editor

প্রকাশিত: 12:34 PM, August 4, 2026

পরিকল্পিত নগরায়ণই হবে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কয়েস লোদী

পরিকল্পিত নগরায়ণই হবে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

7

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন সংসদে পাস করা হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সিলেট শহরের সুপরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং আধুনিক পর্যটন নগরী গড়ে তোলার জন্যই এই সরকারি সংস্থা। তবে এর কোনো কার্যক্রম ছিলো না।

সম্প্রতি সরকার এই কতৃর্পক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। দায়িত্ব পেয়েছেন রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি সিলেট নগরের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চারবারে নির্বাচিত কাউন্সিলর। প্যানেল মেয়রও ছিলেন। সংবাদ-এর সাথে আলাপচারিতায় সিলেট নগরীর উন্নয়নে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আকাশ চৌধুরী।

6

সংবাদ: নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

কয়েস লোদী: নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনেক কিছুই শুরু থেকে গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল, কারিগরি সক্ষমতা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করাই হবে প্রথম চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি নাগরিকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। আমরা ধাপে ধাপে একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।

8

সংবাদ: আপনার প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা কী হবে?

2

কয়েস লোদী: প্রথমেই সিলেটের বিদ্যমান উন্নয়ন পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, খাল, জলাশয় এবং নগর সম্প্রসারণের বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা করবো। এরপর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন এবং নাগরিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প নির্ধারণ করা হবে।

সংবাদ: সিলেট নগরের প্রধান সমস্যাগুলো কী বলে আপনি মনে করেন?

কয়েস লোদী: আমার দৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, খাল ও জলাশয় ভরাট, পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থানের অভাব এবং পরিবেশগত ঝুঁকি বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা। এগুলো একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সমাধানও ধাপে ধাপে করতে হবে। পরিকল্পনা, আইন প্রয়োগ এবং জনগণের সহযোগিতা–এই তিনটির সমন্বয়েই স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

সংবাদ: সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আপনারা কীভাবে কাজ করবেন?

কয়েস লোদী: আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিদ্বন্দ্বী নই। বরং সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করবো। সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত অধিদপ্তর, এলজিইডি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেই উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একই প্রকল্পে যেন দ্বৈততা না থাকে এবং জনগণ যেন দ্রুত সুফল পায়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।

সংবাদ: পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

কয়েস লোদী: সিলেটের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস করা যাবে না। খাল, জলাশয়, টিলা ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। উন্নয়ন এবং পরিবেশ – দুটিকে সমান গুরুত্ব দিয়েই এগোতে চাই।

সংবাদ: বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এই কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হতে পারে?

7

কয়েস লোদী: একটি পরিকল্পিত শহরই বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। উন্নত অবকাঠামো, সুশৃঙ্খল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এর ফলে নতুন শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতের প্রসার ঘটবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। সিলেটের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাই।

সংবাদ: নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা কীভাবে নিশ্চিত করবেন?

কয়েস লোদী: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান সফল হতে পারে না। আমরা ডিজিটাল সেবা, উন্মুক্ত তথ্যপ্রকাশ, নিয়মিত গণশুনানি এবং নাগরিক মতামত গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা করবো। উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে, যাতে মানুষ নিজেদের এই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মনে করেন।

সংবাদ: আপনার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। আপনার বক্তব্য কী?

কয়েস লোদী: আমি মনে করি, এই দায়িত্ব একটি রাষ্ট্রীয় ও জনকল্যাণমূলক দায়িত্ব। এখানে ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আইন, নীতিমালা এবং জনস্বার্থ। আমি সকল নাগরিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব। আমার কাছে সিলেটের উন্নয়নই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

সংবাদ: আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে আপনি কেমন সিলেট দেখতে চান?

কয়েস লোদী: আমি এমন একটি সিলেট দেখতে চাই, যেখানে পরিকল্পিত আবাসন, আধুনিক সড়ক ব্যবস্থা, কার্যকর ড্রেনেজ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পর্যাপ্ত সবুজ এলাকা, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে। এমন একটি শহর, যেখানে উন্নয়নের সুফল সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সমানভাবে ভোগ করবেন এবং যা দেশের অন্যতম আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে পরিচিত হবে।

Sharing is caring!


সর্বশেষ সংবাদ

বিআরটিসির অনুমোদন ছাড়াই কাউন্টার পরিচালনার অভিযোগ জামায়াত নেতা সুহেল রানার বিরুদ্ধে

বিআরটিসির অনুমোদন ছাড়াই কাউন্টার পরিচালনার অভিযোগ জামায়াত নেতা সুহেল রানার বিরুদ্ধে

7 সিলেট নগরীর কদমতলীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ও কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বিআরটিসির ব্যানার ব্যবহার

পরিকল্পিত নগরায়ণই হবে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

পরিকল্পিত নগরায়ণই হবে টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি

8 সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন সংসদে পাস করা হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সিলেট শহরের সুপরিকল্পিত উন্নয়ন, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং

পরিবহনের আড়ালে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান

পরিবহনের আড়ালে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচালান

4 সিলেটের কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট ও ভারতীয় অবৈধ পণ্যের চোরাচালান থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে

রাস্তা কেটে পরিবার অবরুদ্ধের অভিযোগ জকিগঞ্জে

রাস্তা কেটে পরিবার অবরুদ্ধের অভিযোগ জকিগঞ্জে

4 সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের গড়রগ্রামে দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধ নতুন মোড় নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের পরও

সিসিকের ১৯নং ওয়ার্ডে টিসিবি’র পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ

সিসিকের ১৯নং ওয়ার্ডে টিসিবি’র পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ

2 দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রভাবে হিমশিম খাওয়া মানুষের কাছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

গোয়াইনঘাটে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পিয়াইন নদী তছনছ

গোয়াইনঘাটে প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পিয়াইন নদী তছনছ

7 সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে পিয়াইন নদী থেকে বেপরোয়াভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন

জকিগঞ্জ উপজেলা তাতীদলের ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন

জকিগঞ্জ উপজেলা তাতীদলের ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন

4 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাতীদল সিলেট জেলা শাখার আওতাধীন জকিগঞ্জ উপজেলা শাখার ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩

জকিগঞ্জ পৌর শাখা তাতীদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন

জকিগঞ্জ পৌর শাখা তাতীদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন

7 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তাতীদল সিলেট জেলা শাখার আওতাধীন জকিগঞ্জ পৌর শাখার ১১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 4 সোমবার

1
2