editor
প্রকাশিত: 11:41 AM, October 24, 2026
আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালিন সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের ক্ষমতার দাপট কাজে লাগিয়ে সিলেটে গড়ে তোলা হয়েছিল দুর্নীতির এক অদম্য সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের নেপথ্যে ছিলেন তার স্ত্রী সেলিনা মোমেন এবং তার প্রধান সহযোগী সিলেট জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমদ ও মন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শফিউল আলম জুয়েল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর তারা বিদেশে আত্মগোপন করলেও সিলেটে তাদের বিপুল পরিমাণ বৈধ-অবৈধ সম্পদ, মামলা ও অপকর্মের দেখভাল চালিয়ে যাচ্ছেন হেলেনের আস্থাবাজান সহকর্মী নানা কারণে বিতর্কিত অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিসবাহ উল ইসলাম কয়েস।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ড. মোমেন প্রকাশ্যে মন্ত্রী হলেও সিলেটের মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি ছিল তার স্ত্রী সেলিনা মোমেনের হাতে। প্রকাশ্যে এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী তাকে ‘আমার বস’ বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরপরই সিলেটের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক সব কাজের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় সেলিনার কবজায়। সিলেট-১ আসনের সরকারি প্রকল্প, টেন্ডার ও কাবিথা থেকে শুরুতেই ২৫ শতাংশ কমিশন আদায় বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ বৈধ করতে গড়ে তোলা হয় ‘সেলিনা-মোমেন ফাউন্ডেশন’।
সেলিনা মোমেনের এই কমিশন সিন্ডিকেটের প্রধান রূপকার ও ডানহাত হিসেবে মাঠে ছিলেন সিলেটে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলেন আহমেদ এবং মন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা জুয়েল। জুয়েল হিরন মাহমুদের মাধ্যমে ঠিকাদারদের কাছ থেকে অগ্রিম ২৫ শতাংশ ঘুষ আদায় করে প্রতিদিন সেলিনা মোমেনের কাছে পৌঁছে দিতেন তারা।
প্রকল্প বাণিজ্য ছাড়াও সিলেট পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রতি মাসে ৩০ লাখ টাকার বেশি কমিশন যেত সেলিনার পকেটে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্যাডে ভুয়া রিকোয়েস্ট লেটার ইস্যু করে মানব পাচারের মাধ্যমে জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিল হেলেনের। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালান ও ভিসা বাণিজ্যের মাধ্যমেও দুই নারী অঢেল সম্পদ গড়ে তোলেন।
বিপ্লবের মুখে সরকার পতনের আগেই সেলিনা মোমেন যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান। অন্যদিকে হেলেন আহমেদ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে যুক্তরাজ্যে থেকেও হেলেন আহমেদ সিলেটে তার সহযোগীদের দিয়ে ভূয়া ও মিথ্যা মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার আশির্বাদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সেলিনা ও হেলেনের সকল বৈধ-অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও কার্যক্রম বর্তমানে সামলাচ্ছেন হেলেনের অত্যন্ত আস্থাবাজন আদরের লোক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মিসবাহ উল ইসলাম। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিছিল-মিটিংয়ে সক্রিয় থাকা মিসবাহ ‘মোমেন ফাউন্ডেশন’ এবং হেলেন আহমেদের ‘এইচ এম লিগ্যাল এইড’-এর চিফ লিগ্যাল এডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি পূর্বেও একাধিকবার কারাবরণ করেছেন।
সরেজমিনে সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ জল্লারপাড় রোডে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) ড্রেনের ওপর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মিসবাহ উল ইসলাম হেলেন আহমেদের মালিকানাধীন ‘এইচএম কর্পোরেশন’-এর নামে একটি দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয় সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মিসবাহ দৈনিক ১ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তিতে ড্রেন দখল করা স্থানটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিয়েছেন।
এয়ারপোর্ট রোডের ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকার ‘এইচ এম ভবন’-এর বাসিন্দা বিতর্কিত এই আইনজীবীর সরকারি ড্রেন দখল করে দোকান ভাড়া দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও স্থানীয়রা। দ্রুত সিটি কর্পোরেশনকে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সাথে পালিয়ে যাওয়া সেলিনা মোমেন ও হেলেন আহমেদের অঢেল অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও উঠে এসেছে।
সিলেটে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজি গ্যাস নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি অসাধু সিন্ডিকেট। তাদের কারসাজিতে চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির
২৫% কমিশন, জালিয়াতি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাকালিন সময় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেনের ক্ষমতার দাপট
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) নির্বাচনকে সামনে রেখে আধ্যাত্মিক ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই নগরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, দ্রুত বদলাতে শুরু
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দলের রাজনীতিতে সক্রিয়তা ধরে রাখতে ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাঝে চাঙ্গা
যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কুফল থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় যাত্রা
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে ৫ দিনব্যাপী সুস্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রমের ৪র্থ দিন সম্পন্ন
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির নিয়মিত সভা গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিলেটের আম্বরখানায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান কর্তৃক গণদাবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা, বিভ্রান্তকর