admin
প্রকাশিত: 3:06 PM, September 13, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সিলেট মেট্রোর নিয়ন্ত্রণাধীন আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় (আবিকা) সিলেট-দক্ষিণে কয়েক দফায় বিপুল অংকের রাজস্ব চুরির ভয়াবহ জালিয়াতি উদ্ঘাটিত হয়েছে। গ্রাহকদের পরিশোধিত বিলের কোটি টাকার নথি গোপন ও রাজস্ব সফটওয়্যারে ভুয়া পোস্টিং দিয়ে কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রায় ৭৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২০ টাকা (প্রায় ৮০ লাখ টাকা) আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হলেও একটি প্রভাবশালী মহল পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রাথমিক ও চূড়ান্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, আবিকা হবিগঞ্জের ব্যবস্থাপক মো. ছায়ফুল আলম এবং আবিকা ছাতকের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আশফাকুর রহমান (সিলেট-দক্ষিণে দায়িত্বপালনকালীন) পরস্পর যোগসাজশে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রাহকদের বিল আত্মসাৎ করেছেন। গ্রাহকরা ব্যাংক ও নগদ মাধ্যমে বিল পরিশোধ করলেও তারা লেজারে ‘ভুয়া পোস্টিং’ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। ফাঁদ এড়াতে পরবর্তীতে ফেস গুটিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সাথে আপস-রফা করে নিজেদের পে-অর্ডারের মাধ্যমে গ্রাহককে টাকা ফেরত দেন, যা তাদের অপরাধের প্রত্যক্ষ প্রমাণ।
মেসার্স ড্রাইভার রেস্টুরেন্ট: ১১ মাসের বিল বাবদ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১২২ টাকার ভুয়া পোস্টিং দেওয়া হয় (ছায়ফুল আলমের আইডি থেকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩১ টাকা এবং আশফাকুর রহমানের আইডি থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৯১ টাকা)। এছাড়া হোটেলটির বকেয়া বিল সংশোধনের কথা বলে ছায়ফুল আলম ব্যাংক জমার ভুয়া রশিদ দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ৫৩ হাজার ৫৮১ টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরে গ্রাহককে ১৫ হাজার টাকার পে-অর্ডার ফেরত দেন।
লাচ্ছা সেমাই ফ্যাক্টরি: ১০ মাসের গ্যাস বিল বাবদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার ১০৯ টাকার ভুয়া পোস্টিং প্রমাণিত হয়েছে। যার মধ্যে ছায়ফুল আলমের আইডি থেকে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩১ টাকা এবং আশফাকুর রহমানের আইডি থেকে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৬৭৮ টাকা পোস্ট করা হয়।
ফখরুদ্দিন রেস্টুরেন্ট: গ্রাহক সংকেত ০৫১০০৬১৯৭, ০৫১০০৬১৫২ ও ০৫১০০৬৬১১-এর অধীনে তিনটি আবাসিক গ্রাহকের মোট ২ লাখ ১৭ হাজার ১৪২ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে লেজারে ভুয়া পোস্টিং দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
মেসার্স বৈশাখী ফুড বেকারি: ৩ মাসের গ্যাস বিল বাবদ মোট ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২০১ টাকা না তুলে ভুয়া পোস্টিং দেখানো হয়। জালিয়াতি ধরা পড়লে ছায়ফুল আলম গ্রাহকের সাথে সমঝতা করে ৫৩ লাখ ৫০০ টাকার ৬টি চেক দেন।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন: দক্ষিণ সুরমার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক পক্ষের সাথে সখ্য করে ২০২০-২০২১ সালের বিল ইস্যুর তারিখ পরিবর্তন ও বিলম্ব ফি কম আদায়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি সাধন করা হয়। এতে সারচার্জ জালিয়াতিসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ ১৩ লাখ টাকার উপরে।
আবদুল জলিল খান: ১১ মাসের ৮৬,৩৬৫ টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ সত্ত্বেও লেজারে ভুয়া পোস্টিং দেওয়া হয় এবং গ্রাহককে প্রিন্ট কপি ইস্যু করা হয়।
আজমল আলী: ১৭টি দ্বিমুখী চুলার ৫৩ মাসের গ্যাস বিল বাবদ ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা সফটওয়্যারে ভুয়া পোস্টিংয়ের মাধ্যমে আদায় দেখানো হয়, যাতে দীর্ঘ ৫২ মাস বকেয়া প্রদর্শিত না হয়। পরে লাইন কাটার আশঙ্কায় ছায়ফুল আলম গ্রাহককে ৫৩,৫০০ টাকার চেক দেন।
