admin
প্রকাশিত: 8:44 AM, September 6, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে রাত নামলেই যেন খুলে যায় চোরাচালানের ‘অবারিত দুয়ার’—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, দিনের আলো ফুরিয়ে রাতের আঁধার নামলেই সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পথ হয়ে ওঠে ভারতীয় পণ্য পারাপারের কথিত নিরাপদ রুট। আর এ নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ও নানা গুঞ্জনে আলোচনায় এসেছে বিছনাকান্দি থেকে সালুটিকর সড়ক।
স্থানীয়দের দাবি, উত্তর সিলেটের আলোচিত কথিত ‘বুঙ্গাড়ি’ নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিছনাকান্দি–সালুটিকর সড়কটি বর্তমানে চোরাচালানের অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কথিত ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচয়দানকারী উত্তর সিলেটের আলোচিত ‘বুঙ্গাড়ি’ নজরুল মোল্লা—এমন দাবি স্থানীয় একাধিক সূত্রের।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, একাধিকবার নজরুল মোল্লার চোরাচালানের পণ্য আটক হওয়ার পর এবার তিনি জেলা ডিবির ‘লাইনম্যান’ পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জেলা ডিবির ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত নজরুল মোল্লা প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি সূত্রের।৫ লাখ টাকার চুক্তিতে জেলা ডিবির কথিত লাইনম্যান নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগীরা বিছনাকান্দি সীমান্তে ‘লুটপাটের রাজত্ব’ গড়ে তুলেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নজরুল মোল্লাকে দেখতে অনেকটা দরবেশের মতো মনে হলেও গোয়াইনঘাট থানার কথিত শীর্ষ ‘বুঙ্গাড়ি’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে তার নাম।শুধু তাই নয়, নজরুল মোল্লার বিরুদ্ধে একাধিক চোরাচালান মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে। সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দায়ের করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিনি চোরাচালান মামলায় এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি ছিলেন ‘বুঙ্গাড়ি’ নজরুল মোল্লা। মামলাটির নম্বর জিআর-১৫১/২০২৩। পরে মামলাটির তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক চোরাচালান মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে, যা অধিকতর অনুসন্ধান ও তদন্তে বেরিয়ে আসতে পারে।উত্তর সিলেটের সীমান্তের এ কাহিনি যেন পুরোনো দিনের ‘গুপ্ত কারবারের’ আধুনিক রূপ—পথ চেনা, লোক চেনা, পাহারা চেনা; অতঃপর রাতের আঁধারে পণ্য পারাপার!অনুসন্ধানে জানা যায়, বিছনাকান্দি সীমান্তে রাত হলেই ভারতীয় চোরাচালানের কথিত নিরাপদ রুট হিসেবে বঙ্গবীর পয়েন্ট ও সোনার বাংলা হয়ে সালুটিকর চেকপোস্ট দিয়ে পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে অবাধে ভারতীয় পণ্য ঢুকছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ কারবারের মূল হোতা হিসেবে নজরুল মোল্লা ও তার কয়েকজন সহযোগীর নাম স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে।তারা নিজেদের মন্ত্রী আরিফুল হকের কাছের লোক দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সালুটিকর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সরওয়ারের নামও শোনা যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিদিন কথিত ‘বুঙ্গার’ গাড়ি শহরে পৌঁছে দেন।তাছাড়া এ কারবারের একটি বড় অংশ প্রতিদিন গোয়াইনঘাট থানার ওসির পকেটেও যায় বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। একই সঙ্গে নজরুল মোল্লা ‘বুঙ্গার’ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি জেলা ডিবি পুলিশের নামে মাসিক ৫ লাখ টাকা চাঁদা চুক্তিতে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করেন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে।শুধু তাই নয়, বিছনাকান্দি সীমান্তে মানব পাচার, মাদক, চিনি, জিরা, রসুন, কসমেটিকস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্যের কথিত নিয়ন্ত্রণ নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগীদের হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে তারা জেলা ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের কথায়, “নাম যদি হয় বাহিনীর, আর কারবার যদি চলে নিজের—তবে সে কারবারের হিসাব কই?” অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিবির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জুয়াড়িচক্র এবং অবৈধ চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন এই নজরুল মোল্লা—এমন অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আড়ালে থেকে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।নেপথ্যের এই কথিত ‘লাইনম্যান’কে ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে—কার ছত্রছায়ায়, কার ইশারায় এবং কোন অদৃশ্য মদতে উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে এমন কারবার চলতে পারে? আর এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবাধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ও অবৈধ কার্যক্রম চলে—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই চক্রের কাছে জিম্মি থাকলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।সীমান্তের ভাষায় কথিত আছে—“পথ যদি নিরাপদ হয়, কারবারি পথ ছাড়ে না।” সেই কথিত নিরাপদ পথেরই যেন প্রতিচ্ছবি বিছনাকান্দি থেকে সালুটিকর সড়ক—এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এই ধরনের দালাল ও কথিত ‘লাইনম্যান’দের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে ডিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে। তবে বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে সালুটিকর পর্যন্ত কথিত চোরাচালান রুট, মাসিক চুক্তির অভিযোগ, ডিবির নাম ব্যবহার করে মাসোহারা আদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা—এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।এ ব্যাপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
8 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে মোড় নিয়েছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতাদের মদদ ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোয়কতায় অপরাধী
8 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঘোষগাঁও (রাধাকোনা) এলাকায় একটি বসতবাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদকের অভয়ারণ্য
6 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের অভ্যন্তরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি না থাকার সুযোগে সিন্ডিকেট তৈরির
8 স্টাফ রিপোর্টার: উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে রাত নামলেই যেন খুলে যায় চোরাচালানের ‘অবারিত দুয়ার’—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের ভাষ্য, দিনের আলো
2 স্টাফ রিপোর্টার সিলেট কালেক্টরেট জামে মসজিদ ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন কালেক্টরেট জামে মসজিদ মার্কেটের ২ নম্বর ও ৪ নম্বর দোকানগৃহে নির্বিঘ্নে
6 সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনের হাতে পর্তুগাল প্রবাসী যুবক
1 পরিবেশ সুরক্ষা ও সুফলা প্রাঙ্গণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রোটারী ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল-এর মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট
2 সিলেট নগর ভবনে পানির দাবিতে কলস, বালতি নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ১৪নং ওয়ার্ড