editor
প্রকাশিত: ৮:১৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২১
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, অনুসারীসহ এলাকাবাসীকে কাঁদিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। আর রেখে গেছেন দেশ ও মানুষকে ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত।
তার মৃত্যুতে দেশ একজন মহৎ-প্রাণ, সৎ, নীতিবান ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। আওয়ামী লীগ হারিয়েছে একজন আদর্শবান, ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অগ্রযাত্রা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অভিযাত্রায় ইতিহাসের ধ্রুবতারা হয়ে বেঁচে থাকবেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। মাহমুদ উস সামাদ কয়েস দেশ নিয়েই চিন্তা করতেন। দেশ ও মানুষও তাই তাকে নিয়ে চিন্তা করবে, তাকে মনে রাখবে। এ স্বপ্নসারথি কর্মজীবী ও মেহনতি মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবেন চিরদিন।
তার রাজনৈতিক জীবন ও কীর্তিগাথা গৌরবময় নেতৃত্ব চিরঅনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি তার ছিল অবিচল আস্থা। তিনি ছিলেন একজন যোগ্য বাবার যোগ্য সন্তান। তার বাবা আবদুস সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার যোগ্য সহচর ছিলেন, তেমনি তিনিও বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে তার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।
সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার আচরণ উদাহরণযোগ্য। করোনাভীতি নস্যি ভেবে, সেই মূহুর্তে জনসাধারণের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তার কর্ম তৎপরতা সর্বমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুভীতি তুচ্ছ করে মানবসেবায় নিয়োজিত এ জনপ্রতিনিধি অবশেষে করোনার কাছে অসহায় আত্মসর্মপণ করে বিদায় নিলেন চিরদিনের জন্য।
তার এমন বিদায়ে অশ্রসিক্ত আমজনতা। কাঁদছে রাজনীতিক সহযোদ্ধারা। একই সাথে অনুসারীদের চোখেও প্রিয় নেতার জন্য বেদনার অশ্রু। অথচ করোনাকালীন সময়ে তার এ ‘ব্যতিক্রমী’ মানবসেবায় অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা হয়েছিলেন প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্ভীক। এক মূহুর্তের জন্যও জনসাধারণের পাশ ছেড়ে যাননি। তিনি ছিলেন একজন মানবিক হৃদয়ের মানুষ।
যখন সাধারণ ছুটিতে ছিল বাংলাদেশ। নিম্ন আয়ের মানুষেরা অপেক্ষায় ছিলেন সাহায্যের অপেক্ষায়। দুর্যোগকালীন এ সময়ে নিজ এলাকায় থেকে এই সংসদ সদস্য সরকারি ত্রাণ সহায়তা ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগেও তিনটি উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে ত্রাণ সহায়তা করেছেন।
সে সময় মানবিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক প্রশংসিতও হয়েছিলেন দক্ষিণ সুরমা ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জের একাংশ নিয়ে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই এলাকায় ছিলেন। প্রতিদিনই নিজ সংসদীয় এলাকার সংকটে পড়া মানুষদের মধ্যে খাদ্য সহায়তাসহ নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশ নেন তিনি। নিজে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদেরও নামিয়েছিলেন মাঠে। দুর্যোগকালীন সময়ে এই সংসদ সদস্যের এমন উদ্যোগ সর্বস্তরে প্রশংসা কুড়ায়।
এগুলোই তো একজন সত্যিকারের জনপ্রতিনিধির দৃষ্টান্ত, যা রাজনীতিবিদদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ছিলেন।
১৯৫৫ সালের ৩ জানুয়ারি জন্ম নেয়া মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। ২০০৮ সাল থেকে তিনি টানা তিনবার সিলেট-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার বাবা আবদুস সামাদ আজাদ ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে শেখ হাসিনা সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক টিভি ‘চ্যানেল এস’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। সাত ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ।
মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব জুলহাস আহমদ বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসকরা সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এ কারণে গত রোববার (৭ মার্চ) কোনো অনুষ্ঠানে তিনি যাননি। রোববার তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়ে বিমানে ওঠার সময় হাঁপিয়ে পড়েন এবং বিমানের মধ্যেই অসুস্থ অনুভব করায় সেখান থেকে সরাসরি তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার সকালে তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। বিকেলে ফলাফল পজিটিভ আসে। অবস্থার অবনতি হলে স্থানান্তর করা হয় হাসপাতালে ভেন্টিলেশন বিভাগে। প্রায় পাঁচ দিন চিকিৎসার পর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
তার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে এই সংসদ সদস্য করোনার টিকা নিয়েছিলেন। এরপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল না। কয়েক দিন আগে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে গিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় তারা এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনা ও পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। এদিকে, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রথশ জানাযা অনুষ্টিত হবে শুক্রবার সকাল ১০ টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। তারপর বেলা ১১ টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুরস্থ নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হবে তার লাশ । পরে ঐ দিন বিকাল ৫টায় ফেঞ্চুগঞ্জে বাড়ির পাশে জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে চিরদিনের জন্য সমায়িত করা হবে তাকে। মৃত্যু কালে স্ত্রী ও এক পুত্র সন্তান সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন তিনি।
8 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের কার্পেট ব্যবসায়ী জুয়েল আহমদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।
5 সিলেটে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত একাধিক মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার
7 সিলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক আগমন উপলক্ষ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য প্রচার মিছিল ও
8 সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ ওভারসীজ সেন্টার ভবন ভাঙা ও লিজগ্রহীতা ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর মহামান্য হাইকোর্ট
1 গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি এখন ইউরোপের দেশ
2 ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও
5 মৌলভীবাজারে টানা ৩ দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি