admin
প্রকাশিত: 12:14 PM, October 9, 2026
সুলতান সুমন:
রেবুল কুমার দাস (৪৬)। জাতীয় পরিচয়পত্র নং ৯০২৮৯০৪২২২২৫৮। তিনি ছাতক সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারের মান্নারগাঁও ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মৃত যোগেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। ছাতক-দোয়ারা সুনামগঞ্জের-৫ আসনের অন্তর্গত তার বাড়ি। রেবুল ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এমপি মুহিবুর রহমান মানিকের ঘনিষ্ঠজন।
তিনি একই আসনের বাসিন্দা হওয়ার কারণে তার দহরমমহরম সম্পর্ক রয়েছে পরিবেশ ধ্বংসকারী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের সাথে। যার ফলে রেবুলের শেল্টারে প্রকাশ্যে দিনে-রাতে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালু খেকোরা।
বালু খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান হলেও আড়ালে থেকে যায় বালু লুটকারি মূল অপরাধীরা। কারণ অভিযানের আগেই খবর পৌছান রেবুল। জেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিলে তখনই রেবুল কুমার দাস নিরিহ লোকজনের নাম দিয়ে মামলার আসামি করান। আর ওই মামলা থেকে নাম বাদ দিতে লক্ষ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করার এমনই অভিযোগ করেছেন রেবুল কুমার যে মামলায় বাদী সেই মামলার ১৫ নং আসামি সিলেটের কোম্পানিগঞ্জের উপজেলার বাসিন্দা চাটিবহর গ্রামের তৈমুজ আলীর ছেলে সুজন (৪৬)।
সুজন জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং সিলেট শহরে ব্যবসা করেন। ছাতকের যে মামলার ঘটনার সময় বা স্থান দেওয়া হয়েছে, সেই সময় বা স্থানে তিনি ছিলেন না। তিনি তখন সিলেটে অবস্থান করছেন (যা মোবাইলের সিডি আর তুললে) বা সঠিক তদন্ত করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। সুজন আরো জানান, তিনি মামলার খবর পেয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ছাতক থানার এসআই জয়ন্ত চন্দ্র দে এর সাথে যোগাযোগ করেন, তখন ওই কর্মকর্তা জানান, তিনিও খবর নিয়েছেন। এই মামলায় সঠিক আসামি দেওয়া হয়নি।
সুজন জানান, তিনি মামলার বিষয়ে রেবুল কুমার দাসের সাথে দেখা করে কাকুতি-মিনতি করে মামলার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার নাম বাদ দেওয়ার দাবি করেন। কিন্তু তখন রেবুল জানান যে, জানেন তো সিনিয়র স্যাররা আছেন। তাই নাম বাদ দিতে হলে ৫ লক্ষ টাকা লাগবে। অন্যথায় মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,সরকারি কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাসের শেল্টারে বা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তায় কিংবা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া ড্রেজার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যা বাংলাদেশের নদী ও পরিবেশগত সুরক্ষায় একটি গুরুতর এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এসব কিছুকে ব্দ্ধৃাঙ্গুল দেখিয়ে রেবুলের ছত্রছায়ায় ছাতক ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফি আলমের নেতৃত্বে তার বাহিনী সম্পুর্ন অবৈধভাবে নৌশাদের বাগান এবং মরা চেলা থেকে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করে শতশত নৌকা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া এক সময়কার ছোট খাল গেদুর ঢালা থেকে প্রায় ১০ টি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে তা নদীতে পরিনত করা হয়েছে। আর সীমান্তবর্তী সোনারপুর, পূর্ব সোনাপুরে রাতে দিনে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে । বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পাড় ও আশপাশের বাড়িঘর নদীতে বিলীন হচ্ছে। ওই এলাকায় থাকা সরকারি জায়গা দখল করে রেবুলের ইশারায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে পরিবেশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও টাস্কফোর্সের অভিযান ও জরিমানা করা আইওয়াশ। মূলত তাদের গভীর যোগাযোগের কারণে ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন করছেন অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সুত্র জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে যদি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়, নদী ভাঙন দেখা দেয় বা ফসলি জমি ধ্বংস হয়, তবে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা যায়। পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের অধীনে মামলা দায়ের করতে সক্ষম।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রতি রাতে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছেন রেবুল ও তার সহযোগি বালু ব্যবসায়ীরা। বাণিজ্য চালু রাখতে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সখ্যও যেন চোখে পড়ার মতো। দিনের পর দিন অবৈধ বালু ব্যবসা চললেও জেলা প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সাধারণ মানুষের।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, মাঝেমধ্যে প্রশাসনের অভিযানে ২-১টি ড্রেজার-বলগেট আটক করা হলেও থেমে থাকে না তাদের কার্যক্রম। প্রশাসন ম্যানেজ করে তারা বাণিজ্য চালান।
