editor
প্রকাশিত: 11:41 AM, August 20, 2026
সিলেট মহানগর এলাকায় রেকার ও অকশনের গাড়ি ব্যবস্থাপনা ঘিরে আগের অভিযোগের পর এবার নতুন করে আরও গুরুতর প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চয়ন সরকার।
বর্তমানে তিনি পুলিশের কোনো সরকারি দায়িত্বে না থাকলেও ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং আটক গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়া ও বিভিন্ন যানবাহনের কাগজপত্র ও নম্বর প্লেট ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের মূল প্রশ্ন চয়ন সরকার কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও কীভাবে পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকছেন? আটক করা নম্বরবিহীন ‘ওয়ান টেস্ট’ গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এসব গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা কী?
অভিযোগ রয়েছে, সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন সড়কে কিছু যানবাহন জাল, ভুয়া বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ নম্বর প্লেট ব্যবহার করে চলাচল করছে। এসব গাড়ির ক্ষেত্রে অকশনের প্লেট, জিডি নম্বর প্লেট, কথিত ডিজিটাল প্লেট এবং ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্লেট ও কাগজপত্র তৈরির সঙ্গে চয়ন সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি গাড়ির জন্য কথিত কাগজপত্রের সেট তৈরি করে দিতে চয়ন সরকারকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার নজির রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, দক্ষিণ সুরমা এলাকার বান্ধের নিচে শাহিন নামে এক ব্যক্তির স্ট্যান্ডে একাধিক কথিত ভুয়া কাগজপত্রের গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ির জিডি নম্বর প্লেট থেকে শুরু করে অন্যান্য কাগজপত্র চয়ন সরকার নিজেই করে দিয়েছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই এলাকা ট্রাফিক পুলিশের টিআই মতিউর রহমানের দায়িত্বাধীন।
অভিযোগকারীদের দাবি, চয়ন সরকার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ‘কন্টাক্ট’ করে এবং প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে টিআই এডমিন এর যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে ‘রফাদফা’ করেন। এর আগে অভিযোগ উঠেছিল, চয়ন সরকার ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রেকারে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সেখানে কর্মরত না থাকলেও বিভিন্ন সার্জেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আটক করা নম্বরবিহীন ‘ওয়ান টেস্ট’ গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে মাসিক চুক্তিতে এসব গাড়ি নগরীর বিভিন্ন সড়কে চলাচলের সুযোগ করে দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অভিযোগ রয়েছে, মৌলভীবাজার রোডের কিছু ‘ওয়ান টেস্ট’ গাড়ি অকশনের প্লেট ব্যবহার করে মৌলভীবাজার এলাকা থেকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর, কদমতলী পয়েন্ট, টার্মিনাল হয়ে স্টেশন ক্রসিং ব্রিজের মুখ পর্যন্ত চলাচল করছে। একইভাবে বিয়ানীবাজার রোডের কিছু ‘ওয়ান টেস্ট’ গাড়িও অকশনের প্লেট ব্যবহার করে কদমতলী মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পর্যন্ত চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নতুন অভিযোগে বিষয়টি আরও বিস্তৃত আকারে সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু আটক গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়া নয়, বরং কিছু গাড়ির নম্বর প্লেট ও কাগজপত্র তৈরির ক্ষেত্রেও চয়ন সরকারের ভূমিকা রয়েছে। ফলে তিনি কোনো সরকারি পদে না থেকেও কীভাবে পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছেন, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও প্রশ্ন তুলেছেন চয়ন সরকার কি কোনো সার্জেন্টের ব্যক্তিগত সহকারী বা কথিত ‘পকেট ড্রাইভার’ হিসেবে পুলিশের সঙ্গে চলাফেরা করছেন, নাকি অন্য কোনো পরিচয়ে পুলিশের কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন? যদি তার কোনো সরকারি পদ বা বৈধ দায়িত্ব না থাকে, তাহলে আটক গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়া, নম্বর প্লেট বা কাগজপত্র ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তার ক্ষমতা বা অনুমোদনের উৎস কী—তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে জাল বা ভুয়া নম্বর প্লেট, জিডি নম্বর প্লেট কিংবা অসামঞ্জস্যপূর্ণ কাগজপত্র ব্যবহার করে নগরীর সড়কে যানবাহন চলাচলের অভিযোগ তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সড়ক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তার উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।সংশ্লিষ্টদের মতে, চয়ন সরকার বর্তমানে কোথায় কর্মরত, পুলিশের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক আছে কি না, আটক গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার কোনো বৈধ কর্তৃত্ব রয়েছে কি না এবং বিভিন্ন গাড়ির কথিত জাল কাগজপত্র ও নম্বর প্লেট তৈরির অভিযোগের সত্যতা কী এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।
তবে অভিযোগগুলো সত্য নাকি ভিত্তিহীন—তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট গাড়ির কাগজপত্র, নম্বর প্লেট, জিডি নম্বর, রেকার রেকর্ড, অকশন সংক্রান্ত নথি, ট্রাফিক পুলিশের ডিউটি রোস্টার ও আটক-ছাড়ের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি চাকরিতে না থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে পুলিশের কার্যক্রমের সঙ্গে এতটা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছেন, সেটিও প্রশাসনের কাছে এখন বড় প্রশ্ন। এ ব্যপারে জানতে সাবেক রেকার চালক চয়ন সরকার এসব বিষয় অম্বিকার করে বলেন আমি এখন এই চাকুরিতে নাই। একই ব্যপারে জানতে টি আই মতিউর এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
8 দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৩তম) নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 2 বৃহস্পতিবার (২০
1 শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সুপ্ত প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে সিলেটের স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য
7 সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পরও পরিস্থিতির
7 সিলেট মহানগর এলাকায় রেকার ও অকশনের গাড়ি ব্যবস্থাপনা ঘিরে আগের অভিযোগের পর এবার নতুন করে আরও গুরুতর প্রশ্ন ও
4 একই দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে বহাল তবিয়তে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে
1 সিলেট সদর উপজেলার যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্র্যাক কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আনলকিং ফাইন্যান্সিয়াল সলিউশন’স ফর ইয়ুথ
8 সিলেট-০৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুফতি আবুল হাসান এমপি বলেছেন, বর্তমান সমাজব্যবস্থায় নৈতিকতার
6 সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সব সময় দল