editor

প্রকাশিত: 11:09 AM, September 10, 2026

ঢেউয়ের শব্দে জীবনের গল্প: আমাদের কক্সবাজার ডায়েরি

ঢেউয়ের শব্দে জীবনের গল্প: আমাদের কক্সবাজার ডায়েরি

7

রেজওয়ান আহমদ:

বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগর। এই সাগরের উত্তাল গর্জন এবং অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অগণিত পর্যটক ছুটে আসেন কক্সবাজারে। পর্যটকদের ভিড়ে এখানে সবসময় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

5

কেউ আসেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে। সাগরের ঢেউয়ের শা-শা শব্দ একদিকে যেমন মনে আনন্দের জোগান দেয়, অন্যদিকে যেন অজানা কোনো বেদনাকে একই সুতোয় গেঁথে ফেলে। একা ভ্রমণ করার চেয়ে দলবেঁধে আনন্দে মেতে ওঠার অনুভূতি একেবারেই আলাদা।

আমরা কয়েকজন মিলে প্রায়ই এমন আনন্দ ভ্রমণে বের হই। কিছুদিন ধরে সবাই মিলে আবারো কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা করছিলাম। অবশেষে সবাই ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) কক্সবাজার যাওয়ার দিনটি চূড়ান্ত করলাম।

ভ্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে ২৪ আগস্ট ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কেটে ফেলা হলো। ৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার জন্য আমরা মোট ৭ জন প্রস্তুত হলাম। আগের দিন অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হলো রাত ৯টার মধ্যে রেলস্টেশনে উপস্থিত থাকার জন্য। কক্সবাজার ভ্রমণ উপলক্ষে ‘এ-ওয়ান ট্রাভেলস্’-এর পরিচালক মাসুম ভাই আমাদের চশমা এবং অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম মোমিন ভাই সুন্দর টি-শার্ট উপহার দিলেন।

৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে একে একে রাজু ভাই, আরিফ ভাই, সোহেল, বাবর জোয়ারদার, সুমন, সেলিম এবং আমি সিলেট রেলস্টেশনে এসে পৌঁছালাম। সবাই মিলে স্টেশনে বেশ কয়েকটি ছবি তুললাম। রাত ১০টায় আমাদের বহনকারী ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। ট্রেনের জানালার বাইরে রাতের অন্ধকার, আর ভেতরে আমাদের অন্তহীন আনন্দ। ট্রেন এক স্টেশন পেরিয়ে অন্য স্টেশনে এগিয়ে যেতে লাগল।

রাত যখন প্রায় ৩টা, তখন ট্রেন লাকসাম স্টেশনে এসে থামল। এর কিছুক্ষণ পরেই একটি মর্মান্তিক খবর এল, ট্রেনের ছাদে নাকি এক যুবকের লাশ পড়ে আছে! আমরা সবাই পেশায় সংবাদকর্মী হওয়ায় খবরটি শোনামাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখলাম সত্যিই ট্রেনের ছাদে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে, আর লাশ উদ্ধারে কাজ করছে রেলওয়ে পুলিশ। আমরা লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে খবরটি প্রচার করার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও স্থান পায়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা হাত-পা বেঁধে তাকে হত্যা করে ছাদে ফেলে রেখে গিয়েছিল। নিহত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। ছেলেটির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল কোনো অসহায় মায়ের সন্তান। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের আনন্দের আমেজে কিছুটা হলেও বিষাদের ছায়া ফেলেছিল।

প্রায় এক ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ হলে ট্রেন পুনরায় চলতে শুরু করে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে আমাদের ট্রেন চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে এসে পৌঁছায়। ট্রেন থেকে নেমে সবাই স্টেশন সংলগ্ন একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে পরোটা ও ডাল-ভাজি দিয়ে সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। এরপর কক্সবাজারের বাসের টিকিট কেটে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রওনা হলাম।

জার্নি চলাকালীন বাসেই রাজু ভাই ও আমি কিছুটা অসুস্থ বোধ করছিলাম। তবে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আমাদের বাস কক্সবাজারে পৌঁছায়। বাস থেকে নেমে আমরা থাকার জন্য ভালো আবাসিক হোটেল খুঁজতে শুরু করলাম। বেশ কয়েকটি হোটেল দেখার পর দুই দিনের জন্য ১০ হাজার টাকায় একটি চমৎকার বিলাসবহুল হোটেলের রুম বুক করলাম। চারটি রুমে আমরা ৭ জন ভাগ হয়ে উঠলাম, দুই রুমে চারজন এবং বাকি দুই রুমে তিনজন।