জাহানারা আক্তার: ২৬ মাসের মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪০ টাকা আত্মসাৎ করে ভুয়া পোস্টিং দেওয়া হয়। বিলের কাগজ হারিয়ে গেছে বলে ভুল বুঝিয়ে গ্রাহককে ভুয়া বিল দেওয়া হয়েছিল।
রীনা বেগম ও সিরাজুল ইসলাম: মোট ৩ লাখ ২৭ হাজার ৩০০ টাকা গ্রাহকের কাছে নগদ আদায় করা হলেও সফটওয়্যারে ভুয়া পোস্টিং দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। উক্ত প্রবাসীদের পক্ষে কেয়ারটেকার বিল দিতে এলে ছায়ফুল আলম রসিদ না দিয়ে বিল নিজের হেফাজতে রাখতেন। পরবর্তীতে গ্রাহকের পুত্র সাবুল ইসলাম আবিকা দক্ষিণে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
র্যাফসান টেলিকম: মো. ছায়ফুল আলম বিকাশ এজেন্ট ‘র্যাফসান টেলিকম’-এর কাছ থেকে প্রতি হাজারে ৫ টাকা কমিশন নিয়ে গ্রাহকের নগদ বিল গ্রহণ করতেন। কিন্তু বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পরিশোধ না করে সফটওয়্যারে বিল ফেব্রিকেট করতেন।
ছায়ফুল আলম আবিকা সিলেট-দক্ষিণে কর্মরত থাকাকালে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসের বিল ম্যানুয়ালি তৈরি করেন। কোনো অনুমোদন বা জার্নাল ভাউচার ছাড়া গ্রাহকের জামানত থেকে ১৫ লাখ টাকা বিধি বহির্ভূতভাবে সমন্বয় করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বদলি হওয়ার পরও ছায়ফুল আলম অফিসে এসে কম্পিউটারে কাজ করতেন এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা নীরবে মেনে নেন। লেজার বুক রেজিস্টারের মুখ থেকে সন্দেহজনক পাতা ছিঁড়ে ফেলে তথ্য প্রমাণের ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই কর্মকর্তার আত্মসাৎ করা মোট ৭৯ লাখ ৮৯ হাজার ৮২০ টাকার মধ্যে ইতোমধ্যে ৫০ লাখ ৬০ হাজার ৫১০ টাকা কোম্পানির উদ্যোগে আদায় করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৯ লাখ ২৯ হাজার ৩১০ টাকা উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলছে।
তদন্ত সমাপ্তিতে কমিটি উল্লেখ করে, অভিযুক্ত মো. ছায়ফুল আলম ও মো. আশফাকুর রহমান ক্ষমতার অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং আর্থিক অনিয়মের সাথে সরাসরি যুক্ত। সুনির্দিষ্ট এই পর্যবেক্ষণের আলোকে তাদের বিরুদ্ধে চাকরির বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ (চাকরি থেকে অব্যাহতি/বরখাস্ত) এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতিকুর রহমান এ বিষয়ে জানান, বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তদের পার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
8 স্টাফ রিপোর্টার: জালালাবাদ গ্যাস টি অ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেডের সিলেট মেট্রোর নিয়ন্ত্রণাধীন আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় (আবিকা) সিলেট-দক্ষিণে কয়েক দফায়
6 সিলেট বৌদ্ধ সমিতির এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিলেট বৌদ্ধ বিহার পরিচালনার জন্য একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী
6 জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় জাতীয় পার্টিকে আরও শক্তিশালী ও
1 সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কর্তৃক সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি এহছানুল হক তাহেরসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ অবিলম্ব
4 বটেশ্বরস্থ চুয়াবহর ইকরা মডেল মাদরাসার একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি হিফজুল কুরআন বিভাগের আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন উপলক্ষে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইকরা মডেল
6 গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর প্রধান “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর” এর সিলেট সফর উপলক্ষে
4 বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলা শাখার কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে চেয়ারম্যান পদে মো. আব্দুল
6 বাংলাদেশ গার্ল গাইডস্ এসোসিয়েশন সিলেট অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিশনার বাবলী পুরকায়স্থ বলেছেন, গার্ল গাইডস্-এর ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার পাশাপাশি সমাজ