editor

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২১

সেই কালরাতে শহিদ হয়েছিলেন যারা

সেই কালরাতে শহিদ হয়েছিলেন যারা

1

অনলাইন ডেস্ক
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত হন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুননেছা, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, জামালের স্ত্রী রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, এসবি অফিসার সিদ্দিকুর রহমান, কর্নেল জামিল, সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক, প্রায় একই সময়ে ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াতের বাসায় হামলা করে সেরনিয়াবাত ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় বন্টু খান।

কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচয় :

শেখ কামাল (বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৫ আগস্ট, ১৯৪৯ সাল।

বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামাল ঢাকার শাহীন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) পাশ করেন। ছায়ানটে সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। নাটক, মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একনিষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। ঢাকা থিয়েটারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অভিনেতা হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই খেলাধুলায় ছিল তার প্রচণ্ড উৎসাহ। আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।

বিশেষ করে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার মানোন্নয়নে তার শ্রম ও অবদান ছিল অপরিসীম। নতুন খেলোয়াড় তৈরির জন্য যথেষ্ট সময় দিয়ে নিজেই মাঠে অনুশীলন করতেন। ১৯৭৫ সালের ১৮ জুলাই সুলতানা খুকুর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ছাত্রলীগের একজন সংগঠক হিসাবে ৬৬-এর স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯-এর গণআন্দোলন ও ৭১-এর অসহযোগ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ রাতেই বাড়ি থেকে চলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। লেফটেন্যান্ট হিসাবে কর্নেল ওসমানীর এডিসি ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হওয়ার সময় তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এমএ শেষ পর্বের পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ওই দিন ভোরে বাড়ি ঘেরাওয়ের কথা শুনে নিচে নেমে এলে ঘাতকরা সবার আগে তাকে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ জামাল (বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় ছেলে)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ২৮ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল।

বঙ্গবন্ধুর মেজ ছেলে শেখ জামাল শৈশবে শাহীন স্কুল ও পরে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেন। একটি সংগীত শিক্ষা কেন্দ্রে গিটার বাজানো শিখতেন। ক্রিকেট খেলতেন আবাহনী মাঠে। ১৯৭১ সালের জুলাইয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধানমন্ডির ১৮নং রোডের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে বন্দি অবস্থায় থাকাকালে একদিন গোপনে বের হয়ে কালীগঞ্জ হয়ে মুক্তাঞ্চলে চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে থাকাকালে যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটোর আমন্ত্রণে সে দেশে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিতে যান। তার পর লন্ডনের স্যান্ডহার্স্ট আর্মি একাডেমি থেকে সেনা প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট র‌্যাংকে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৭ জুলাই ফুফাতো বোন রোজীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৫ আগস্ট তাদের একসঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হয়।

শেখ রাসেল (বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র)

জন্ম : ঢাকা, ১৮ অক্টোবর ১৯৬৪ সাল।

বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বাড়ির ছোট ছেলে হিসাবে সবার আদরের ছিল। রাজনৈতিক পরিবেশ ও সংকটের মধ্যেও সে চিরসঙ্গী সাইকেল নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখত। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধকালীন দীর্ঘ ৯ মাস পিতার অদর্শন তাকে এমনই ভাবপ্রবণ করে রাখে যে, পরে সব সময় পিতার কাছাকাছি থাকতে জেদ করত। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হত্যা করে তাদের লাশ দেখিয়ে তারপর রাসেলকে হত্যা করা হয়। তাকে কাজের লোকজন পেছনের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নিয়ে যায়। কিন্তু ঘাতকরা তাকে দেখে ফেলে। বুলেটবিদ্ধ করার পূর্বে ওয়্যারলেসের মাধ্যমে অনুমতি নেওয়া হয়। রাসেল প্রথমে মায়ের কাছে যেতে চায়। মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিল ‘আমাকে হাসু আপার (শেখ হাসিনা) কাছে পাঠিয়ে দিন।’

শেখ আবু নাসের (বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, সেপ্টেম্বর, ১৯২৮ সাল।