রুমে ব্যাগ রেখে ফ্রেশ হয়েই দুপুরের খাবারের জন্য বেরিয়ে পড়লাম। একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় সামুদ্রিক মাছ দিয়ে পেটভরে ভাত খেয়ে আমরা সোজা চলে গেলাম বহুল প্রতীক্ষিত সমুদ্র সৈকতে। একদিকে প্রখর রোদ, অন্যদিকে সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস, এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অনুভূতি! পাড়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর সবাই মিলে সাগরের পানিতে নেমে পড়লাম। একের পর এক ঢেউ এসে গায়ে আছড়ে পড়ছে। হঠাৎ মুখের ভেতরে পানি যেতেই বুঝতে পারলাম সাগরের পানি লবণাক্ততা। পানিতে মাতামাতি ও লাফালাফি করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এল টেরই পেলাম না।

4

সন্ধ্যায় রুমে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। এরপর রাজু ভাইয়ের সৌজন্যে চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলাম। একটি হোটেলে ঢোকার মুখে দেখলাম বড় সাইজের রুটি বানানো হচ্ছে। টেবিলে বসে স্পেশাল চা ও গরম রুটির অর্ডার দেওয়া হলো। চা-রুটির আড্ডা শেষে বিল এল ৩৮০ টাকা।

চা খাওয়া শেষে আমরা আবার রাতে কক্সবাজার সৈকতে ফিরে গেলাম। রাতের সমুদ্রের রূপ দিনের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও এক রহস্যময় সৌন্দর্যে ঘেরা। আড্ডা দিতে দিতে রাত ১০টা বেজে গেলে আমরা রাতের খাবারের সন্ধানে বের হলাম। সৈকত সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী বাঁশ দিয়ে ডেকোরেশন করা ‘বাঁশমতি রেস্তোরাঁ’য় আমরা সানন্দে প্রবেশ করলাম। সেখানে ৭ জনের জন্য সাগরের বিভিন্ন মাছের পদ এবং বাহারি পদের ভর্তা অর্ডার দেওয়া হলো। টাটকা সামুদ্রিক মাছের স্বাদ সত্যি অতুলনীয়।

নৈশভোজ শেষে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে আমরা আবার সাগরের পাড়ে ফিরলাম। প্রতি ঘণ্টা ৬০ টাকা ভাড়ায় দুই ঘণ্টার জন্য বিচ চেয়ার বা সিট নিয়ে আমরা বসার ব্যবস্থা করলাম। সুমন সঙ্গে করে তার গিটার নিয়ে এসেছিল। শুরু হলো সাগরের পাড়ে গানের আসর। আমাদের মূল শিল্পী আরিফ ভাই ও সোহেল, আর গিটারে সুর তুলল সুমন। যদিও আমরা কেউ পেশাদার গায়ক নই, তবুও সবার সম্মিলিত কণ্ঠে তাল-বেতালে গান জমে উঠল। সাগরের ঢেউয়ের শা-শা শব্দ আর আমাদের সুর মিলেমিশে এক অপূর্ব আবহ তৈরি করল। দেখতে দেখতে রাত ২টা বেজে গেল। এরপর আড্ডা শেষ করে হোটেলে ফিরে রাত ৩টার দিকে ঘুমাতে গেলাম। এভাবেই কাটল আমাদের কক্সবাজার ভ্রমণের প্রথম দিন।

6

পরদিন সকালে সূর্যের আলো ফুটে উঠতেই শুরু হলো দ্বিতীয় দিনের ব্যস্ততা। সকাল ৯টায় ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে হোটেলের রেস্তোরাঁয় গেলাম। হোটেলের পক্ষ থেকে সকালের নাস্তা ছিল সম্পূর্ণ ফ্রি (বুফে ব্যবস্থা)। সারিবদ্ধভাবে সাজানো হরেক পদের খাবার থেকে পছন্দের খাবার প্লেটে নিয়ে আমরা কর্নারের একটি বড় টেবিলে বসলাম।

