admin
প্রকাশিত: 4:55 PM, September 4, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
সিলেট উইমেন্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবানা ইয়াসমিন শম্পার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সরকারের একাধিক মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার, মেলা বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং সাধারণ সদস্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক রূপ বদলে তিনি সিলেটজুড়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চেম্বারের সদস্যরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নিজের অবস্থান ধরে রাখতে লুবানা ইয়াসমিন শম্পা বিএনপির প্রভাবশালী বলয়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। মন্ত্রী পরিবারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি উইমেন্স চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বিয়ানীবাজার উপজেলায় একটি মেলার অনুমতি এনে বিয়ানীবাজার চেম্বারকে না জানিয়ে তা এক মেলা ব্যবসায়ীর কাছে ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেন শম্পা। তবে উইমেন্স চেম্বারের নেতৃবৃন্দকে তিনি জানান, মেলাটি মাত্র ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রতারণার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চেম্বারের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শম্পা তাঁদের চেম্বার থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং একক আধিপত্য কায়েম করেন।
পরবর্তীতে রাজনৈতিক লাভালাভ হিসাব করে বলয় পরিবর্তন করে লুবানা বর্তমান সরকারের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বলয়ে যোগ দেন। এবার তিনি নতুন কৌশল হিসেবে বাণিজ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে সিলেট সদর উপজেলায় বাণিজ্য মেলা আয়োজনের জন্য মেলা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তিনি মেলা ব্যবসায়ী ও স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী নাকি দ্রুত মেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলায় গিয়ে এক মেলা ব্যবসায়ী ও উপজেলা কর্মকর্তাকে লুবানা বলেন, “বাণিজ্যমন্ত্রী মাঠের পারমিশন দিতে বলেছেন।” এরপর ২৩ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের অফিশিয়াল গ্রুপে তিনি লেখেন, “ডিসি অফিসে যাওয়ার কথা বলেছেন।” গত ২৬ আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় এবং পরদিন ২৭ আগস্ট চেম্বারের সভায় লুবানা পুনর্ব্যক্ত করেন, “মন্ত্রী মুক্তাদির ভাই মেলার অনুমতি দিতে বলেছেন।”
শুধু তা-ই নয়, উইমেন্স চেম্বার নেত্রী তুলি কালনী ট্রেনে সিলেট আসার পর ২৮ আগস্ট লুবানা তাঁকে জানান, জেলা প্রশাসনকে মেলার অনুমতি দিতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে শাহী ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত মেলাটি যেন স্থানীয়দের দেওয়া হয়—এমন বার্তা দেন। গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট সন্ধ্যায় এক মেলা ব্যবসায়ীকেও ফোনে একই কথা বলেন তিনি।
সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট উইমেন্স চেম্বারের কার্যালয়ে বসে শাহী ঈদগাহ মাঠের মেলার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ টাকায় এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেন লুবানা। অথচ উক্ত মেলার সর্বোচ্চ দর উঠেছিল ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতাকে মেলা না দিয়ে নিজের স্বামীর আস্থাভাজন ব্যক্তিকে কম দামে মেলা পাইয়ে দিয়ে তিনি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মেলা সংক্রান্ত বিষয়ে গতকাল বুধবার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট সিটি করপোরেশনের একাধিক ঠিকাদার জানান, লুবানা ইয়াসমিন শম্পার রাজনৈতিক রূপ বদল নতুন কিছু নয়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও তিনি ও তাঁর স্বামী মামুন তৎকালীন মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট উইমেন্স চেম্বারের সহ-সভাপতি আলেয়া ফেরদৌসী তুলি বলেন, “আমরা বাণিজ্য মেলার পারমিশন এখনও পাইনি, তবে অনুমতির জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল এসএমপি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি।” তবে মেলা নিয়ে চুক্তির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
চেম্বারের প্রভাবশালী পরিচালক জাকিরা ফাতেমা লিমি চৌধুরী ঢাকায় অবস্থান করছেন জানিয়ে বলেন, “মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জেনেছি, তবে অগ্রগতি বা আর্থিক চুক্তির বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উইমেন্স চেম্বারের একাধিক সাধারণ সদস্য জানান, লুবানা ইয়াসমিন শম্পার স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার দাপটে চেম্বারের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এই মেলা বাণিজ্য বন্ধে এবং পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সিলেটের সচেতন ব্যবসায়ী মহল।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস সালামের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরীতে ৫ দিনব্যাপী সুস্বাস্থ্য সেবামূলক কার্যক্রমের ৪র্থ দিন সম্পন্ন
বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ সিলেট বিভাগীয় কমিটির নিয়মিত সভা গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিলেটের আম্বরখানায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সিলেট বিভাগ গণদাবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শফিকুর রহমান কর্তৃক গণদাবী পরিষদের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মিথ্যা, বিভ্রান্তকর
জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফলভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সিলেট জেলা যুবদলের উদ্যোগে জেলার অধীনস্থ ১৩টি উপজেলা ও ৫টি পৌর যুবদল নেতৃবৃন্দের
সিলেট মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক নাজির আহমদের আশু ও সুস্থতা কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার
রাজনীতির মূল সুর যদি হয় জনসেবা, তবে সেই সুরকে নিজের জীবনে ধারণ করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির আওতাধীন ৩১ নম্বর ওয়ার্ড
সিলেট এয়ারপোর্ট থানা এলাকার লাক্কাতুড়া সংলগ্ন প্রবাসী মালিকানাধীন ‘গ্রিন উড হিল স্টেশন’ রিসোর্টে অনধিকার প্রবেশ করে হামলা, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর,
সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারস্থ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ডের কার্যালয়টি এখন অনিয়ম, দখল আর লুটপাটের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের