admin
প্রকাশিত: 12:48 PM, November 3, 2026
স্টাফ রিপোর্টার
সিলেট সদর উপজেলার আম্বরখানা দর্শনদেউড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রজত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীকে লাঞ্ছিত করা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, মনগড়া রুটিন তৈরি এবং উপবৃত্তি ও হাজিরা খাতায় জালিয়াতির মতো গুরুতর একাধিক অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অন্যত্র বদলি হলে রজত বিশ্বাস ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন বা শিক্ষকদের মতামত ছাড়াই জাতীয় রুটিন বাতিল করে একটি মনগড়া ‘ইন্টারনাল রুটিন’ প্রণয়ন করেন।
নতুন ওই রুটিনে প্রাথমিকে বাধ্যতামূলক ‘ধর্ম শিক্ষা’ বিষয়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পুরো রুটিনে নিজের জন্য মাত্র একটি ক্লাস রেখে বাকি সময় মনিটরিং ও অন্যান্য কাজের কথা বলে ক্লাস ফাঁকি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির সুসজ্জিত কক্ষ দখল করে নিজের জন্য একক অফিস কক্ষ বানানোর ফলে কোমলমতি শিশুদের একটি ছোট ও অনুপযোগী কক্ষে গাদাগাদি করে রাখা হয়। রুটিনে লিখিতভাবে দপ্তরী-কাম-প্রহরীকে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির পাঠদান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যা প্রাথমিক শিক্ষা বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।
মনগড়া রুটিন ও ধর্মশিক্ষা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ করায় গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শিক্ষক রজত বিশ্বাস মারমুখী হয়ে ওঠেন। তিনি অন্যান্য শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সহকারী শিক্ষক সাবিহা আক্তারকে অশালীন ভাষায় “তুই-তুকারি” ও গালিগালাজ করে লাঞ্ছিত করেন। অন্যান্য শিক্ষক ও দপ্তরী এগিয়ে এসে তাঁকে নিবৃত্ত করেন। এ ছাড়া বিনা অনুমতিতে নারী শিক্ষকের ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে তাঁকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে শিক্ষক সাবিহা আক্তার জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সদর উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রশিদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ২৩ অক্টোবর সরেজমিন তদন্তে রজত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা মেলে। তদন্ত প্রতিবেদনে রুটিন পরিবর্তন, ধর্ম শিক্ষা বাদ দেওয়া, দপ্তরী দিয়ে ক্লাস করানো এবং নারী শিক্ষকের সাথে অসদাচরণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
শুধু সহকর্মী লাঞ্ছনা নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। গত নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় শ্রেণির ‘শিখন ঘাটতি মূল্যায়ন পরীক্ষা’র প্রশ্নপত্র পরীক্ষার পূর্বেই অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ফাঁস করে দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। পরীক্ষা চলাকালীন নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা আগেই শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়া উপবৃত্তির ক্ষেত্রে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১০০ শতাংশ ভুয়া চাহিদা প্রেরণ এবং বহু নিয়মিত শিক্ষার্থীকে বঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দা রোজিনা আক্তারসহ অন্যান্য শিক্ষক (মনিকা দাস, মোছাঃ হাফছা আক্তার ও ফাহমিদা সুলতানা) জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত অভিযোগে জানান, রজত বিশ্বাস প্রায়ই বিদ্যালয়ে দেরিতে আসতেন এবং ছুটির আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করতেন। উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় গোপনে স্বাক্ষর করা কিংবা ‘অন ডিউটি’ লিখে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত ছুটির আগের ও পরের দিন কেটে নিজ হাতে মোট ৯ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি লিখে তিনি অসদাচরণ করেন।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদের নির্দেশে গত ৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় অসদাচরণের দায়ে তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়। একই সাথে বিধিমালার ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী কেন তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদণ্ড প্রদান করা হবে না—তা ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলার অন্যান্য অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গত ১৩ আগস্ট সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুনঃসরেজমিন তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং শিক্ষক রজত বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবক মহল।
মুসলিম বিশ্বের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববরেণ্য আলেম, জগদ্বিখ্যাত ফকিহ ও শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী মনীষী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ
ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে এবং ক্যাশলেস সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সিলেটে পৌর বিপণী কেন্দ্রকে ক্যাশলেস ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে পূবালী ব্যাংক
আসন্ন কালী পূজা উপলক্ষে বিপজ্জনক বিস্ফোরক পটকা বর্জন, ক্রয়-বিক্রি বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সিলেট জেলা
সুনামগঞ্জের দিরাই কেন্দ্রীয় শ্মশান পরিচালনা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। মূল কমিটিকে পাশ কাটিয়ে গঠিত ৪১ সদস্যের অননুমোদিত কমিটি বাতিল
স্টাফ রিপোর্টার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চার ইউনিয়নে কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে বিতরণকৃত ট্রাক্টর ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রকৃত কৃষকদের না দিয়ে আত্মসাৎ
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) উপসহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত তালুকদার দেবুকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সিলেটের কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের
* হুমকির মুখে গুচ্ছগ্রাম ও ফসলি জমি স্টাফ রিপোর্টার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ২নং চারখাই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শিকারপুর (গুচ্ছগ্রাম)
স্টাফ রিপোর্টার সিলেট নগরের সমাজসেবা ও আন্দোলন-সংগ্রামে এক পরিচিত ও নন্দিত নাম জুরেজ আব্দুল্লাহ গোলজার। সামাজিক সংগঠন ‘এসিড সন্ত্রাস নির্মূল