editor
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২৪
মোঃ সামছুল ইসলাম, জুড়ী (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে সবুজ মাল্টা চাষ। ফলন ভালো হওয়ায় চাষীরা ঝুঁকছেন এই ফল চাষে। যদিও একসময় জুড়ীতে লেবু জাতীয় ফসল উৎপাদনে এগিয়েছিল কমলা। এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি অনেকেই এখন ব্যক্তি উদ্যোগে চাষ করছেন মাল্টা। প্রতিবছর বাড়ছে মাল্টা বাগানের সংখ্যা।
তেমনি একটি বাগান গড়ে তুলেছেন জাবের আহমদ। তার বাগানে ১২ শতাধিক মাল্টা গাছ রয়েছে। মাল্টার পাশাপাশি কিছু অংশে গড়ে তুলেছেন কমলার বাগান। ৩ বছর আগে কৃষি বিভাগের পরামর্শে সাড়ে ৩ একর জায়গার উপর এই বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি।
কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, মাল্টা দেখতে সবুজ হলেও খেতে অত্যন্ত সু-স্বাদু ও মিষ্টি। বারি-১ জাতের এই মাল্টার উৎপাদন বাড়ছে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলাতে। সম্ভাবনাময় এই ফসল চাষাবাদে তুলনামূলক খরচ কম থাকায় সহজে ফলন হয়। সে জন্য কৃষকরা ঝুঁকছেন এখন মাল্টা চাষে। জুড়ী কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জুড়ী উপজেলায় ২৪ হেক্টর জমিতে মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। গত বছর যা ছিল ২১ হেক্টর। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নে কম বেশি হচ্ছে মাল্টার আবাদ। রয়েছে ছোট বড় শতাধিক বাগান। জুড়ী উপজেলার পূর্বজুড়ী, ফুলতলা, সাগরনাল ও গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে এর ফলন হচ্ছে বেশি। কেউ করেছেন সখের বসে চাষাবাদ আবার কেউ কেউ বাণিজ্যিক চিন্তাধারা নিয়ে।
এবছর জুড়ীতে মাল্টা উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ৭৭ টন। সরজমিনে পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বিনন্দপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে বড় বড় দুটি টিলায় প্রায় ১২ শতাধিক মাল্টার গাছ দিয়ে করেছেন বিশাল বাগান। মাত্র ৩ বছর পূর্বে প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে মাল্টা চাষ শুরু করেন জাবের আহমদ। গাছ রোপণের পরের বছর থেকে ফল পাওয়া শুরু হয়। গতবছর থেকে তিনি এই বাগান থেকে মাল্টা বিক্রি করছেন। মাল্টার পাশাপাশি তার রয়েছে কমলা ও জাড়ালেবু। পাশের জমিতে রয়েছে মাছের ঘের, হাঁস-মুরগি ও গরু ছাগলের খামারও। কিছুটা সরকারি হলেও বাকি সম্পূর্ণ করেছেন ব্যক্তিগত উদ্যোগে করেছেন তিনি।
বাগানের নিয়মিত পরিচর্চা করা রমিজ আলী বলেন, এবছর ফলন অনেক ভালো হয়েছে। গাছের চেয়ে ফল বেশি হওয়ায় ফুল থাকতেই মেডিসিন দিয়ে ঝরানো হয়েছে। অতিরিক্ত ফল হলে গাছ দূর্বল হয়ে যায়। তাই কৃষি অফিসারের পরামর্শে এই কাজ করা হয়। আগামী বছর থেকে গাছে যে ফল আসবে সবগুলো রাখা যাবে। তিনি বলেন, বাজারে যে মাল্টা পাওয়া যায় তার চেয়ে এই ফলগুলো বেশি মিষ্টি। সাইজেও এই মাল্টাগুলো বড় হয়। কেজিতে ৬ থেকে ৭টি মাল্টায় ধরে। বাজারে মাল্টার কেজি বিক্রি হয় ৩শত থেকে সাড়ে ৩শত টাকায়। আর আমরা পাইকারী বিক্রি করি ২শত টাকা করে।
মাল্টা বাগানের মালিক জাবের আহমদ বলেন, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সুরঞ্জিত ধর রনির পরামর্শে আমি মাল্টা বাগান শুরু করি। সরকার থেকে সার সহ সকল ধরণের সহযোগীতা পেয়েছি। কৃষি অফিসের কর্মকর্তাগণ নিয়মিত বাগান দেখেেন এবং পরামর্শ দেন। এবছর ফলন ভালো হয়েছে। গাছ ছোট থাকায় ভারসাম্য রক্ষার জন্য কিছু গাছের মাল্টা আমরা গাছ থেকে ছাটাই করেছি কৃষি অফিসারের পরামের্শে। আশাকরি আগামী বছর আমাদের মাল্টার বাম্পার ফলন হবে।তিনি বলেন, আমাদের বাগানে সরকার থেকে প্রদর্শনীসহ নিজ খরছে ১২০০শত মাল্টা গাছ, ৪শত কমলা গাছ সহ লেবু জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ লাগানো হয়েছে।