শেখ আবু নাসের টুঙ্গিপাড়া ও গোপালগঞ্জে লেখাপড়া করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবং বড় ভাই রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় অল্প বয়সেই তাকে পিতার সঙ্গে পারিবারিক কাজকর্ম ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়তে হয়। এজন্য খুলনা শহরে বসবাস করতে হতো। পরবর্তী সময়ে তিনি খুলনায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন। ১৯৭৫-এ নিহত হওয়ার সময় বড় ভাইয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী এবং ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান।

সুলতানা কামাল খুকু (শেখ কামালের স্ত্রী)

জন্ম : ঢাকা, ১৯৫১ সাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী দবির উদ্দিন আহমেদের ছোট মেয়ে। মুসলিম গার্লস স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স পাশ করেন। ১৯৭৫ সালে এমএ পরীক্ষা দেন। স্কুল থেকে আন্তঃখেলাধুলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিভাগে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। বিশেষ করে লংজাম্পে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক ক্রীড়ায় চ্যাম্পিয়ন হন।

মোহামেডান ক্লাবের পক্ষে ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান অলিম্পিকে লংজাম্পে দ্বিতীয়, ১৯৬৮ সালে ঢাকার মাঠে পাকিস্তান অলিম্পিকে লংজাম্পে ১৬ ফুট দূরত্ব অতিক্রমের রেকর্ডসহ স্বর্ণপদক পান। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯-৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় ক্রীড়ায় অংশ নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে নিখিল পাকিস্তান মহিলা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় তিনি রেকর্ডসহ স্বর্ণপদক পান। ১৯৭৩-এ লংজাম্পে স্বর্ণ পান। ১৯৭৪-এ লংজাম্প ছাড়াও সুলতানা ১০০ মিটার হার্ডলসে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু বিয়ের আগে তাকে দেখে আশীর্বাদ করেছিলেন। বাড়ির বড় বউ হিসাবে তার বিপুল সমাদর হয়েছিল।

পারভীন জামাল রোজী (শেখ জামালের স্ত্রী)

জন্ম : সিলেট, ১৯৫৬ সাল।

বঙ্গবন্ধুর ছোট বোন খাদেজা হোসেনের মেয়ে। পিতা সৈয়দ হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। ধানমন্ডি গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে বদরুন্নেসা আহমেদ কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাত্র ৩০ দিনের বিবাহিত জীবন ছিল তার। মেহেদির রং তখনও তার দুই হাতে ছিল। বেগম মুজিবকে হত্যা করে ঘাতকরা জামালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা রোজী ও সুলতানাকে একসঙ্গে গুলি ছুড়ে হত্যা করে। ওই বাড়িতে দুই বধূর শুভাগমন যেমন একসঙ্গে তেমনি শোকাহত বিদায়ও ছিল একসঙ্গে।

আবদুর রব সেরনিয়াবাত (বঙ্গবন্ধুর সেজ বোনের স্বামী)

জন্ম : বরিশাল, ১৪ চৈত্র, ১৩২৭ বাংলা।

বরিশাল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজে বঙ্গবন্ধুর সহপাঠী ছিলেন। বেকার হোস্টেলেও একসঙ্গে থাকতেন। বঙ্গবন্ধুর সেজ বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কলকাতায় আইএ ও বিএ পাশ করার পরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পাশ করে বরিশালে আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হন।

১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ১৯৭২ সালের ১২ এপ্রিল কৃষিমন্ত্রী হন। ১৯৭৩-এর নির্বাচনেও জয়লাভ করেন এবং বঙ্গবন্ধু তাকে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণমন্ত্রী নিয়োগ করেন। বঙ্গবন্ধু সরকারের কৃষিক্ষেত্রে সংস্কার ও উৎপাদনে এবং কৃষকদের সহায়তা দেওয়ায় তার ভূমিকা ছিল যথেষ্ট জোরালো। একজন সৎ আদর্শবান ব্যক্তি হিসাবে তিনি সব মহলে প্রশংসিত ছিলেন।