নাস্তা খেতে খেতে হঠাৎ শুরু হলো ‘কে কত বেশি খেতে পারে’ তার এক মজার প্রতিযোগিতা! প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন সোহেল, দ্বিতীয় হলেন আরিফ ভাই (কারণ তারা কোনো খাবারই বাদ দেননি) এবং তৃতীয় হলাম আমি। বাকি চারজনের মধ্যে রাজু ভাই, বাবর ও সুমন সমপরিমাণ খেয়ে ড্র করলেন, আর এই প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে দুর্বল পারফর্মার ছিলেন সেলিম।

নাস্তা পর্ব শেষ করে আমরা টমটম নিয়ে চলে গেলাম কক্সবাজারের বৃহত্তম ফিশারী ঘাটে। ট্রলার থেকে জেলেরা সাগরের তাজা মাছ খালাস করে এখানে পাইকারি দামে বিক্রি করেন। ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখতে দেখতে হঠাৎ আমার চোখে পড়ল বিশাল আকৃতির একটি ‘শাপলা মাছ’। প্রজাপতির রঙের মতো এই সুন্দর মাছটি আমার এবং অনেকের জন্যই জীবনে প্রথম সামুদ্রিক শাপলা মাছ দেখার অভিজ্ঞতা ছিল।

ঘাটে ঘুরাঘুরির পর সবাই সিলেটে নিজ নিজ পরিবারের জন্য মাছ কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। ইলিশ, রূপচাঁদা, গলদা চিংড়ি, লইট্টা সহ প্রচুর মাছ কেনা হলো। মাছগুলো সিলেটে পাঠানোর জন্য ভালোভাবে বরফ দিয়ে প্যাকেট করা হলো। ফিশারী ঘাট থেকে বের হওয়ার সময় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাছের জন্য নির্দিষ্ট ফি দিতে হলো, যা রাজু ভাই পরিশোধ করলেন।

এরপর টমটমে করে মাছের প্যাকেটগুলো নিয়ে আমরা গেলাম ‘এসএ পরিবহন’ কুরিয়ার সার্ভিসে। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমাদের অবস্থা হলো “খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি!” অর্থাৎ যে দামে আমরা মাছ কিনেছি, তার চেয়ে কুরিয়ার চার্জ বেশি পড়ে গেল। তবে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হলো, কর্মকর্তা জানালেন মাছগুলো সরাসরি সিলেটে যাবে না; প্রথমে যাবে ঢাকায়, তারপর ঢাকা থেকে সিলেটে পাঠানো হবে। মাছ ভালো থাকবে কি না, এই চিন্তায় আমরা বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললাম। তারা আমাদের আশ্বস্ত করলেন যে বরফ ঠিকমতো দেওয়া আছে, তাই মাছ নষ্ট হবে না। কিছুটা শঙ্কা আর আশা নিয়ে মাছ কুরিয়ার করে অফিসের সামনে একটা গ্রুপ ছবি তুলে আমরা হোটেলে ফিরে এলাম।

দুপুরের খাবার আবার সেই ‘বাঁশমতি রেস্তোরাঁ’তেই সাগরের তাজা মাছ দিয়ে সারলাম। দুপুরের পর আমাদের গন্তব্য ছিল সমুদ্রের শুটকি কেনা। ২০০ টাকা ভাড়ায় টমটম নিয়ে আমরা রওনা হলাম নাজিরের টেক বা নাজিরের ঘাট এলাকায়, যা শুটকির আড়ৎ হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত।

সেখানে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি শুটকির দোকান। সব ধরনের ছোট-বড় সামুদ্রিক মাছ শুটকি বানিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। শুটকির আড়ৎ ঘুরে আমরা একদম সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে হাজির হলাম। তখন বিকেল ৫টা। আকাশে ঢলে পড়া সূর্যটা ধীরে ধীরে পশ্চিম সমুদ্রে বিলীন হচ্ছে, সন্ধ্যা নামার এই সূর্যাস্তের দৃশ্য ছিল এককথায় অসাধারণ! সবাই মোবাইলে সেই অপরূপ দৃশ্য ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

