editor
প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০
নুরুল ইসলাম/তাহমিনা আক্তার
দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সব সময় ভালো ছিলো। হঠাৎ করে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ ও রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। যার ফলে সিলেটজুড়ে মানুষের মনে জন্ম নিয়েছে আতঙ্ক। শীত কিংবা বর্ষা। দুই মৌসুমেই বদলে যায় সিলেট বিভাগের সিলেট-সুনামগঞ্জ-মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। শীত মৌসুমে ডাকাত আতঙ্ক দেখা দেয় সিলেটজুড়ে। সিলেট কিংবা বাইরের ডাকাতদলের কারণে ঘুম হারাম হয়ে যেত সিলেটবাসীর। ডাকাতির জন্য পরিচিত এলাকায় মানুষজন রাত জেগে পাহারা দিতেন। ডাকাত দলের টার্গেটে থাকতেন প্রবাসীরা।
অপরদিকে হঠাৎ করে তৎপরতা বেড়ে গেছে মাদক ব্যবসায়ীদের। সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফলে নানা কৌশলে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ঢুকছে মাদকের বড় বড় চালান। ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেঁষা সিলেটের চার উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ফেনসিডিল, অফিসার্স চয়েজ মদ, বিড়ি ও গাঁজা। আর আসামের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা দিয়ে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। ফলে সিলেটে এখন হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। র্যাব ও পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে মাদকের ‘ক্যারিয়ার’রা ধরা পড়লেও মূলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীরা নানাভাবে পুলিশকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
এদিকে দীর্ঘ ৪ বছর পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সিংহাসন থেকে বদলি করা হয় গোলাম কিবরিয়া পিপিএম। গত ২২ অক্টোবর তাকে বদলী করে নিশারুল আরিফকে দেওয়া হয় এসএমপির দায়িত্ব।
সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে সিলেটসহ সারা দেশ।
ঘটনাটি প্রথমে আইনি ব্যবস্থার চেয়ে আপোষে মনোযোগী হয়ে উঠে এসএমপির শাহপরান থানা পুলিশ। ধামাচাপা দেয়ার এহেন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন স্থানীয় প্রতিবাদী মানুষ। পরবর্তীতে এ গণধর্ষন মামলা হলেও ছাত্রলীগের ৬আসামীকে ধরতে ব্যর্থ হয় এসএমপি পুলিশ। পরে র্যাব ও জেলা পুলিশের দক্ষতায় গ্রেফতার হয় ছাত্রবাসে ধর্ষণ মামলার আসামীরা। ইমেজ ম্লান হয় এসএমপির, প্রশংসায় কুড়ায় জেলা পুলিশ ও র্যাব। এরপরও এসএমপির কতোয়ালী থানাধীন বন্দর বাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমদ নামের এক যুবকের উপর নির্যাতন ও হত্যা ঘটনায় সুনামীর ঢেউ উঠে সর্বত্র। পুলিশের বক্তব্য ছিল ছিনতাই ও গণপিটুনীতে মারা গেছে রায়হান। সে বক্তব্যকে বিশ^াস করে গণমাধ্যম ও সংবাদ প্রচার করে। কিন্তু পুলিশের বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত রায়হানের মৃত্যু ঘটনা বিশ^াসযোগ্যতা হারায় রায়হান মৃত্যুর সঙ্গে পুলিশের সম্পৃক্ততা উঠে আসায়। অতপর চাউর হয়ে যায়, পুলিশী নির্যাতনেই মৃত্যু ঘটেছে রায়হানের। যে পুলিশ বক্তব্য দিয়েছিল, রায়হানের মৃত্যু হয়েছে গণপিটুনীতে, সেই পুলিশই আবার এ ঘটনায় বন্দর বাজার পুলিশকে প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত করে বরখাস্ত করেন ফাড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ ৪ জনকে এবং প্রত্যাহার করেন ৩ জনকে। রায়হান হত্যা ঘটনার মধ্যে দিয়ে পুলিশ ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ^াস-ভার্বমূতি তলানীতে গিয়ে ঠেকে। সিলেটের ইতিহাসে প্রথম এটাই কোন ঘটনা, যাকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের মানুষের একাট্টা হয়ে মাঠে নামে। এ ঘটনায় ২ থেকে ৩ বার হামলা চালানো হয় পুলিশ ওপর। পাশাপাশি ঘেরাও করা হয় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি। রায়হান হত্যায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সিলেটসহ বিশ্বব্যাপী।
অবশেষে গত ৯ নভেম্বর সিলেট জেলা পুলিশের সোর্সের সহযোগিতায় বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। আবারও সকল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় জেলা পুলিশের কার্যক্রম।
আর কিশোর গ্যাং, কিশোর আড্ডা, গলির মুখে মোটরসাইকেল মহড়া, সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া এমনকি খুনোখুনি সিলেটে এখন নিত্ত নৈমত্তিক বিষয়। উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধ নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মেট্টোপলিটন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নবাগত কমিশনার নিশারুল আরিফ জানান, আমি এসএমপির থানা ও ফাঁড়ি পুলিশের উপর নজরদারি করে বুঝতে পেরেছি বেসিক পুলিশিং সেবা দুর্বল রয়েছে এবং কিছু ছোট ছোট সমস্যা পেয়েছি। সকল সমস্যা চিন্তিত করে শীঘ্রই সমাধান চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতেরে চেয়ে অনেক ভালো। আমার পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বে নিয়ে কাজ করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। সিলেটের নৌপথে চাঁদাবাজি এবং শীতকালে ডাকাতি রুখতে পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ শুরু করেছি। পুলিশি টহল জোরদার করেছি। