editor
প্রকাশিত: 11:23 AM, August 30, 2026
সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) রাজস্ব আদায় ও এসেসমেন্ট কার্যক্রম ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। চীফ এসেসর (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল বাছিত, এসেসর আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও এসেসর কবির উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, রাজস্ব ফাঁকি এবং কর কমানোর বিনিময়ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে
অভিযোগগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন ও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে এত অভিযোগের পরও টনক নড়ে না কেন?
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের সময়ে সাধারণ করদাতাদের কর-সংক্রান্ত কাজকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছিল। সেই বলয়ের সঙ্গে আব্দুল বাছিত, বাবলু ও কবিরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় ও সিসিকের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, কর নির্ধারণ কিংবা কমানোর প্রক্রিয়ায় সাধারণ করদাতাদের একটি অংশকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হতো। শহীদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তিকে ঘিরেও কর কমানোর বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে।
এমনকি বিভিন্ন আবেদনে কর কমানোর পরিমাণ নিজ হাতে লিখে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠলেও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি কতটা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হয়েছে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সিসিকের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও উঠে আসে। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, তদন্তের সময় কর কমানোর মূল নথি, সংশ্লিষ্ট আবেদন এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পেছনের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দাবি করেন, তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে বিষয়টি কার্যকরভাবে সামনে আসেনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।
প্রশ্ন হলো যদি অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হয়, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না কেন? আর অভিযোগ সত্য হলে এতদিনেও ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন?
সিসিকের বর্ধিত এলাকার নতুন ভবন ও বড় বড় হোল্ডিংকে ঘিরে আবারও তৎপরতা বাড়ার অভিযোগ উঠেছে। কর শাখার মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, একসঙ্গে ব্যাপক নোটিশ না দিয়ে বাছাই করে বড় ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ হোল্ডিংগুলোতে ধাপে ধাপে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ রয়েছে, কর নির্ধারণ ও পুনর্মূল্যায়নের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র করদাতাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এতে সিসিকের প্রকৃত রাজস্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথি, কর নির্ধারণের হিসাব এবং প্রশাসনিক অনুমোদন খতিয়ে দেখা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃশ্যমান জীবনযাপন ও সম্পদের উৎস নিয়ে।
সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন একই গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে তাদের বাড়ি-গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও অন্যান্য সম্পদের উৎস নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এসব সম্পদ তাদের বৈধ আয় ও ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাই করার দাবি উঠেছে।
তবে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে কারও সম্পদকে অবৈধ বলা যায় না। দুদক, আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ভূমি রেজিস্ট্রি এবং ব্যাংকিং লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন যদি এসব সম্পদ বৈধ আয় থেকে অর্জিত হয়ে থাকে, তাহলে নথিপত্র যাচাই করে বিষয়টি পরিষ্কার করা হচ্ছে না কেন?
অভিযোগ রয়েছে, সিসিকের বর্তমান প্রশাসনের রাজস্ব বৃদ্ধির উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত ফাইল প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে রাজস্ব বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ফাইলের মধ্যবর্তী পর্যায়ে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেটি যাচাই করা প্রয়োজন।
কারণ কর কমানোর একটি সিদ্ধান্ত যদি প্রকৃত রাজস্ব আদায় কমিয়ে দেয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সিসিক অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন নগরবাসী।
এ বিষয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে তো আমি জানি না কোন ব্যক্তি কীভাবে কী করে, সেটা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ সত্য হলে যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমি সিলেট কীভাবে সুন্দর করা যায়, সে বিষয় নিয়ে ব্যস্ত।
একাধিক অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ, মানববন্ধন, তদন্ত কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা—এরপরও যদি একই কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, কাউকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তি না দিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। আব্দুল বাছিত, আখতার সিদ্দিকী বাবলু ও কবির উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তাদের দায়িত্বকালে কর নির্ধারণ ও কমানোর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য সবকিছু যাচাই করা হোক।
একই সঙ্গে সিসিকের বর্ধিত এলাকার নতুন ভবনগুলোর এসেসমেন্ট কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি সিদ্ধান্তের নথিভিত্তিক অডিটের দাবি উঠেছে।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে তদন্তের মাধ্যমেই তাদের দায়মুক্ত করতে হবে। কারণ প্রশ্নটি শুধু কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে নয় প্রশ্নটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব এবং নগরবাসীর স্বার্থের।
4 বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে
2 ওয়েছুর রহমান বড়বাড়ি গ্রন্থাগার (ওআরবি গ্রন্থাগার)-এর পথিকৃৎ, জ্ঞানসেবক ও গ্রন্থপ্রেমী মোঃ ওয়েছুর রহমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বই বিতরণ কর্মসূচি
7 ঝুলনযাত্রা মহোৎসব উপলক্ষে বড়বাজার মণিপুরী পাড়ায় ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার এ উপলক্ষে বড়বাজার মণিপুরী
8 মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগস্থ শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের অন্যতম সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন ‘জয় দুর্গা সংঘ’-এর ২০২৬-২০২৮
4 সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ৪নং রামপাশা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খছরুজ্জামান খছরুর সমর্থনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 1
1 সিলেটের গোলাপগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী কোনাচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি পদ নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। 1 বর্তমান মসজিদ
8 সিলেটের জৈন্তাপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করায় মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও মারধরের শিকার হওয়ার
7 সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) রাজস্ব আদায় ও এসেসমেন্ট কার্যক্রম ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। চীফ এসেসর (চলতি দায়িত্ব)