admin
প্রকাশিত: ৫:২৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০
জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রায় ২০ বছর ধরে ভাতাবঞ্চিত জামালগঞ্জের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মো. মন্তাজ মিয়ার পরিবার। অভাব-অনটনে দিন কাটছে শহীদ পরিবারটির। সব ঠিকঠাক থাকার পরও গেজেটে প্রকাশিত ভুল নামের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ভাতা পাওয়ার নিশ্চয়তা। ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখ সমরে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছিলেন মন্তাজ মিয়া।
৪৮ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সাথে তিনিও শুয়ে আছেন সুনামগঞ্জের ডলুরা শহীদ সমাধিস্থলে। দেশকে স্বাধীন করতে অকাতরে জীবন দান করেও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা জুটছে না তাঁর পরিবারের। শহীদ পিতার মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা নিশ্চিতে দীর্ঘদিন যাবৎ সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বলে জানিয়েছেন শহীদ সন্তান মো. আজিদ আলী।
ডলুরা শহীদ সমাধিস্থল সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সমাধিস্থলের প্রবেশদ্বার অর্থাৎ প্রধান ফটকের বামদিকে সবার উপর অংশের ১ নম্বরে শহীদ মন্তাজ মিয়ার নাম লিখা রয়েছে। ভেতরের ৪৮ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকার স্তম্ভেও ১ নম্বরে আছে মো. মন্তাজ মিয়ার নাম। এছাড়া সমাধিস্থলের চারপাশ বেষ্টিত প্রবেশমুখের সোজা বিপরীত অংশের বামদিকের প্রথম সমাধিটিই শহীদ মন্তাজ মিয়ার। তার নামফলকে লেখা আছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মন্তাজ মিয়া (আনসার), পিতা মৃত আব্দুল গনি, সাং-কামলাবাজ, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ। কিন্তু সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়া মন্তাজ মিয়ার পরিবারকে ভুল নামের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ অনেক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। সর্বশেষ শহীদ স্ত্রী রুকিয়া খাতুন ১৯৯৯ সালের ৩১ আগস্ট ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাতা উত্তোলন করলেও পরবর্তীতে তিনি মারা যাওয়ার পর আর কোন ভাতা পাননি বলে জানিয়েছে শহীদের সন্তানেরা।
এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও তথ্যাদি ঘেটে দেখা যায়, ২০০৩ সালে ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যার ২৮৫২ নম্বর ক্রমিকে উত্তর কামলাবাজ গ্রামের মৃত আব্দুল গনির ছেলে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. মন্তাজ মিয়ার পরিবর্তে শহীদ মমতাজ মিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যাঁর নাম উপজেলার খসড়া তালিকার ৫ নম্বর ক্রমিকে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ০৫০২০৭০১৪৯ এর পাশাপাশি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের ডাটা বেইজ অনলাইন আইডি ১৫৩ নম্বর ক্রমিকের ০৭০৪১৩৮৯১৭ সহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকার ৩নম্বর ক্রমিকে এভাবে উল্লেখ আছে। গেজেট সংশোধন সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট শাখা ৪৮.০০.০০০০.০০৪.৪০.২৫৯.১৮.৫৬৫৫ নম্বরে স্মারকে সরেজমিনে তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়। তার জবাবে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সরজমিনে তদন্ত করে চলতি বছরের ১৯ আগস্ট ০৫.৬০.৯০৫০.০০১.৩১.০৯০.২০-৭৩৫(২) স্মারকে শহীদ মন্তাজ মিয়ার নাম গেজেটে সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। তবে এখনো এই সুপারিশের কোন সুরাহা হয় নি।
জানা যায়, ডলুরা শহীদ সমাধিস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরের সীমান্তবর্তী এলাকা বেড়িগাঁওয়ের সম্মুখ যুদ্ধে মো. মন্তাজ মিয়া শহীদ হয়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ১৮ জুলাই বালাট সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) আব্দুল মুত্তালিবের নেতৃত্বে সংঘটিত যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন। এ যুদ্ধে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন মন্তাজ মিয়া। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে সহযোদ্ধারা শহীদ যোদ্ধাদের ডলুরায় এনে সমাহিত করেন।