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের তাদের কাজের প্রতি দায়িত্বেশীল করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এছাড়াও প্রত্যেকটিতে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরো জোরদার করতে কাজ করছি। তে কোন তাৎক্ষণিক সমস্যা নিয়ে পরিকল্পনা করে তা সমাধানের চেষ্ঠা করছি। পুলিশিং সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশ এখন প্রত্যেকটা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে পুলিশি সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কাজ করতে গিয়ে ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাধারণ মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি পাবে, পুলিশ অপরাধ করলে একই শাস্তি পাবে।
সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জে বাড়ছে পারিবারিক বিরোধ ও বেপরোয়া চাঁদাবাজি। গত ৮ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কমিটির মাসিক সভা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিসেট্রট মো. আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিসেট্রট মো. সোহেল মাহমুদ’র সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত, ছাতক পৌর মেয়র আবুল কালাম, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, দোয়ারাবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. আব্দুর রহিম, শাললা উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সফর উদ্দিন, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহসভাপতি মোঃ আমিনুল হক, পরিচালক অমল কান্তি কর, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন নাহার রুমা, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার শাম্মি, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সফি উল্লা, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবীর, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়া। সভায় সুনামগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা সন্তোষজনক বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
সুনামগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো সেটা আমি বলবে কিন্তু সুনামগঞ্জের মানুষ কি বলে সেটা হচ্ছে বড় কথা। আমি কর্মে বিশ^াস করি কর্মকরতে এসেছি। সরকারী রুল অনুসারে কর্ম করে যাব বা যাচ্ছি।
মৌলভীবাজার : চিরচেনা সবুজের মতো মায়াবী এই শহরের চিত্র এরকম কখনো ছিলনা, এখানেই নেই কোন রাজনৈতিক বৈরিতা, আছে বহুকাল ধরে রাজনৈতিক সুস্থ সংস্কৃতির এক মহান ঐতিহ্য। আর এভাবেই এখানে বেড়ে উঠছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।’ রাজনৈতিক ছত্রছাঁয়ায় বাড়ছে অপরাধ, ঘটছে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা। নানা সময়ে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন অনেকের। প্রতিটি ঘটনা ঘটার পরে পুলিশি তৎপরতা বাড়লেও সময় বাড়ার সাথে সাথে বদলে যায় সবকিছু। মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে দিন দিন বাড়ছে অপরাধ। গত ৮ মাসে খুন হয়েছে ১৫ জন। চা বাগানের ছড়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মরদেহ। চা বাগানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা না থাকায় অপরাধ বাড়ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তবে চা বাগানগুলোতে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও দোষিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন জেলার পুলিশ সুপার। জন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৮ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলে জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এমপি। সভায় উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ পিপিএম (বার), সিভিল সার্জন ডাক্তার তাওহীদ আহমদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া সুলতানা প্রমুখ।
মৌলভীবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বলেন, যে মাপকাটি দিয়ে আপরাধ মাপা হয় তা দিয়ে মাপলে আশা করি মৌলভীবাজারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভালো। শীতকালীন ডকাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আমরা অনেক ডাকাত সর্দারকে আটক করেছি। ডাকাতি রুখতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। সকল ধরনের অপরাধ রুখতে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। জেলা নয়টি উপজেলার শতাধিক স্পটে নিয়মিত বসছে জুয়ার আসর। জেলার বাইরে থেকেও জুয়াড়িরা এসে যোগ হচ্ছে এসব স্থানে। আসরের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক নেতাসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রতি রাতেই কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। মাঝে মধ্যেই কিছু জুয়াড়িকে পুলিশ আটক করলেও অভিযোগ রয়েছে গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। জানা গেছে, সন্ধ্যা নামার পরই তাস, গাফলা, লুডু ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে দোকান-পাঠসহ বিভিন্ন ঝোপ-ঝাড়ে জুয়া খেলার আয়োজন করা হয়। আসর চলে রাতভর। