editor
প্রকাশিত: 5:11 PM, September 16, 2020
নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাকালে সিলেটে ঘরে ঘরে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। করোনার সব উপসর্গই রয়েছে এ জ্বরে। সর্দি, মাথা, শ্বাসকষ্টেও ভুগছেন অনেকেই। এ কারণে সিলেটে শীতের আগে করোনার ঢেউ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে- স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন- মৌসুমী এ জ্বরে আতঙ্কের কিছুই নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধ সেবন করলেই এ জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এই মুহূর্তে সিলেটের আবহাওয়া বিচিত্র। কখনো প্রখর রোদ, আবার কখনো অঝোর ধারায় বৃষ্টি।
এতে করে ঠাণ্ডা-গরমে ঘুরপাক খাচ্ছে প্রকৃতি। এই অবস্থা গত দুই সপ্তাহ আগে থেকে। এ কারণে সিলেটে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে- গত দুই সপ্তাহ ধরে সিলেটে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগীরা ভর্তি হচ্ছেন। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যারা ভর্তি হচ্ছেন তাদের শরীরে অতিরিক্ত তাপমাত্রা পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাথা ও শরীর ব্যথা রয়েছে। অনেকেই আবার সর্দি-কাশিতেও আক্রান্ত। চিকিৎসকরা বলছেন, তাপমাত্রা ওঠা-নামা, হঠাৎ গরম ও হঠাৎ ঠাণ্ডা লাগা এবং এবং আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত কারণে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথা ব্যথা, শরীরেও ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হতে পারে। নগরীর তালতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস জানান- তার পরিবারের সব সদস্যই পর্যায়ক্রমে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। এরমধ্যে রয়েছে সর্দি, কাশিও। ফলে করোনা নিয়ে তার পরিবারে ভয় বেশি। তবে- জ্বরে আক্রান্তরা ডাক্তারের পরামর্শে রয়েছেন। পার্শ্ববর্তী পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা ডাক্তার দেখিয়েছেন। একই অবস্থা মীরাবাজার এলাকার সুমন আহমদের পরিবারের। একে একে পরিবারের সব সদস্য জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছেন।
সিলেটের ইবনে সিনা, রিকাবীবাজার, মেডিকেল রোড এলাকায় মেডিসিন বিশেষ্ণদের চেম্বারে জ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব এলাকার ডাক্তাররা জানিয়েছেন- তাপমাত্রার ওঠা-নামা এবং সিজোনাল কারণে এটা হচ্ছে। সাধারণ রোগীদের প্যারাসিটামল, সর্দি থাকলে এন্টি হিস্টামিন খাওয়াতে হবে। তবে বেশি কাশি এবং শ্বাসকষ্টসহ অন্য কোনো ধরনের জটিলতা থাকলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিচ্ছেন। এদিকে- সিলেট শহর এবং গ্রাম সবখানেই রয়েছেন জ্বরে আক্রান্ত রোগী। এ কারণে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনার জন্য যেসব হটলাইন চালু করা হয়েছে সেখানেই রোগীদের যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। হটলাইনের মাধ্যমে ডাক্তাররা জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের তাৎক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে যেসব ডাক্তাররা আসছে তাদের দেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- এই জ্বরের বিষয়টি তারা মনিটরিং করছেন। জ্বরের প্রকোপ দুই সপ্তাহ ধরে চললেও করোনা রোগী বাড়েনি। গতকালও সিলেটে করোনা আক্রান্তের হার ছিল শনাক্তের বিবেচনায় ১৬ ভাগ। গত এক মাস ধরে একইভাবে রোগীরা শনাক্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের পরিচালক সুলতানা রাজিয়া জানিয়েছেন- লক্ষণ সুবিধার নয়। ঘরে ঘরে যেহেতু জ্বর, সে কারণে সবাইকে সতর্ক থাকা উচিত। বিশেষ করে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা উচিত। ভাইরাস জ্বরের প্রকোপের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- এজন্য আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ যেকোনো ভাইরাসজনিত জ্বরকেই ভাইরাস জ্বর বলা হয়।