মন্তাজ মিয়ার সহযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘আমরা এক সাথে যুদ্ধ করেছি। আমাদের দলে পাঞ্জাবীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হওয়াদের মাঝে মন্তাজ মিয়াই প্রথম শহীদ হয়েছিলেন। তার পরিবারের ভাতা না পাওয়াটা আসলে বেদনাদায়ক। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই শহীদ পরিবারটি যাতে দ্রুত ভাতা পায় সেই দাবি জানাই।’
শহীদ মন্তাজ মিয়ার নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী মো. ময়না মিয়া (৭৬) বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে বাড়িতে কাউকে কিছু না বলেই তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং শহীদ হন। ডলুরায় তার কবরও আছে। একসময় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার স্ত্রী রুকিয়া খাতুন বেশ কয়েকবার ভাতাও উত্তোলন করেছেন। পরে তিনি মারা যাওয়ায় প্রায় ২০ বছর ধরে ভাতা পাচ্ছে না তাদের ছেলেমেয়েরা। বর্তমানে ভাতা পেতে অনেক জায়গায় দৌড়াদৌড়িও করছেন তারা। কিন্তু একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও তার পরিবারের ভাতা না পাওয়াটা খুবই দুঃখজনক।’
জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও প্রতিবেশী সোহেল আহমেদ বাচ্ছু বলেন, ‘মন্তাজ মিয়া একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েও তাঁর পরিবার আজ অবহেলিত, বঞ্চিত। দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে তারা এখন ক্লান্ত। এই পরিবারটি অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। ভুল নামের সমস্যাটা দূর করে, দ্রুত ভাতা প্রাপ্তি হোক আমরা এটাই চাই।’
শহীদ সন্তান মো. আজিদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তার পিতা দেশের জন্য যুদ্ধ করে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু নামের ভুলে প্রায় বিশ বছর যাবৎ ভাতা পাচ্ছেন না। শহীদ পিতার নামে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা পেতে দীর্ঘদিন ধরে নানা জনের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে তারা আর পারছেন না। এখানে সেখানে ঘুরে অনেক টাকাও খরচ হয়েছে। কর্তৃপক্ষের একটা সামান্য ভুলে বড় মাসুল গুণতে হচ্ছে তাদের। কবে শহীদ মমতাজ পাল্টে শহীদ মন্তাজ হবে, আর ভাতা জুটবে কপালে, তাও ঠিক করে বলা যাচ্ছে না। নাম সংশোধন করে দ্রুত ভাতা প্রাপ্তির আর্জি জানিয়েছেন তিনি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বললেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সেখানে যদি গেজেট সংশোধন করে দেয় তাহলে সমস্যাটা হয়তো সমাধান হয়ে যাবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বললেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাবো আমি।
7 সিলেটে মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং প্রজননস্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে দক্ষ মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে
1 “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা” প্রতিপাদ্যে ক্রীড়া পরিদপ্তরের বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচি ২০২৫-২০২৬-এর আওতায় সিলেট জেলায় মাসব্যাপী সাঁতার (অনূর্ধ্ব-১৫)
5 শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন আইনজীবীরা।
4 সরকারি কলেজে কর্মরত বেসরকারি কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিতকরণ ও রাজস্বখাতে স্থানান্তরের ৪ দফা দাবিতে সিলেটে বিভাগীয় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
1 যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি, সিলেট বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এবং কিংবদন্তি সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল কাদির সমছু সংক্ষিপ্ত যুক্তরাজ্য সফর
4 বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: একমাসে তিন বার চুরি হওয়া বিশ্বনাথ উপজেলার আলোচিত বিদ্যালয় লামাকাজী ইউনিয়নের সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। চুরি ঘটনাটি
1 স্টাফ রিপোর্টার: টাকায় কেনা যায় না এমন কিছুই যেন নেই তার কাছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও তার দাপটে কোনো পরিবর্তন
5 হিন্দু,বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সিলেট মহানগরের আওতাধীন কতোয়ালি থানা কমিটির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