এদিকে, ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারি কর্মকর্তা রেবুল কুমার দাস বাদী হয়ে আমির আলীকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানার (মামলা নং৩১(০৭)২৬ ইং), ২০১০ সনের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ১৫(১)ধারায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, আমির আলী (৩৮), জমির আলী (৩৫), আবুল বশর (৬০), আতাউর (৪০), চমক আলী (৬০),নজির আলী (৫৫),ধন মিয়া (৬২), ৮। মোহাম্মদ আলী (৫২), কামরুল (৩৮), রফিক (৫৫), জয়নাল (৪৬), এবাদুল্লাহ (৫৪),জাইদুল (৪২), আতাউর (৪৮), সুজন (৪৬)সহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন গত ২২ জুলাই বিকাল অনুমান ১৭.৩০ ঘটিকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা কালে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত (টপসয়েল কর্তনের জন্য)। থেকে বর্নিত আসামীগন জব্দকৃত আলামত ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয় নাই। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে ও গোপনসূত্রে জানা যায় যে, বর্নিত আসামীগন -জব্দকৃত আলামত ব্যবহার (টপসয়েল কর্তনের জন্য) করে ছাতক থানাধীন ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বর্হিভূত নদীপথ হইতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করাসহ আশপাশ এলাকার শর্ত ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মকভাবে নষ্ট করে থাকে। বর্নিত আসামীগন জব্দকৃত আলামত ব্যবহার (টপসয়েল) করে ছাতক থানাধীন ১নং ইসলামপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত রহমতপুর উত্তরপাড়া সংলগ্ন ইজারা বর্হিভূত নদীপথ হইতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করাসহ আশপাশ এলাকার ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশের মারাত্মকভাবে নষ্ট করে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ সালের ১৫(১) ধারায় অপরাধ করিয়াছে। উল্লেখ্য যে, জব্দকৃত আলামতের তাৎক্ষনিক কোন মালিক না পাওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ছাতক, সুনামগঞ্জ মোহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেন নাই। অদ্য মোবাইল কোর্ট মামলা নং-৬৪/২০২৬, তারিখ-২২/০৭/২০২৬খ্রিঃ মূলে আদেশনামা প্রাপ্ত হইয়া বর্নিত আসামীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের চেষ্টা শেষে থানায় হাজির হইয়া এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হইল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেবুল কুমার দাস জানান, তিনি তার সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশে মামলা করেছেন। এসময় মামলা থেকে নাম কর্তনে সুজনের কাছে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নং ০১৭১৬-১***৫৬ নাম্বারে ফোন দিলে তিনি তা রিসিভড করেননি। পরবর্তী তার ওয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বালু খেকোদের শেল্টার, অভিযানে নিরহ লোকদের মামলায় ঢোকানোসহ তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়। তিনি তা দেখেন। কিন্তু কোন উত্তর দেননি।
এ ব্যাপারে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিনের ব্যবহৃত ০১৭৩০****৮৬ সরকারি নাম্বারে একাধিকবার ফোন দিলে, তিনি ফোন কেটে দেন।
রেবুল কুমার দাসের মামলার বাদী ছাতক থানার এসআই জয়ন্ত চন্দ্র দে জানান, তিনি মামলার আসামি সুজন মিয়াসহ সবার মোবাইল নাম্বারের সিডিআর সংগ্রহ পূর্বক সঠিক তদন্ত করে আদালতে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবেন।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মিনহাজুর রহমান ছুটিতে থাকায়, তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, কোন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী যদি অবৈধ কাজে জড়িত থাকেন বা নিরিহ কোন ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হয়রানি করে টাকা দাবি করেন। এসকল ব্যাপারে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ লিখিত দিলে, তা বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাশ্বত ৯২ বন্ধু ফোরামের উদ্যোগে পাত্র সম্প্রদায়ের মাঝে ১ টাকায় পূজার বাজার ও ক্ষুদে
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ, ফ্যাসিবাদের নির্মূল এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জমিয়তে
সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠন (জিশিস) এর কেন্দ্রীয় সহ
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সিলেট মহানগর, জেলা ও শাবিপ্রবি’র যৌথ উদ্যোগে সহযোগী সদস্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত। ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টায়
সিলেট মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজবাড়ী প্রিমিয়ারলীগ-২০২৬ (RPL) সিজন-১১ এর প্লেয়ার ড্রাফট এবং ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান। আসন্ন
সিলেটের গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. করিম মাহমুদ
আগামী সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইতে শুরু করেছে আগাম ভোটের হাওয়া। যেখানে অন্যান্য রাজনৈতিক
শীর্ষ নেতৃত্বের অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে সিলেট জেলা বিএনপির সার্বিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। জেলা