editor
প্রকাশিত: 11:01 AM, September 9, 2026
বছর দশেক আগেও তিনি ছিলেন পাথর শ্রমিক। আর বাবা মোশাহিদ আলী ছিলেন একজন দিনমজুর। তবে দিন পাল্টে গেছে। বারকি শ্রমিক কালা মিয়া এখন সিলেটের শীর্ষ চোরাকারবারিদের একজন এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। প্রতিদিন হাতে আসছে কাড়ি কাড়ি টাকা। সেই টাকায় এখন গোয়াইনঘাটের শীর্ষ ধনাঢ্যদের একজন তিনি বলে দাবি এলাকাবাসীর। বলছি শীর্ষ চোরাচালানী হিসেবে পরিচিত কালা মিয়া ওরফে ‘শ্যাম কালা’র কথা।
তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাতির খাল গ্রামের দিনমজুর মোশাহিদ আলীর ছেলে। পাঁচ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে কালা দ্বিতীয়। জন্মসূত্রে দারিদ্র্যের করাঘাতে বেড়ে ওঠা কালা মিয়া এখন গোয়াইনঘাটের সীমান্ত এলাকাজুড়ে কলকাঠি নাড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিম জাফলং একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। সেখানে বারকি শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদে কালা মিয়ার সখ্যতা গড়ে ওঠে ছিচকে চোরাকারবারিদের সঙ্গে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সখ্যতাই ধীরে ধীরে পাল্টে দেয় কালা মিয়ার জীবন। ঘুরতে থাকে ভাগ্যের চাকা।প্রথমে নিজে উপস্থিত থেকে চোরাচালানকৃত মালামাল চোরাকারবারিদের কথামতো অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতেন কালা। সময়ের সঙ্গে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। যে ঘরে আগে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো, সেই ঘরে এখন আলীশান অবস্থা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত তিন বছরে কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালার ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে গেছে। কয়েক বছরের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, চোরাকারবারিদের মালামাল পরিবহনের পর কালা নিজেই ডিবি পুলিশের ‘লাইনম্যান’ ও ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়ে গড়ে তোলেন একটি বিশাল চোরাকারবারি সিন্ডিকেট ও নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছেন চোরাচালান বাণিজ্যÑএমন অভিযোগও রয়েছে।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নাম ব্যবহার করে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে শ্যাম কালার বিরুদ্ধে। নিজেকে ডিবির ‘লাইনম্যান’ ও ক্যাশিয়ার পরিচয় দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভারতীয় চিনি, জিরা ও কসমেটিক্সবাহী ট্রাক আটকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে চরম অতিষ্ঠ ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহন চালকেরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাতির খাল গ্রামের সাবেক বারকি শ্রমিক শ্যাম কালা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন ডিবি পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করতেন,এমন অভিযোগ রয়েছে। পটপরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বলে স্থানীয়দের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, গোয়াইনঘাটে ডিবির ‘লাইন’ মাসিক চুক্তিতে এনে বিভিন্ন ইউনিয়নে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রতিদিনের আদায় করা টাকা শ্যাম কালার কাছে জমা হয়, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে অভিযোগ।সীমান্ত রুটে শ্যাম কালার একটি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পণ্যবাহী পরিবহন দেখলেই তারা ডিবির ভয় দেখিয়ে পথ রোধ করে। টাকা না দিলে গাড়ি থানায় নিয়ে যাওয়া, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো অথবা সালুটিকর অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে গাড়ি আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে চাঁদা পরিশোধ করলে দেওয়া হয় বিশেষ সংকেত, যার বিনিময়ে মিলে চলাচলের সুযোগÑএমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এহেন কোনো ভারতীয় পণ্য নেই যা অবৈধভাবে পাচার করে না কালা সিন্ডিকেটের সদস্যরা, এমনও অভিযোগ রয়েছে। ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, মোটরসাইকেল, ইয়াবা, ফেনসিডিল, মদ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য পাচারের সঙ্গে কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা সিন্ডিকেটের সদস্যরা জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গেও কালা মিয়া সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য জড়িত।স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিম জাফলংয়ের সোনারহাঁট সীমান্তকে চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে কালা সিন্ডিকেট। এ ধরনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
তাদের দাবি, এখানে কালা মিয়া বাহিনীর কথাতেই চলে সবকিছু।তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলেই এলাকার লোকজনের ওপর অত্যাচার শুরু করে কালার লাঠিয়াল বাহিনী।
এলাকার অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, যারা বা যেসব ব্যক্তি কালা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে এই চক্রÑকখনো ডিবি পুলিশ দিয়ে, কখনো মিথ্যা মামলা দিয়ে, আবার কখনো তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে।
ভুক্তভোগী একাধিক ট্রাকচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ডিবির ভয় দেখিয়ে চাঁদা দিতে দিতে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। দিন এনে দিন খাওয়া সাধারণ পরিবহন শ্রমিকরা এই চাঁদাবাজ চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
তবে এত অভিযোগের পরও প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসন কেন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না? অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বা গ্রেফতারের উদ্যোগ কোথায়? একজন সাবেক বারকি শ্রমিক কীভাবে এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন যে, তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন? স্থানীয়দের প্রশ্ন, ‘শ্যাম কালা কি তাহলে প্রশাসনের চেয়েও এতটাই শক্তিশালী?’
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চোরাচালান ও কথিত চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার পরও শ্যাম কালার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে শ্যাম কালাসহ সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
সিলেট জেলা পুলিশ ও ডিবি সূত্রে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, ডিবি পুলিশের কোনো ‘লাইনম্যান’ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধি নেই। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে যারা টাকা তুলছে, তারা প্রতারক ও অপরাধী।
অন্যদিকে গোয়াইনঘাট থানা প্রশাসন জানায়, চিহ্নিত এসব চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে শ্যাম কালাসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে তাদের একাধিক মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে ফোন করা হলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, তারা বারবার মোবাইল ফোন নম্বর পরিবর্তন করেন।
এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন চোরাচালান ও কথিত চাঁদাবাজির এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এখন দেখার বিষয়, স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশ্নের পর প্রশাসন শ্যাম কালাসহ কথিত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং তাকে আদৌ গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয় কি না।
1 হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নে ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা কথিত ‘খালিছ’ আবারও এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
3 বছর দশেক আগেও তিনি ছিলেন পাথর শ্রমিক। আর বাবা মোশাহিদ আলী ছিলেন একজন দিনমজুর। তবে দিন পাল্টে গেছে। বারকি
7 সিলেট সদর উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও অবাধ বেচাকেনার প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে নাম আসে ৬ নম্বর টুকেরবাজার ইউনিয়নের
4 চীন সরকারের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় চীনে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ দিনের উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ
1 সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে সিলেটের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ
6 ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘৮ম চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। 4 প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে
2 সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনারÑরাজনীতির রাজপথে এক পরীক্ষিত, আপসহীন ও জনপ্রিয় নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, হুলিয়া,
7 সিলেট নগর রাজনীতিতে রাজপথের দূরদর্শী নেতৃত্ব, করোনাকালীন দুর্যোগে মানবিক ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখের সহমর্মী হিসেবে নিজেকে আলাদা উচ্চতায়