ঠিক তখনই সাগরের মাঝে ছোট্ট একটি দ্বীপ নজরে এল। চারপাশে নীল জলরাশি, আর মাঝখানে গাছপালা ও ঘরবাড়ি। আরিফ ভাই জানালেন, এটিই বিখ্যাত ‘সোনাদিয়া দ্বীপ’। এই দ্বীপে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হলো ট্রলার বা নৌকা। সূর্যাস্ত উপভোগ শেষে আমরা দোকানে ফিরে এসে রকমারি শুটকি কিনে প্যাকেটিং করালাম।

8

কেনাকাটা শেষে রাত ৮টায় হোটেলে ফিরলাম। কেনাকাটার সামগ্রী রুমে রেখে সবাই একটু জিরিয়ে নিয়ে আবার বের হলাম। রাজু ভাই সবাইকে চমৎকার মালাই চা খাওয়ালেন। চা খেয়ে রাত ৯টার দিকে আমরা আবার সমুদ্র সৈকতে গেলাম। সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত চলল আমাদের গানের আড্ডা। এবার গানে অংশ নিলেন রাজু ভাই, আরিফ ভাই, সোহেল এবং আমি নিজে, আর সঙ্গীতে ছিল সুমনের গিটার। আড্ডা শেষে রাতে খাবার খেয়ে হোটেলে গিয়ে সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম।

ভ্রমণের তৃতীয় দিন সকাল ৮টায় হোটেলের রেস্তোরাঁয় আবারো আমাদের নাস্তার প্রতিযোগিতা শুরু হলো। কারণ দুপুরে ট্রেনে থাকতে হবে, তাই পেট ভরে খেয়ে নেওয়াটাই ছিল বুদ্ধিমানের কাজ। নাস্তা শেষ করে আমরা রুম ছেড়ে দিয়ে ট্যাক্সি নিয়ে কক্সবাজার রেলস্টেশনে গেলাম। আইকনিক ও ঝিনুক আকৃতির কক্সবাজার রেলস্টেশনের স্থাপত্যশৈলী সত্যিই নান্দনিক!

সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেন স্টেশন ছাড়ে সকাল ১১টায়। পাহাড়, সমতল আর সবুজের বুক চিরে ট্রেন এগিয়ে চলল। ট্রেনের জানালা দিয়ে রূপসী বাংলাদেশের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে বিকেল ৩টায় আমরা চট্টগ্রাম স্টেশনে এসে পৌঁছালাম। সিলেটগামী ট্রেন ছাড়বে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে। তাই দীর্ঘ সময় বিশ্রাম নেওয়ার জন্য স্টেশনের কাছের একটি হোটেলে সাময়িক সময়ের জন্য রুম ভাড়া নিলাম। সবাই ফ্রেশ হলাম। দুপুরের খাবারের জন্য যে যার মতো বেড়িয়ে পড়লো। তখন হঠাৎ সোহেল আমাকে ফোন দিয়ে বললো চট্টগ্রামের বায়োজিত বুস্তামি মাজারে যাওয়ার জন্য। আমি যেতে পারলাম না। সে একাই চলে গেলো। কারণ তার নাকি মায়ের সাথে ২০ বছর আগে এখানে এসেছিলো। এখন মায়ের স্মৃতি মনে হওয়ার সাথে সাথে সে বায়োজিত বুস্তামির মাজারে চলে গেলো। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে এখনো সোহেল আসেনি। আমি বাহির থেকে রুমে যাওয়ার পর আরিফ ভাই বললেন সোহেল কোথায়। আমি বললাম কোন এক জায়গায় গিয়েছে। তিনি বললেন, ফোন দিচ্ছি রিসিভ করছে না। তারপর আমিও ফোন দিলাম রিসিভ করেনি। সবাই চিন্তিত হয়ে পড়লো। এরই মধ্যে সোহেল আমার মোবাইলে কল দিয়ে জানালো সে কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসছে চট্টগ্রাম স্টেশনে।

রাত ৯টা ২০ মিনিটে হোটেল ছেড়ে স্টেশনে গিয়ে সিলেটের ট্রেনে আসন গ্রহণ করলাম। রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের ট্রেনটি ছাড়ে রাত ১০টা ২০ মিনিটে। মাঝরাতে ট্রেন ছুটছে সিলেটের পানে। সারাদিনের ক্লান্তিতে একে একে সবাই ঘুমে ঢলে পড়লাম। আরিফ ভাই তো এত গভীর ঘুমে ছিলেন যে যাত্রাপথের কোনো ক্লান্তিই টের পাননি!

