admin
প্রকাশিত: 4:19 PM, August 21, 2026
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার নয় ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও সংশ্লিষ্ট কাজে দুই হাজারের বেশি আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, প্রবাসী, চাকরিপ্রার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের জন্য দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে ঘুরছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারহাল ইউনিয়নে প্রায় ২০০টি, বিরশ্রীতে ২৭০, কাজলসারে ৪০০, খলাছড়ায় ২০০, জকিগঞ্জ সদরে ৩০, সুলতানপুরে ৩৫৮, বারঠাকুরীতে ৭০, কসকনকপুরে ৩০০ এবং মানিকপুর ইউনিয়নে ৩৫০টি জন্মনিবন্ধন সংশোধনের আবেদন রয়েছে। সব মিলিয়ে নয় ইউনিয়নে দুই হাজারের বেশি আবেদন জমে আছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে তাঁদের জানানো হচ্ছে, আবেদনগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে কেউ চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও জন্মনিবন্ধন উদ্যোক্তাদের কাছে, আবার কেউ উপজেলা প্রশাসনের দপ্তরে গিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন।
বারহাল ইউনিয়নের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী তিনি। তাঁর ছেলের এসএসসি নিবন্ধনের প্রয়োজন হওয়ায় জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধনের আবেদন করেন। দীর্ঘদিনেও সংশোধিত জন্মনিবন্ধন না পাওয়ায় ছেলের শিক্ষাজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
কসকনকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মুজিবুর রহমানের ছেলে সৌদি আরবে প্রবাসী। মুজিবুর রহমান বলেন, ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টে কোনো সমস্যা নেই। তবে জন্মনিবন্ধনে একটি অক্ষরের ভুল রয়েছে। সেটি সংশোধন না হলে আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো সম্ভব হবে না। এতে ছেলের সৌদি আরবের ভিসা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সুলতানপুর ইউনিয়নের সৌদি আরবপ্রবাসী সাহেদ আহমদও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধন না হওয়ায় তাঁকে দেশে ফিরে আসার কথা ভাবতে হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পরও সংশোধন হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, জন্মনিবন্ধনের তথ্য অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির সময় যে ভুল হয়েছে, তার দায় সাধারণ মানুষকে কেন বহন করতে হবে?
ভুক্তভোগীদের দাবি, জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের তথ্যের সামঞ্জস্য না থাকায় বিভিন্ন সরকারি ও বিদেশসংক্রান্ত কাজে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সংশোধন না হওয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যও সংশোধন করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও চাকরিপ্রার্থীরা আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অনুসন্ধানে জন্মনিবন্ধনের তথ্যে নানা ধরনের অসঙ্গতিরও তথ্য পাওয়া গেছে। কোথাও মায়ের চেয়ে মেয়ের বয়স বেশি, কোথাও সন্তানের বয়স বাবার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্তানের বয়স অনুযায়ী সে বয়স্ক ভাতার যোগ্য হলেও মায়ের বয়স এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছেনি। পুরোনো এসব ভুল ও অসঙ্গতি সংশোধন করতে গিয়ে জটিলতায় পড়ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
একাধিক ইউপি চেয়ারম্যানের অভিযোগ, জন্মনিবন্ধন সংশোধনের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে, তা প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের এফিডেভিট, ৫০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা, চেয়ারম্যানের ইংরেজি প্রত্যয়ন এবং গেজেটেড কর্মকর্তার মাধ্যমে সত্যায়নের মতো কাগজপত্রের প্রয়োজন হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
চেয়ারম্যানদের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে জন্মনিবন্ধন নিয়ে প্রতিদিনই তাঁদের সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইউপি সদস্য ও জন্মনিবন্ধন উদ্যোক্তাদেরও অভিযোগ, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সংশোধনের আবেদন নিয়ে তাঁদের কাছে আসছেন। কিন্তু অনুমোদন ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তাঁদের ক্ষমতা সীমিত থাকায় তাঁরা কার্যকরভাবে সহযোগিতা করতে পারছেন না। ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট ও সহজ প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভুল সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হলে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ্র বলেন, এসব জন্মনিবন্ধনের আবেদন তাঁর যোগদানের আগ থেকেই আটকে আছে। প্রতিদিন বিভিন্ন আবেদন ও সুপারিশ আসায় অনেক সময় নতুন আবেদন আগে নিষ্পত্তি করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।’ অনেক আবেদনের ক্ষেত্রে কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণের মধ্যে অমিল রয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নিয়মিত জন্মনিবন্ধনের আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও জন্মনিবন্ধন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের অনেক আবেদন এখনো ইউএনওর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ কারণে তাঁদেরও নিয়মিত সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ও ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধনের সময় যে ভুলগুলো হয়েছে, সেগুলোর দায় সাধারণ মানুষ কেন বহন করবেন? দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত ভুল সংশোধনে সহজ, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
1 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা তাঁতী দলের কমিটিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী সোহেল রানার নাম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আসায় স্থানীয়
7 জকিগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার নয় ইউনিয়নে জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও সংশ্লিষ্ট কাজে দুই হাজারের বেশি আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে
4 সিলেটের বিশ্বনাথে প্রবাসীকে পৈতৃক ভিটাছাড়া করতে একটি সংঘবদ্ধ ভূমিখেকো ও মামলাবাজ ও সিটিংবাজ চক্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির
6 দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি (২৩তম) নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 7 বৃহস্পতিবার (২০
5 শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, সুপ্ত প্রতিভা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে বিকশিত করার লক্ষ্যে সিলেটের স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য
3 সিলেট ও সুনামগঞ্জ নৌপথে বাল্কহেড শ্রমিকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, বেপরোয়া চাঁদাবাজি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনের পরও পরিস্থিতির
5 সিলেট মহানগর এলাকায় রেকার ও অকশনের গাড়ি ব্যবস্থাপনা ঘিরে আগের অভিযোগের পর এবার নতুন করে আরও গুরুতর প্রশ্ন ও
3 একই দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে বহাল তবিয়তে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং সিন্ডিকেট গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে