমিশন, জালিয়াতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালিন সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের ক্ষমতার দাপট
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, দ্রুত বদলাতে শুরু
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দলের রাজনীতিতে সক্রিয়তা ধরে রাখতে ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে চাঙ্গা
যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কুফল থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় যাত্রা
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে ৫ দিনব্যাপী সুস্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রমের ৪র্থ দিন সম্পন্ন
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির নিয়মিত সভা গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিলেটের আম্বরখানায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান কর্তৃক গণদাবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা, বিভ্রান্তকর