অবশেষে ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আমাদের ট্রেন সিলেট রেলস্টেশনে এসে থামল। একে একে সবাই প্ল্যাটফর্মে নেমে এলাম। এবার বিদায়ের পালা। রাজু ভাই ও আরিফ ভাই অটোরিকশায়, বাবর মোটরসাইকেলে এবং আমি, সুমন, সেলিম ও সোহেল একটি সিএনজি নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হলাম।

বেলা ১১টায় এলো কাঙ্ক্ষিত সেই ফোন, কুরিয়ার সার্ভিস থেকে জানানো হলো আমাদের মাছের কার্টন চলে এসেছে! খবরের সত্যতা পেয়ে ঘুম তাড়াহুড়ো করে কুরিয়ারে ছুটে গেলাম। রিসিভ রশিদ দেখিয়ে কার্টনগুলো নিয়ে বাসায় আসলাম। কার্টন খোলার আগে পর্যন্ত সবার মনে একটাই দুশ্চিন্তা ছিল, মাছগুলো ভালো আছে তো?

অবশেষে কার্টন খোলার পর দেখা গেল বরফ কিছুটা গলে গেলেও মাছগুলো আলহামদুলিল্লাহ্ বেশ ভালো এবং তাজা রয়েছে! মাছ অক্ষত অবস্থায় পাওয়ার পর আমাদের অনেকের মনে স্বস্তি ফিরে এল। সব মিলিয়ে এই কক্সবাজার ভ্রমণটি আমাদের সবার হৃদয়ে এক অবিস্মরণীয় ও সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

Sharing is caring!


সর্বশেষ সংবাদ

ঢেউয়ের শব্দে জীবনের গল্প: আমাদের কক্সবাজার ডায়েরি

ঢেউয়ের শব্দে জীবনের গল্প: আমাদের কক্সবাজার ডায়েরি

8 রেজওয়ান আহমদ: বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগর। এই সাগরের উত্তাল গর্জন এবং অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের

নবীগঞ্জে খালিছ ও পুলিশ কনস্টেবল রাজু’র বিরুদ্ধে তাণ্ডবের অভিযোগ

নবীগঞ্জে খালিছ ও পুলিশ কনস্টেবল রাজু’র বিরুদ্ধে তাণ্ডবের অভিযোগ

1 হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নে ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে থাকা কথিত ‘খালিছ’ আবারও এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বারকি শ্রমিক থেকে কোটিপতি ‘শ্যাম কালা’

বারকি শ্রমিক থেকে কোটিপতি ‘শ্যাম কালা’

6 বছর দশেক আগেও তিনি ছিলেন পাথর শ্রমিক। আর বাবা মোশাহিদ আলী ছিলেন একজন দিনমজুর। তবে দিন পাল্টে গেছে। বারকি

সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর যেন মাদকের হাট, নেপথ্যে সেলিম-বেগম দম্পতি

সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর যেন মাদকের হাট, নেপথ্যে সেলিম-বেগম দম্পতি

4 সিলেট সদর উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ও অবাধ বেচাকেনার প্রসঙ্গ উঠলেই সবার আগে নাম আসে ৬ নম্বর টুকেরবাজার ইউনিয়নের

চীনে ৫০ দিনের উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন সিলেটের আন্তর্জাতিক কোচ আনোয়ার হোসেন

চীনে ৫০ দিনের উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণে যাচ্ছেন সিলেটের আন্তর্জাতিক কোচ আনোয়ার হোসেন

5 চীন সরকারের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় চীনে অনুষ্ঠিতব্য ৫০ দিনের উচ্চতর উশু প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন

সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটি সদস্য সচিব রেজাউল করিম নাচন

3 সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নতুন এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এতে সিলেটের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রীড়াবিদ

চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় জাজ সম্মাননা পেলেন আরিফ উদ্দিন ওলি

চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় জাজ সম্মাননা পেলেন আরিফ উদ্দিন ওলি

8 ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘৮ম চায়না অ্যাম্বাসেডর কাপ উশু চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬। 8 প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে

সিলেট ছাত্রদলের ‘আইকন’ দিনার

সিলেট ছাত্রদলের ‘আইকন’ দিনার

2 সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনারÑরাজনীতির রাজপথে এক পরীক্ষিত, আপসহীন ও জনপ্রিয় নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, হুলিয়া,

1
3