admin
প্রকাশিত: 11:57 AM, August 28, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:
উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে রাত্রি নামে, আর তখনই যেন খুলে যায় চোরাচালানের অপেন দুয়ার! স্থানীয়দের ভাষায়, উত্তর সিলেটের শীর্ষ বুঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগী মর্তুজ আলী মেম্বারের চোরাচালানের নানা অভিযোগ ও গুঞ্জনে আলোচনায় এসেছে বিছনাকান্দি টু সালুটিকর সড়ক। অভিযোগ রয়েছে, এই সড়কটি এখন চোরাচালানের অন্যতম নিরাপদ রোড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন জেলা ডিবির কথিত ‘লাইনম্যান হিসেবে পরিচিত’ ও উত্তর সিলেটের আলোচিত বোঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লা,এমন দাবি স্থানীয় একাধিক সূত্রের।স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, একাধিকবার বোঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লার চোরাচালান পণ্য আটকের পর এবার জেলা ডিবির ‘লাইনম্যান’-এর পরিচয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি । জেলা ডিবির ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত বোঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লা প্রতিমাসে ৫ লাখ টাকার সুনির্দিষ্ট চুক্তির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ৫ লক্ষ টাকার চুক্তিতে জেলা ডিবির কথিত লাইনম্যান বোঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মর্তুজ আলী, বিছনাকান্দি সীমান্তে লুটপাটের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। নজরুল মোল্লা দেখতে দরবেশ বাবার মতো মনে হলেও স্থানীয়দের অভিযোগে গোয়াইনঘাট থানার কথিত শীর্ষ বোঙ্গাড়ি হিসেবে আলোচনায় রয়েছে তার নাম। তার সাথে নতুন করে যোগ হয়েছেন বিএনপি নেতা মর্তুজ আলী, শুধু তাই নয়, নজরুল মোল্লার বিরুদ্ধে একাধিক চোরাচালানের মামলাও রয়েছে বলে জানাগেছে । সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে সিলেট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) দায়ের করা প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিনি চোরাচালান মামলায় এজাহারনামীয় ৫নং আসামি ছিলেন বুঙ্গাড়ি নজরুল মোল্লা। যার নং জিআর ১৫১, সাল ২০২৩। পরে মামলাটির তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় বলে জানা গেছে। তার বিরোদ্ধে আরো একাধিক চোরাচালান মামলা রয়েছে যা অধিকতর তদন্তে পাওয়া যাবে। উত্তর সিলেটের সীমান্তের এ কাহিনি যেন পুরোনো দিনের ‘গুপ্ত কারবারের’ আধুনিক রূপ—পথ চেনা, লোক চেনা, পাহারা চেনা; অতঃপর রাতের আঁধারে পণ্য পারাপার! অনুসন্ধানে জানা যায়, বিছনাকান্দি সীমান্তে রাত হলে ভারতীয় চোরাচালানের কথিত নিরাপদ রোড হিসেবে বঙ্গবীর পয়েন্ট ও সোনার বাংলা, সালুটিকর চেকপোস্ট দিয়ে পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে অবাধে ভারতীয় পণ্য ঢুকছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। এ কারবারের মূল হোতা হিসেবে নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগী বিএনপি নেতা মর্তুজ আলী মেম্বারসহ কয়েকজন সহযোগীর নাম স্থানীয় সূত্রে উঠে এসেছে। তারা নিজেদের মন্ত্রী আরিফুল হকের কাছের লোক দাবি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সালুটিকর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সরওয়ারের নামও শুনা যাচ্ছে । অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রতিদিন কথিত ‘বুঙ্গার’ গাড়ি শহরে পৌঁছে দেন। তাছাড়া এর একটি বড় অংশ প্রতিদিন গোয়াইনঘাট থানার ওসির পকেটেও যায় বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। এছাড়া নজরুল মোল্লা বুঙ্গার ব্যবসা পরিচালনাসহ জেলা ডিবি পুলিশের নামে মাসিক ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা চুক্তিতে ‘লাইনম্যান’ হিসেবে কাজ করেন বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, বিছনাকান্দি সীমান্তে মানব পাচার, মাদক, চিনি, জিরা, রসুন, কসমেটিক, মোটরসাইকেল এসবের একক নিয়ন্ত্রণ নজরুল মোল্লা ও তার সহযোগী মর্তুজার হাতে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে তারা জেলা ডিবি পুলিশের নাম ভাঙিয়ে দৈনিক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের কথায়, “নাম যদি হয় বাহিনীর, আর কারবার যদি চলে নিজের—তবে সে কারবারের হিসাব কই?” অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিবির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, জুয়াড়িচক্র এবং অবৈধ চোরাকারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন এই নজরুল মোল্লা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আড়ালে থেকে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। নেপথ্যের এই কথিত ‘লাইনম্যান’ প্রশ্ন উঠছে—কার ছত্রছায়ায়, কার ইশারায় এবং কোন অদৃশ্য মদতে উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে এমন কারবার চলতে পারে?আর এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবাধে চলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক ও অবৈধ কার্যক্রম—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা এই চক্রের কাছে জিম্মি থাকলেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। সীমান্তের ভাষায় কথিত আছে“পথ যদি নিরাপদ হয়, কারবারি পথ ছাড়ে না।” সেই কথিত নিরাপদ পথেরই যেন প্রতিচ্ছবি বিছনাকান্দি টু সালুটিকর সড়ক—এমন অভিযোগ সচেতন মহলের।এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এই ধরনের দালাল ও ‘লাইনম্যান’দের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে ডিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হবে।তবে বিছনাকান্দি সীমান্ত থেকে সালুটিকর পর্যন্ত কথিত চোরাচালান রুট, মাসিক চুক্তির অভিযোগ, ডিবির নাম ব্যবহার করে মাসোহারা আদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এসব অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সময়ের দাবি।
এ ব্যাপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
6 মধ্যনগর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও ধর্মপাশা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাদশাগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসটি এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ
2 স্টাফ রিপোর্টার: উত্তর সিলেটের সীমান্তপথে রাত্রি নামে, আর তখনই যেন খুলে যায় চোরাচালানের অপেন দুয়ার! স্থানীয়দের ভাষায়, উত্তর সিলেটের
3 শিপন আহমদ: সাধারণ পোশাক পরা একজন পুরুষ, যার পরিবারে স্ত্রী-সন্তান রয়েছে—তিনিই আবার মুহূর্তে শাড়ি ও মুখে মাস্ক পরে রূপ
1 স্টাফ রিপোর্টার: তিন বছর আগে ঘোষণা করা হয়েছিল নিউইয়র্ক উত্তর, নিউইয়র্ক দক্ষিণ ও নিউইয়র্ক ইস্ট বিএনপির তিনটি আংশিক কমিটি।
8 স্টাফ রিপোর্টার: সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় বিভিন্ন অবৈধ পণ্য প্রবেশ ও চোরাচালানকে কেন্দ্র করে ‘সারুক’ নামে এক ব্যক্তির
4 স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেটে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কার্যক্রম পুনর্গঠন ও অপতৎপরতার নেপথ্যে উঠে এসেছে সাবেক
8 স্টাফ রিপোর্টার: রেলওয়ের টিকিট বুকিং সার্ভারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এক বিশাল টিকিট কালোবাজারির সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন সিলেট রেলওয়ে
6 সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ৮টার পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখলে এবং কোনো ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হলে তার