editor
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২১

লড়াকু বাঙালির বিজয়গাথা ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১
ডেস্ক রিপোর্ট
১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক অভ্যুদয়ের গৌরবময় বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের দশম দিন। ১৯৭১ সালে এ দিনটি ছিল শুক্রবার। বাস্তবতা অগ্রাহ্য করে এদিন মসজিদে মসজিদে পাকিস্তানের অখন্ডতা ও সংহতি এবং যুদ্ধে পাকসেনাদের সাফল্য কামনা করে বিশেষ মুনাজাতের আয়োজন করা হয়। কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষের আকুতির কাছে তা যেন তুচ্ছ। লড়াকু ও অদম্য স্বাধীনতা সৈনিকদের অব্যাহত আন্দোলন চলছে। চতুর্দিক থেকে হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত ও জনপদ শত্রুমুক্ত করার সুখবর আসছে। একাত্তরের এদিন থেকেই মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় ঘনিয়ে আসতে থাকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকরা ‘বিজয় কবে হবে’ প্রশ্নের উত্তর পেতে শুরু করে।
রণাঙ্গনে ‘মুক্তি’ শব্দটি আতঙ্ক হয়ে দেখা দেয় নিজেদের ‘প্রবল প্রতাপশালী’ মনে করা পাক সৈন্যদের কাছে। হানাদার বাহিনী যুদ্ধের মাঠে দ্রুত তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে। ফলে সৈন্যদের মনোবল ভেঙে পড়েছিল। যুদ্ধে পরাজয়ের আশঙ্কায় লে. জেনারেল নিয়াজী পালাবার পাঁয়তারা করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘বিবিসি’ তার এই গোপন অভিসন্ধি ফাঁস করে দেয়। নিয়াজী স্বীয় দুর্বলতা ঢাকার জন্য এদিন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দম্ভভরে বলেন, ‘কোথায় বিদেশি সাংবাদিকরা, আমি তাদের জানাতে চাই, আমি কখনও আমার সেনাবাহিনীকে ছেড়ে যাব না।’
অথচ আগের দিন (৯ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে গভর্নর মালিকের দেয়া এক বার্তার ১০ ডিসেম্বর গভর্নরের সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ও মুখ্য সচিব পশ্চিম পাকিস্তানি কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন ক্যান্টনমেন্টে জেনারেল নিয়াজীর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ঢাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধির কাছে ‘আত্মসমর্পণের’ আবেদন হস্তান্তর করেন। এতে অবশ্য কৌশলে আত্মসমর্পণ শব্দটি বাদ দিয়ে অস্ত্রসংবরণ কথাটি ব্যবহার করা হয়। এই আবেদনে আরও লেখা ছিল,
‘যেহেতু সংকটের উদ্ভব হয়েছে রাজনৈতিক কারণে, তাই রাজনৈতিক সমাধান দ্বারা এর নিরসন হতে হবে। আমি তাই পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির দ্বারা অধিকারপ্রাপ্ত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ঢাকায় সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানাই। আমি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘকে আহ্বান জানাই।’
এই আবেদন ঢাকায় জাতিসংঘের প্রতিনিধি পল মার্ক হেনরির হাতে দেয়া হয়। পাকিস্তানি মহলে বার্তাটি ‘মালিক-ফরমান আলী বার্তা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরদিন তা আবার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
এদিকে, এদিন মিত্রবাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো ঢাকা বেতার কেন্দ্রের ওপর আক্রমণ করে এবং কুর্মিটোলার ওপর বারবার রকেট হামলা অব্যাহত রেখে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করে। সম্মিলিত বাহিনী উত্তরাঞ্চলের যুদ্ধে সর্বাত্মক সাফল্য অর্জন করেছে। মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে দিনাজপুর, রংপুর ও সৈয়দপুরের শত্রুবাহিনীকে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক গ্রন্থে এদিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয় এভাবে- ‘মেঘনা দুস্তর বাধার মতো দাঁড়িয়ে আছে মিত্রবাহিনীর জন্য। হেলিকপ্টার দিয়ে মিত্রবাহিনী পেরুলো মেঘনা। হাজার হাজার গ্রামবাসী ছুটে এলেন। রাশিয়ান ট্যাংকে কাছি দিয়ে বেঁধে টেনে তুললেন ওপারে। এদিকে বিমান আক্রমণে রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র স্তব্ধ। স্টিমারে করে পাকবাহিনী বঙ্গোপসাগর দিয়ে পালাতে গিয়ে ধরা পড়লো। পাকিস্তানের বাণিজ্য জাহাজও আক্রান্ত হলো।’
দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদের খবর অনুযায়ী, এদিন সরকারিভাবে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মি. আগাশাহী জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব মি. উথান্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সৈন্য প্রত্যাহারের কথা ব্যক্ত করে। চীনের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মি. চি পো ফেই বলেন, ভারতের কার্যকলাপে তার সম্প্রসারণবাদী নগ্নরূপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘সমাজতন্ত্রী সাম্রাজ্যবাদীরা নির্লজ্জের মতো ভারতীয় সম্প্রসারণবাদের ত্রাণকর্তার ভূমিকা গ্রহণ করে বর্বরোচিত কাজ করছে।’
