রাজনগরে বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলা-গুলি ।। উভয় পক্ষে সংঘর্ষ, নিহত ১

নিহত সাব্বির আহমদ (ফাইল ছবি)
রাজনগর প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগরে বিএনপির নির্বাচনী মিছিলে আওয়ামী লীগের একদল নেতাকর্মী স্ব-সস্ত্র হামলা ও গুলি চালিয়েছে। এতে উভয় পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৪জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১০জন আহত হয়েছেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ পথচারী সাব্বির আহমদকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাব্বির আহমদ (৩২) রাজনগর উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের রফিক আহমদের পুত্র। ২৮ জুলাই সোমবার রাজনগর উপজেলা শহরে এ ঘটনাটি ঘটে। আওয়ামী লীগের সহযোগী সংঘঠন যুবলীগ নিহত সাব্বির আহমদকে তাদের দলীয় কর্মী দাবী করে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ১৫জনকে আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে।
জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলা শহরে ঘটনার দিন বেলা প্রায় ২টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক নির্বাচনী মিছিলের আয়োজন করে। এতে বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটি শহরের দক্ষিণবাজারস্থ প্রধান সড়কে আসতেই আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের নেতাকর্মীদের একটি স্বসস্ত্র দল অতর্কিত ভাবে বিএনপির মিছিলে হামলা চালায়। তারা হকিস্টিক, লাঠি দিয়ে মিছিলকারীদের বেদড়ক মারধর ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এতে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের এই ঘটনায় শহর জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দিকবেদিক দৌড়াদোড়ি ও ব্যবসায়ীরা দোকনপাঠ বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয় নিতে দেখা যায়। সংঘর্ষে ৪জন গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ১০জন আহত হন। সংঘর্ষ থামলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজন এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত অজ্ঞান অবস্থায় সাব্বির আহমদ নামের এক যুবককে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার থাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে রাজনগর থানা পুলিশ হাসপাতালে এসে প্রাথমিক ময়না তদন্ত শেষে মরদেহটি থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। নিহত সাব্বির আহমদ রাজনগর উপজেলার রায়শ্রী গ্রামের রফিক আহমদের পুত্র। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অপর ৩জন স্থানীয় যুবদলের কর্মী। তারা পুলিশী হয়রানী এড়াতে নাম প্রকাশ করছে না এবং গোপনে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে নিহত সাব্বির আহমদকে নিজেদের দলীয় কর্মী বলে দাবী করেছে রাজনগর উপজেলা যুবলীগ। রাজনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বদর উদ্দিন বাদী হয়ে সংঘর্ষে দলীয় কর্মী সাব্বির আহমদ নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠন যুবদলের ১৫জনকে আসামী করে রাজনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং ০৩, তারিখ ২৮/৭/২০০৮ইং।
মামলার আসামীরা হলেন, রাজনগর উপজেলার করিমপুর গ্রামের আব্দুল হাই এর পুত্র মামুন রশিদ (৪৫), দাসপাড়া গ্রামের আব্দুল খালিকের পুত্র মুর্শেদ আলম বাবর (৩৫), উতাইসাহ গ্রামের আব্দুস শহিদের পুত্র আব্দুল হক (২৬), ক্ষেমসহস্র গ্রামের মোহাম্মদ ওয়াসিদ মিয়া এর পুত্র মোহাম্মদ আজমল মিয়া (১৯), দাসপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ উস্থার আলীর পুত্র মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (২১), করিমপুর গ্রামের আব্দুল হাসিব এর পুত্র সজল আহমদ (৩৫), রাজনগর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পুত্র রফিক হোসেন (৪২), মেদেনীমহল গ্রামের আব্দুর নুর এর পুত্র আখতার হোসেন অনিক (৩৮), রায়শ্রী গ্রামের মৃত মুদারিছ আলীর পুত্র সোহাগ আহমদ (৪৮), ভাবানীপুর গ্রামের মনজ্জির আলীর পুত্র ফয়ছল আহমদ (৫৫), করিমপুর গ্রামের মৃত জমির আলীর পুত্র ময়নুল ইসলাম (৪৩), মেদেনীমহল গ্রামের মশাহিদ আলীর পুত্র মস্তাক আহমদ (৫০), ভবানীপুর গ্রামের ফয়জুল ইসলামের পুত্র হাসিম আহমদ (২৯), উতাইসাহ গ্রামের মৃত আব্দুস সত্তার এর পুত্র ফরিদ উদ্দিন (৩৮) ও দাসপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গণির পুত্র আবুল হাসান (৫১)।
এ বিষয়ে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তির লাশ ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করতে তৎপর রয়েছে। আইনের হাত থেকে কোন আসামী রেহাই পাবে না।
Sharing is caring!