নিজ বাগান থেকে মাল্টা হারভেস্ট করছেন তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক খোর্শেদ আলম
উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লাঠিটিলার ডোমাবাড়ি গ্রামের খোর্শেদ আলম ৩ বছর আগে ১০ শতক জায়গার উপর গড়ে তুলেন মাল্টা বাগান। গত বছর ফল আসলেও তেমন ভালো হয়নি। বিগত বছরের তুলনায় এবছর প্রত্যেক গাছে বারি-১ জাতের মাল্টায় স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ফলন ভালো হওয়ায় নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন এসব মাল্টা। সুস্বাদু এই মাল্টার প্রতি আগ্রহ মানুষের। যার জন্য বিক্রি হয়ে যাচ্ছে খুব সহজেই। খোর্শেদ আলম জানান, সরকারি ভাবে জুড়ী উপজেলা থেকে ১০ শতাংশ যায়গায় ৩০ টি গাছের একটি প্রদর্শনী পান তিনি। গাছের বয়স এখন চার বছর হয়েছে। এই বছর প্রতিটি গাছে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০টি করে ফল এসেছে। ছোট ছোট গাছের ফল দেখে অনেকের উৎসাহ বেড়েছে মাল্টার প্রতি। কেউ কেউ উদ্যোগ নিয়েছেন আগামীতে মাল্টা চাষে মনযোগ দিবেন।
জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, লেবু জাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে মাল্টা চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। শুকনো মৌসুমে মাল্টার উৎপাদন বাড়াতে গাছের পরিচর্চায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে। এই প্রযুক্তিতে পানি ও সার একসাথে দেওয়া যাবে ড্রিপ ইরিগেশনের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, যারা মাল্টা চাষ করেছে তাদের ফলন ভালো হয়েছে। এবছর নতুন মাল্টা চাষী আরো ৪৫ জন বেড়েছেন। অফিস থেকে প্রদর্শনী প্রাপ্ত কৃষকদের ৬ রকমের সার, কীটনাশক, ছত্রাক নাশক, সিকেচার, স্প্রে মেশিন এবং মাটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও শুকনো মৌসুমের জন্য মালচিং পেপার বিতরণ করা হয়েছে।
1 ওসমানীনগর প্রতিনিধি: 6 ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সম্ভাব্য মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও নারী নেত্রী আফিজা বেগম সাধারণ মানুষের কল্যাণে
7 স্টাফ রিপোর্টার: কোরবানির ঈদের বর্জ্য এবং ময়লা সময়মতো অপসারণ না করে রাস্তায় ফেলে রাখার দায়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ
6 মো.জুনেদ আহমদ, ফ্রান্স: 2 নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস এবং নারী-পুরুষের সমতা ও বৈষম্যবিরোধী ফরাসি মন্ত্রী মিস অরোরা বের্গে
2 ইকবাল বাহার, কানাইঘাট: 4 থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য ৩৬তম ‘ওয়ার্ল্ড স্কুল সামিট’-এ ‘বেস্ট এডুকেটর অব দ্য ইয়ার’বা ‘বর্ষসেরা শিক্ষক’পুরস্কার পেতে
5 বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন,কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও
5 ডেস্ক রিপোর্ট শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আজ আকস্মিকভাবে ঢাকার আমিন বাজারে চামড়া বিক্রয় কেন্দ্র
1 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে
5 পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শাল্লা উপজেলাবাসী তথা মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন শাল্লা উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