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ম্যাচ নিয়েও প্রতিদিন হচ্ছে লাখ লাখ টাকার খেলা। এতে জড়িয়ে যাচ্ছে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। গত ৩ মাসে হবিগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২০টি ডাকাতির ঘটনাসহ নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। জুয়া এবং মাদকের কারণেই অপরাধ বাড়ছে বলে দাবি সচেতন মহলের।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ শহরের গরুর বাজার, চৌধুরী বাজার, আনোয়ারপুর বাইপাস, শায়েস্তানগর, সদর উপজেলার পইল, কামড়াপুর, রামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়, লাখাই উপজেলার করাব, কালাউক, বামৈ, ভাদিকারা, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নতুন ব্রিজ এলাকার একাধিক স্থান, নিশাপট, ফরিদপুর, রেলস্টেশন, দিঘীর পাড়, বড়চর হাসপাতালের পাশে, নবীগঞ্জ উপজেলার করগাঁও শেরপুর, পারকুল, ভাটি শেরপুর, কামারগাঁও, সাইনবোর্ড, আনমনু, বাহুবল উপজেলার নন্দনপুর, মিরপুর, বাহুবল সদর, কবিরপুর, বানিয়াচং উপজেলার নতুন বাজার, বড় বাজার, যাত্রাপাশা, ইমামবাগ, জাতুকর্ণপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও, বদলপুর, জলসুখা, শিবপাশা, পৌর এলাকার মধ্য বাজার, মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী, রাজনগর, ধর্মঘর, মোহনপুর, মনতলা, শ্রীধরপুর, তেলিয়াপাড়া চা-বাগান, নোয়াপাড়া চা-বাগান, চুনারুঘাট উপজেলার সাদ্দাম বাজারের পার্শ্ববর্তী এলাকা, বাসুল্লা বাজারের দক্ষিণ দিকের মাঠ, আমুরোড কালামন্ডল, আসামপাড়া ও টেকের ঘাট গ্রামের বিভিন্ন স্থানে বসছে জুয়ার আসর। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকার জুয়া হচ্ছে বাহুবলের মিরপুর ও আজমিরীগঞ্জের কাকাইলছেও এলাকায়। ওয়ান-টেন এবং ভারতের এন্ডিং জুয়ার মাধ্যমে প্রতি রাতেই নিঃস্ব হচ্ছে এলাকার বিভিন্ন মানুষ। অন্যদিকে বিভিন্ন গলি এবং দোকানপাটে বসে ক্রিকেট ম্যাচের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার জুয়া খেলা হচ্ছে প্রতিদিন।
স্থানীয়রা জানান-উল্লেখিত এলাকাগুলোতে প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর বসায়। এতে স্থানীয় কলেজগামী ছাত্রসহ উঠতি বয়সের যুবকরা এসবে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযানে কিছু জুয়াড়িকে আটক করলেও গডফাদারদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের। সম্প্রতি জেলাজুড়ে চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হিসেবে এ জুয়াকেই ধরে নিচ্ছেন সচেতন মহল।
হবিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন, আমাদের জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত স্বাভাবিক আছে। তারপরও শীতকাল চলছে এই মৌসুমে ডাকাতি এ অঞ্চলে বেড়ে যায় এ বিষয়টি মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে হবিগঞ্জে জলমহাল লিজ নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্ঠি হয় আমরা সেই বিষয়গুলো আপোষ মিমাংশার মধ্যে দিয়ে সমাধানের চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা নাগরিক সমাজ আতঙ্কগ্রস্ত। সিলেটের এমসি কলেজের ধর্ষণের ঘটনার পর ক্রমাগতভাবে বেড়ে চলেছে অপরাধ। আর রায়হান হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আকবার গ্রেফতারের পর যে পুলিশ যে নাটকীয়তা করেছে তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সকল অপরাধের দায় জেলা প্রশাসক এড়িয়ে যেতে পারেন না। কারণ জেলা প্রশাসক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে পালন করেন। আমাদের প্রত্যাশা সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে নাগরিকরা সুস্থিতে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করবে।
7 হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার
2 সিলেটের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বৃহত্তর মদিনা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির ২০২৬-২০২৯ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতিক বরাদ্দ দেওয়া
5 “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে শেষ হলো মাসব্যাপী অ্যাথলেটিক্স (অনূর্ধ্ব-১৫) প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। বৃহস্পতিবার
2 বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানসহ ৩ দফা দাবিতে সিলেট মহানগরীতে এক বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ
3 প্রায় ২ বছর বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করা যাবে
3 ২০০৪ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় চাঞ্চল্যকর বোমা হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর,
3 সিলেটের সীমান্তঘেঁষা জৈন্তাপুর উপজেলায় ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ফারুক ওরফে ‘কাউয়া ফারুক’কে ঘিরে নতুন নতুন
6 সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার কুশিয়ারা-কালনী নদী থেকে রাতের আঁধারে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।