ভাইরাস জ্বর হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। এ জ্বরের জন্য এন্টিবায়োটিকও জরুরি নয়।
এদিকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘এসি-ফ্রিজ-গিজারের মতো শরীরেও থাকে থার্মোস্ট্যাট। সবসময়ে তা শরীরের তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৯৮.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ধরে রাখতে চায়। মুশকিল হলো, আচমকা বাইরের তাপমাত্রার বাড়াবাড়ি বদল হলে শরীরের থার্মোস্ট্যাট যথাযথ কাজ করে না। তখনই ইমিউনিটি তার কর্তব্যে গাফিলতি করে ফেলে। হয় অতি সক্রিয় হয়ে ওঠে (তখন অ্যালার্জির শিকার হয় শরীর) অথবা সক্রিয়তা কমে যায় (তখন জীবাণু সংক্রমণের শিকার হয় শরীর)। বর্তমান সময়ে দ্বিতীয়টিই বেশি হচ্ছে।’
এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায় বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এই সময়টিতে জ্বর হবে এটা স্বাভাবিক। জ্বর হলে ভয়ের কিছু নেই। হাসপাতালের আউটডোরে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রধান করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে একদিকে করোনাভাইরাস সংক্রামণে অনেকই আক্রান্ত হচ্ছে। আবার সিজনাল জ্বর-সর্দিতে অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। তবে যে কোন রোগকে হালকা মনে না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে যদি জ্বর-সর্দি না কমে তাহলে করোনাভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করানো উচিৎ।
হিমাংশু লাল রায় বলেন, হঠাৎ অত্যধিক গরম ও মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি। এ গরম-ঠাণ্ডা করণে অনেকের জ্বর হচ্ছে। যার কারণে মানুষ না বুঝে আতঙ্কে আছে। যেহেতু এখন করোনার সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার কথা। তবে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকরে পরামর্শক্রমে ঔষধ সেবন করলে জ্বর শেষ হয়ে যাবে। এই জ্বর ৩ থেকে ৪ দিনের ভিতরে শেষ হয়ে যায়। তবে বর্তমানে কোনো জ্বরকেই হালকা ভাবে নেওয়া উচিৎ নয় এবং জ্বর হলে ঘর থেকে বের না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, দেশের আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ইদানীং সর্দি- জ্বর বাড়ছে। তবে করোনাভাইরাসের ভয় কাজ করছে অনেকের মাঝে। করোনাভাইরাস সংক্রামণ হয়েছে মনে করে অনেকেই করোনা টেস্ট করাচ্ছেন। কিন্তু পরীক্ষার পর দেখা যায় করোনা নেগেটিভ। স্বাভাবিক জ্বর-সর্দি হয়েছে।
4 সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের মনিপুরী পাড়া খেলার মাঠ সংস্কার করে বৃহত্তর আম্বরখানা এলাকার শিশু-কিশোর ও যুবকদের জন্য উন্মুক্ত
1 জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সিলেটে বর্ণাঢ্য
8 সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) বিভিন্ন বিভাগ ও গ্যাস ফিল্ডের জন্য চালক ও জ্বালানিসহ ভাড়ায় গাড়ি সরবরাহের দরপত্র জমা
1 তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সিলেটের পোল্ট্রি শিল্প। প্রচণ্ড তাপমাত্রায় মুরগির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও খাদ্য
2 সিলেটের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কোটি কোটি টাকার আর্থিক ব্যবস্থাপনায়
8 সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ বাংলাদেশে যেকোনো জনগুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও সংশোধনে ইসলামী মূল্যবোধকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিস যুক্তরাজ্য
4 বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব ও জেলা ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান রিপন বলেছেন, ব্যবসায়ীদের
4 প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের উপযোগী দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীল চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশের লক্ষ্যে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে দিনব্যাপী ‘কম্পিউটার প্রোগ্রামিং