এদিন শত্রুমুক্ত হয় কুমিল্লার লাকসাম। সেখানে পাঁচ শতাধিক পাকিস্তানি সেনা আত্মসমর্পণ করেছিল। পরদিন পাকবাহিনীর ঢাকায় ফিরে আসার চেষ্টা সবদিক দিয়ে ব্যর্থ হয়। মুক্তিবাহিনী ঢাকা দখল করে নেয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালায়। ভৈরব বাজার থেকে মিত্রবাহিনীর ৫৭ নম্বর ডিভিশন ঢাকার দিকে অগ্রসর হয়েছিল।
টাঙ্গাইল ছাড়া ঢাকার আশপাশের সব এলাকাই এদিন শত্রুমুক্ত হয়েছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে এদিনই পাকিস্তানি বাহিনীকে অস্ত্রশস্ত্রসহ আত্মসমর্পণের অনুমতি দেয়া হয়। এদিন আরও যেসব এলাকা হানাদারমুক্ত হয়- ভোলা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও মধুপুর, মুক্তাগাছা, নড়াইলের বালিয়া, নড়াইল, নরসিংদীর রায়পুরা, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ, মাদারীপুর ইত্যাদি। একাত্তরের এই দিনে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন। পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে মৃত্যুকে তোয়াক্কা না করে প্রতিরোধ গড়ে শহীদ হন এই অকুতোভয় যোদ্ধা।
এদিকে, এদিন চীনা বার্তা সংস্থা ‘সিনহুয়া’র একটি সমালোচনা প্রকাশিত হয় দৈনিক পাকিস্তানে। সিনহুয়া ভারতের বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদান পাকিস্তান বিভক্ত করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে। সমালোচনায় বলা হয়, ‘এতে মদদ দিচ্ছে সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সোভিয়েত সরকার। ভারত এপ্রিলের দিকে কতিপয় বিচ্ছিন্নতাবাদীকে একত্রিত করে তথাকথিত অস্তিত্বহীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করে।’
অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শী স্বজনদের বিবরণে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর রাত প্রায় তিনটায় রাজধানী ঢাকার ৫নং চামেলীবাগের (শান্তিনগর) বাসা থেকে দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন কার্যনির্বাহী সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় সিরাজুদ্দীন হোসেনের পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি। সেই কনকনে শীতের রাতে কোন জামা পরার সুযোগও দেয়া হলো না তাকে। ঘরে গামছা দিয়ে চোখ বাঁধা হলো তার। তাকে নিয়ে যাবার সময় স্ত্রী নূরজাহান সিরাজী ডুকরে কেঁদে ওঠেন। সেই যে গেলেন আর ফিরে আসেননি। লাশও পাওয়া যায়নি এই প্রথিতযশা সাংবাদিকের। পাকবাহিনীর দোসররা সিরাজুদ্দীন হোসেনকে ধরে নিয়ে যাবার মধ্য দিয়েই শুরু করে ঘৃণ্য এই পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড।
তৎকালীন পিপিআই’র চিফ রিপোর্টার সৈয়দ নাজমুল হককেও একই সময়ে তার বাসভবন থেকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। সৈয়দ নজমুল হককে মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে দু’বার রাওয়ালপিন্ডিতে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য। তিনি রাজি না হওয়ায় তৃতীয় দফা ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনিও আর ফিরে আসেননি।
2 ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন ‘ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব’-এর কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল আহ্বায়ক কমিটির
1 হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের এক শিশুকে মুখে গামছা বেঁধে বাঁশঝাড়ে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার
1 সারাদেশে রামিসা, ফাহিমা সহ ক্রমাগত নারী ও শিশু ধর্ষণ, নৃশংস হত্যা, সিলেটে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় র্যাব সদস্য ইমন আচার্য
7 মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বড়ছড়া নদীর বালুমহালের ইজারা স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি
8 ‘জানুন, পরীক্ষা করুন, জয় করুন, আপনার থাইরয়েড, আপনার রক্ষক’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক আলোচনা
7 পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সিলেটবাসীসহ দেশ ও বিদেশের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন সরকারের বাণিজ্য, শিল্প, পাট
8 পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সিলেট মহানগরবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলিম ভাই-বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির
2 দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ক্লাব কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।