editor
প্রকাশিত: 11:11 AM, September 20, 2026
আল-আমিন মিয়া:
খেলার মাঠে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতিতে ফুঁসে উঠেছেন সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ, স্থানীয় অভিভাবক, শিশু-কিশোর ও ব্যবসায়ীরা। নগরীর শাহী ঈদগাহ খেলার মাঠে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ‘সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শনী, শিল্প ও বাণিজ্য মেলা’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। মেলার কারণে প্রায় এক মাস মাঠে খেলাধুলা বন্ধ থাকবে এমন আশঙ্কায় ‘খেলার মাঠে মেলা নয়’ দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের অভিযোগ, নগরীতে খেলার মাঠের সংখ্যা এমনিতেই সীমিত। এর মধ্যে বিদ্যমান মাঠে মেলার আয়োজন শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ সংকুচিত করছে। শুধু তা-ই নয়, মেলা শেষে মাঠের অবস্থা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে মেলা শেষ হলেও মাঠে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা ফিরতে সময় লাগে।
স্থানীয়দের দাবি, খেলাধুলার মাঠকে বাণিজ্যিক আয়োজনের জন্য দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হোক। শাহী ঈদগাহ মাঠে প্রতিদিন বিকেলে ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর ও তরুণরা। তবে মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় ইতোমধ্যে মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফ আহমদ দৈনিক সিলেটের সংবাদ-কে বলে, বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিদিন বিকেলে এই মাঠে ফুটবল খেলতাম। এখন মেলার প্রস্তুতি চলছে, তাই খেলাধুলা বন্ধ। আগের মেলা শেষ হওয়ার পরও মাঠের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। তখন খেলতে পারিনি। খেলার জায়গা নেই, তাই এখন বাসায় মোবাইলে গেম খেলি।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিজানুর বলেন, এই মাঠটা অনেক বড়। এখানে খেলতে ভালো লাগে। এখন মাঠজুড়ে মেলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা কোথায় খেলব?
স্থানীয় অভিভাবক রেজওয়ান আহমদ বলেন, বিকেলে ছেলেমেয়েদের মাঠে খেলতে দেখতাম। মেলার কারণে তারা এখন খেলতে আসতে পারছে না। নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব রেজাউল করিম নাচন বলেন, খেলার মাঠে মেলার আয়োজনের কোনো কারণ দেখি না। সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি মেলার আয়োজন করে ক্রীড়ামোদী মানুষকে খেলাধুলার চর্চা থেকে বঞ্চিত রাখছে। তিনি আরও বলেন, খেলার মাঠ খেলাধুলার জন্যই ব্যবহার করা উচিত। মেলার জন্য মাঠ বন্ধ থাকলে শিশু-কিশোর ও তরুণদের নিয়মিত অনুশীলন ব্যাহত হয়।
সুরমা বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য এই মাঠটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেলার কারণে মাঠ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তাদের খেলাধুলার সুযোগ নষ্ট হয়। মেলা আয়োজনের জন্য বিকল্প জায়গা বেছে নেওয়া প্রয়োজন।
খেলার মাঠে মেলা আয়োজনের পাশাপাশি মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকট ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে মেলা আয়োজনকে স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। গত বুধবার রাতে নগরীর বারুতখানার একটি রেস্তোরাঁয় জরুরি বৈঠক করে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখা ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদ। জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চড়া দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন এবং বিদ্যুৎ বিল দিতে গিয়ে যেখানে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে একের পর এক অস্থায়ী মেলা আয়োজন স্থানীয় বাণিজ্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আজ রবিবার জেলা প্রশাসক ও এসএমপি কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। তিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করা হলে ধর্মঘটের মতো কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। একই সাথে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের এই দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, সারা বছর কর ও ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা চালানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এ ধরনের মেলার কারণে অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এছাড়া বিদ্যুৎ ঘাটতির এই সময়ে এমন মেলা জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ ফেলবে। সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ মন্তব্য করেন, পৃথক পৃথক মেলার সিদ্ধান্ত পরিহার করে সিলেট চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বার ও উইমেন চেম্বার মিলে বছরে যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করাই নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘শিল্প ও বাণিজ্য মেলা’ নামে আয়োজন করা হলেও এসব মেলায় প্রকৃত শিল্পপণ্য প্রদর্শনের চেয়ে বাণিজ্যিক পণ্যের বিক্রিই বেশি গুরুত্ব পায়। তাঁদের দাবি, অনেক সময় নিম্নমানের পণ্য, সার্কাস ও যাত্রার আয়োজন থাকে। এ ছাড়া মেলা চলাকালে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনারও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারের নামে কেন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ খেলার মাঠকে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করতে হবে? এদিকে গত ৬ মে ২০২৬ জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সেশন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মেলার জন্য কোনো খেলার মাঠ বরাদ্দ না দিতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সারা দেশের জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়াম ও সুইমিং কমপ্লেক্সগুলো সংস্কার করে সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংস্কারের পর স্টেডিয়াম বা মাঠে মেলা বসতে দেওয়া হবে না। এই নির্দেশনার পরও শাহী ঈদগাহ মাঠে মাসব্যাপী মেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ায় স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গন ও বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উইমেন চেম্বারের আবেদনের ভিত্তিতে বিধিমোতাবেক মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে মেলা বন্ধ বা স্থানীয়দের অসন্তোষ নিয়ে তাঁর দপ্তরে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লুবাবা ইয়াসমিন সম্পা জানান, নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেই এই মেলার আয়োজন। নিয়ম মেনেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং কাউকেই মেলার ইজারা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরো জানান, আগামী ১০ অক্টোবর মেলার উদ্বোধনের প্রস্তুতি রয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের মেলা আয়োজনের চিঠি দিলে আমরা মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি।
তবে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ ও অভিভাবকদের বক্তব্য, মেলা শেষে মাঠে খেলাধুলা চালু করার আশ্বাস যথেষ্ট নয়। তাঁদের দাবি, শিশু-কিশোরদের নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে খেলার মাঠে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয়দের একটাই দাবি খেলার মাঠে মেলা নয়, খেলাধুলার জন্য মাঠ উন্মুক্ত রাখতে হবে।
6 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সিলেট জেলা শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোহাম্মদ মকসুদ আহমদকে সভাপতি এবং আব্দুস সালাম
7 জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস)-এর সিলেট জেলা শাখার নতুন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কৃতিসন্তান, বিশিষ্ট
2 সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার ঘোষগাঁও এলাকায় ‘সাজনা গ্যাং’-এর বেপরোয়া অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদকের অবাধ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
8 সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তে আলোচিত ‘লাইনম্যান’ শ্যাম কালা ওরফে শামসুদ্দিন কালাকে ঘিরে চোরাচালান ও চাঁদাবাজির অভিযোগের পর এবার তার রাজনৈতিক
2 সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সুরমা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী
3 আল-আমিন মিয়া: 6 খেলার মাঠে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের প্রস্তুতিতে ফুঁসে উঠেছেন সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ, স্থানীয় অভিভাবক, শিশু-কিশোর ও ব্যবসায়ীরা।
8 আব্দুর রহমান: সিলেট নগরীতে তৃতীয় লিঙ্গের কয়েকজন মানুষের টাকা আদায়ের ধরন নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়ছেন সাধারণ পথচারী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে
1 সিলেট সদর উপজেলার শাহপরাণ থানাধীন বালুচর বাজার সংলগ্ন ১৬/১ মাস্টার বাড়ি প্রাইমারি স্কুলের পাশে লিলির বাসা নামে একটি ভাড়া