শেখ ফজলুল হক মনি (বঙ্গবন্ধুর মেজ বোনের বড় ছেলে)

জন্ম : টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ, ৪ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সাল

3

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একনিষ্ঠ অনুসারী, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, সাংবাদিক, দৈনিক বাংলার বাণী ও বাংলাদেশ টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সাপ্তাহিক ‘সিনেমা’ ও মধুমতি মুদ্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি ১৯৫৬ সালে ঢাকা নবকুমার স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৫৮ সালে ঢাকা জগন্নাথ কলেজ থেকে আইএ, ১৯৬০ সালে বরিশাল বিএম কলেজ থেকে বিএ এবং ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ এবং পরবর্তী সময়ে এলএলবি পাশ করেন।

১৯৬৬ সালে শেখ ফজলুল হক মনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রণীত বাঙালির স্বাধিকারের সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছয় দফা আন্দোলনে শ্রমিক শ্রেণিকে সংগঠিত করা এবং ঐতিহাসিক ৭ জুনের হরতাল সর্বাত্মক সফল করার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। ওই সময় সরকার শেখ মনির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে। ১৯৬৬ সালের জুলাইয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর মুক্তিযোদ্ধা ও যুব সমাজকে সংগঠিত করে দেশগড়ার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে শেখ মনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর আওয়ামী যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি ছিলেন আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তেজগাঁও আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসাবে মনি শ্রমিক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করলে শেখ মনি অন্যতম সম্পাদক নিযুক্ত হন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মনি ঘাতকের হাতে নিহত হন। সেই রাতে শেখ মনির জ্যেষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে শামস পরশ ও কনিষ্ঠপুত্র শেখ ফজলে নূর তাপস অলৌকিকভাবে রক্ষা পায়। পরশের বয়স ছিল ৫ বছর এবং তাপসের মাত্র ৩ বছর।

বেগম আরজু মনি (শেখ ফজলুল হক মনির স্ত্রী)

জন্ম : বরিশাল, ১৫ মার্চ, ১৯৪৭ সাল।

বরিশাল সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও বিএ পাশ করেন। আবদুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠ কন্যা ছিলেন। ১৯৭০ সালে খালাতো ভাই শেখ ফজলুল হক মনির সঙ্গে বিয়ে হয়। দুই সন্তানের মা আরজুকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে গুলি করে হত্যা করে ঘাতকরা। ১৯৭৫ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পরীক্ষা দিয়েছিলেন।

কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ (বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার)

জন্ম : গোপালগঞ্জ, ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ সাল।

1

১৯৫২ সালে ক্যাডেট হিসাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৫৫ সালে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান থেকে ফিরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সচিবালয়ে যোগ দেন এবং বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ভোর ৫টায় বঙ্গবন্ধু লাল টেলিফোনে তাকে সেনাবাহিনীর বাসভবন ঘেরাওয়ের কথা জানালে সঙ্গে সঙ্গে রওয়ানা হন তিনি। কিন্তু সোবহানবাগ মসজিদের সামনে ঘাতকরা তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

বেবী সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ছোট মেয়ে)

জন্ম : বরিশাল, ২০ মে, ১৯৬০ সাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। নিহত হওয়ার সময় পিতার কাছে ছিল।

আরিফ সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের কনিষ্ঠ পুত্র)

জন্ম : ২৭ মার্চ, ১৯৬৪ সাল।

6

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। নিহত হওয়ার সময় ঢাকায় পিতার কাছে ছিল।

সুকান্ত আবদুল্লাহ বাবু (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি)

জন্ম : গৌরনদী, বরিশাল, ২২ জুন, ১৯৭১ সাল।

আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বড় ছেলে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পুত্র বাবু নিহত হওয়ার সময় বয়স ছিল ৪ বছর এবং ঢাকায় দাদার বাসায় বেড়াতে এসেছিল।

শহিদ সেরনিয়াবাত (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে)

জন্ম : বরিশাল, ২৬ মার্চ, ১৯৪০ সাল।

বরিশাল বিএম স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাশ করেন। ঢাকা থেকে আইন পাশ করে বরিশালে কোর্টে আইনজীবী ছিলেন। তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার বরিশালের সংবাদদাতা ছিলেন। ১৫ আগস্ট চাচার বাসায় অবস্থানকালে নিহত হন।

5

আবদুল নঈম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই)

জন্ম : বরিশাল, ১ ডিসেম্বর, ১৯৫৭ সাল।

বরিশাল জেলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। বরিশালের একটি সাংস্কৃতিক দলের সঙ্গে ঢাকায় এসেছিলেন এবং তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় অবস্থানকালে নিহত হন।

আমাদের লিংক :

https://www.facebook.com/somoymediasylhet

https://dailysylhetersomoy.com/

https://dailysylhetersomoy.com/english/

https://www.epaper.dailysylhetersomoy.com/home/

https://twitter.com/home

https://www.youtube.com/channel/UC-KEfv6XOsGmA4w0BEN7PHw

https://www.instagram.com/sylhetersomoy/

ডিএসএস/১৫/আগষ্ট/২০২১/রেদওয়ান

Sharing is caring!


আর্কাইভ

June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930  

আরো সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

সিলেট সদর উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক কমিটি পুনঃগঠন

সিলেট সদর উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক কমিটি পুনঃগঠন

5 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল সিলেট সদর উপজেলা শাখার ৯৭ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি পুনঃগঠন করা হয়েছে। 2 বুধবার (২৪

সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের পর্তুগাল শাখার সভাপতি হারুন ও সম্পাদক সানি

সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদের পর্তুগাল শাখার সভাপতি হারুন ও সম্পাদক সানি

1 প্রবাসে সিলেট অঞ্চলের মানুষের অধিকার রক্ষা ও আঞ্চলিক উন্নয়নের দাবিকে বেগবান করতে ‘সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ’-এর পর্তুগাল শাখার পূর্ণাঙ্গ

তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে যুবদল রাজপথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত: মো: কামরুজ্জামান জুয়েল

তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে যুবদল রাজপথে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত: মো: কামরুজ্জামান জুয়েল

5 জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান জুয়েল বলেছেন, যেকোনো মূল্যে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় শাহজালাল জামেয়ায় দোয়া মাহফিল

অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় শাহজালাল জামেয়ায় দোয়া মাহফিল

3 সিলেটের অন্যতম দ্বীনি বিদ্যাপীঠ শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি), বিশিষ্ট ইসলামী

সৈয়দ নাসির উদ্দীন জেবুল যুক্তরাষ্ট্রে বাফলার সেক্রেটারি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন

সৈয়দ নাসির উদ্দীন জেবুল যুক্তরাষ্ট্রে বাফলার সেক্রেটারি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন

6 আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের (ওয়েস্ট কোস্ট) বাংলাদেশী প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ ফেডারেশন, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস এঞ্জেলেস (বাফলা) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক

শাল্লায় কালনী নদীতে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন: বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দুই গ্রাম, প্রতিরোধের মুখে হামলা

শাল্লায় কালনী নদীতে অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন: বিলীন হওয়ার শঙ্কায় দুই গ্রাম, প্রতিরোধের মুখে হামলা

8 ​শাল্লা  প্রতিনিধি: 7 ​সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ২নং হবিবপুর ইউনিয়নের ছত্রিশ চক মৌজার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ারা-কালনী নদী থেকে রাতের

আ.লীগের নাশকতার প্রতিবাদে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

আ.লীগের নাশকতার প্রতিবাদে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা

2 আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে ১১নং ওয়ার্ড বিএনপি। মঙ্গলবার

জাহাঙ্গীরনগরে অবাধে টিলা কাটছে ‘হাফিজ মেম্বার’ সিন্ডিকেট

জাহাঙ্গীরনগরে অবাধে টিলা কাটছে ‘হাফিজ মেম্বার’ সিন্ডিকেট

4 সিলেট সদর উপজেলার ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীরনগর ও আশপাশের এলাকায় আইন-প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে অবাধে কাটা

1
8